প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রস্তুত নির্বাচনী মালামাল

বাংলাদেশ প্রতিদিন : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যবহারের জন্য স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সসহ সব ধরনের মালামাল প্রস্তুত রয়েছে নির্বাচন কমিশনে (ইসি)। তফসিল ঘোষণার আগের সব কাজও শেষ হয়েছে। এখন অপেক্ষা শুধু তফসিল ঘোষণার। আশা করা হচ্ছে, রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে ১ নভেম্বর সাক্ষাৎ করেই যে কোনো দিন সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে ইসি।

ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, নির্বাচনে ব্যবহারের জন্য স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স, সিল, প্যাড, অমোচনীয় কালি, সুই-সুতা, বিভিন্ন ধরনের খাম, মোমবাতিসহ সব ধরনের সামগ্রী কমিশনের কাছে প্রস্তুত রয়েছে। এখন এসব মালামাল খাতওয়ারি গোছানো ও যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। ২৫ অক্টোবরের মধ্যে তাও শেষ হবে। আর তফসিল ঘোষণার আগের মালামাল মাঠপর্যায়ে পাঠানো হবে। এ জন্য কমিশন একটি টাইম ফ্রেমও নির্ধারণ করেছে। তবে তফসিল ঘোষণার পর প্রার্থিতা চূড়ান্ত হলেই কেবল ব্যালট পেপার ছাপানোর কাজ করবে কমিশন। এ ছাড়া সংসদ নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের বিষয়ে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন হলে ২৫-৩০ অক্টোবরের মধ্যে ইভিএম ব্যবহার পাইলটিং করার বিষয়ে কমিশনের প্রস্তাব উপস্থাপন করবে ইসি সচিবালয়। এরপর ইভিএম ব্যবহারের উপযোগী করা, প্রচারণা, ইভিএমে মকভোটিং করারও পরিকল্পনা রয়েছে ইসির।

ইসির কর্মকর্তারা বলেছেন, নভেম্বরের শুরুতে তফসিল ঘোষণার জন্য ৩০ অক্টোবরের মধ্যে মাঠপর্যায়ে মনোনয়নপত্র দাখিল ফরম, ভোটার তালিকার সিডিসহ সব ধরনের সামগ্রী-ম্যানুয়েল রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হবে। ডিসেম্বরের মধ্যে ভোট করতে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই সবকিছু প্রস্তুত রাখা হচ্ছে, যাতে তফসিল ঘোষণার পরপরই প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র ফরম সংগ্রহ করতে পারেন। নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত ম্যানুয়েলও ৫ নভেম্বরের মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হবে। ভোট গ্রহণ কর্মকর্তার প্যানেল প্রস্তুত করে ৮ নভেম্বরের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে পাঠানোর জন্য মাঠ কর্মকর্তাদের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ভোটের সার্বিক অবস্থা নিয়ে আগামী ৩১ অক্টোবর আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক করবে কমিশন।

ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার যুগ্ম-সচিব ফরহাদ আহাম্মদ খান গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘নির্বাচনী মালামাল সব আমাদের হাতে এসেছে। তফসিল ঘোষণার আগে ২২টি খাতে ১০৩টি কাজ সাজানো হয়েছে, যাতে করে তফসিল ঘোষণার পরই সব কাজ দ্রুততম সময়ে করা সম্ভব হয়। নির্ধারিত সময়ের এসব কাজের অধিকাংশই সম্পন্ন হয়েছে।’ এ কর্মকর্তা জানান, তফসিল ঘোষণার পর ৯৯টি কাজ নিয়ে ‘কর্মপরিকল্পনা ও বাস্তবায়নসূচি’ রাখা হয়েছে। কমিশনের সিদ্ধান্ত পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা প্রস্তুত রাখা হবে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।

তফসিলের পরের কাজ : নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয় শাখার কর্মকর্তারা জানান, তফসিল ঘোষণার পর কর্মকর্তা নিয়োগ, মন্ত্রিপরিষদসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা, রিটার্নিং কর্মকর্তার জন্য পরিপত্র জারি, আচরণবিধি প্রতিপালন, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ, নির্বাচনী তদন্ত কমিটি গঠন, নির্বাহী ও বিচারিক হাকিম নিয়োগে ব্যবস্থা, ভোটকেন্দ্রের গেজেট প্রকাশ, সাংবাদিক-পর্যবেক্ষকদের অনুমতি, মাঠপর্যায়ে ব্যালট পেপারসহ সামগ্রী বিতরণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে বৈঠক থাকবে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা পাওয়ার পর ব্যালট পেপার মুদ্রণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা, রিটার্নিং কর্মকর্তা, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে সভা এবং আইনশৃঙ্খলা প্রধানদের সঙ্গে ‘বিশেষ পর্যালোচনা বৈঠক’ কমিশন নির্ধারণ করবে।

দ্বিতীয় দফা বৈঠক করে সেনাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের ‘টাইম ফ্রেম’ নির্ধারণ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের জন্য সেনাবাহিনী নিয়োগের সিদ্ধান্ত হলে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগকে অনুরোধ করবে ইসি। সিইসি কে এম নূরুল হুদা ইতিমধ্যে বলেছেন, ‘আগেও সেনা মোতায়েন হয়েছে। এবারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি; সেনা মোতায়েন হবে কিংবা সেনা মোতায়েন হবে না—এমন সিদ্ধান্ত এখনই বলা যাবে না। ভোটের আগে পরিস্থিতি বুঝে আমরা সিদ্ধান্ত জানাব। দশম সংসদ নির্বাচনের সময় সেনাবাহিনীর সদস্যরা মাঠে ছিলেন ১৫ দিন।’

২২ খাতে ১০৩ কাজ : ২৫ অক্টোবর নির্বাচনে ব্যবহৃত সব ফরম, প্যাকেট মুদ্রণ সম্পন্ন; ব্যালট বাক্স, লকসহ নির্বাচন দ্রব্যাদির মজুদ পরীক্ষা করে জেলা নির্বাচন অফিসারদের জানানো; ৩০ অক্টোবরের মধ্যে ৩০০ নির্বাচনী এলাকার জিআইএস প্রস্তুত ও মানচিত্রসহ পুস্তিকা প্রস্তুত করে রাখা হবে। এ ছাড়া প্রার্থীদের জন্য মনোনয়নপত্রের সঙ্গে নির্বাচনী এলাকাভিত্তিক ছবি ছাড়া ভোটার তালিকার সিডি প্রস্তুত রয়েছে। সেই সঙ্গে ৩০ অক্টোবর মনোনয়নপত্র দাখিলসহ সংশ্লিষ্ট প্রাথমিক পর্যায়ের বিভিন্ন ফরম (ফরম-১, ফরম-২, ফরম-৩), প্যাকেটসহ অন্যান্য দ্রব্য মাঠপর্যায়ে প্রেরণ। নির্বাচনী দ্রব্য-স্ট্যাম্পপ্যাড, মার্কিং সিল, ব্রাশ সিল, অফিশিয়াল সিল, গালা প্রস্তুত রয়েছে। তবে ব্যালট পেপারের সঙ্গে তা মাঠপর্যায়ে পাঠানো হবে। ৩১ অক্টোবরের মধ্যে বিদেশি পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যমের জন্য হেল্পডেস্ক করতে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ; নিয়মিত সংবাদ অবলোকন করে কমিশনকে জানাতে টিম গঠন; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্রচারমাধ্যমে নির্বাচনী প্রচার নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সভা; সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের জন্য কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে সভা করারও পরিকল্পনা রয়েছে ইসির।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ