প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অতি আবেগী হয়ে উগ্রতা নয়

জুবাইয়া নওশিন : সাধারণত ভালো যে কোনো কাজে মানুষের প্রকাশ্য সঙ্গ বেশি পাওয়া যায়, যতটা না পাওয়া যায় খারাপ কাজে। তবে বর্তমানে ভিন্নধর্মী চর্চা চলছে। মানুষ প্রকাশ্যে এমন কিছু কাজ উৎফুল্ল হয়ে করে যাচ্ছে যেগুলোকে বিশ্লেষণ করলে খারাপের তালিকায় পড়ে যায়। খুব বেশি যদি ভুল না বলি তাহলে গুজবকে খারাপের কাতারে ফেলতেই পারি। একটু চিন্তা করে দেখুন তো, গুজবকে ভেঙে দেখলে দুটি অর্থপূর্ণ শব্দ পাওয়া যায়। একটা হলো গু (নোংরা অর্থে) আর অপরটি হলো জব (কাজ অর্থে)। গুজব মানে তাহলে দাঁড়ালো নোংরা কাজ।

কোনো বিষয় সম্পর্কে খুব কম ধারণা থেকে নিজের মনের মত করে যে কোনো ঘটনার বিশ্লেষণের ফলে একটা সাধারণ ঘটনাও গুজবে পরিণত হয়। আমরা সাধারণ মানুষেরা এমনিতেই একটা সমস্যায় ভুগি তা হলো, কারো থেকে কোনো কথা শুনে বা কোনো উড়ো খবর পেয়ে যাচাই বাছাই ছাড়াই মন্তব্য করি। আর অন্যদের কাছে নিজের ইচ্ছানুযায়ী উপস্থাপন করি। এতে করে একটি সুস্থ তথ্য ও অসুস্থ হয়ে পড়ে। জনসাধারণের মাঝে ভাইরাসের মত ছড়িয়ে পড়ে; সৃষ্টি হয় সামাজিক দ্বিধা-দ্বন্দ্বের। মানুষ বিষয়ের বিভিন্নতায় স্পর্শকাতর হয়ে থাকে। আর কিছু মানুষ নিজস্ব স্বার্থ চরিতার্থ করতে এই স্পর্শকাতরতাকে পুঁজি করে। কারো প্রতি গোপন ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে উস্কানিমূলক আচরণে লিপ্ত হয়ে ভোগাতে চায় অন্যদেরকে।

সেই ফাঁদে পা দিয়ে অজান্তে অনেকেই অসামাজিক কাজটাকে স্বীকৃতি দেয়; ডানা মেলে উড়তে সাহায্য করতে অন্যায় কে। বিষয়টি সম্পর্কে আরো ভালো ধারণা দিতে একটা উদাহরণ দেয়া যাক, দুই বন্ধু সমর ও রফিক কোনো একটা বিষয় নিয়ে হঠাৎ কথা কাটাকাটি করতে করতে মারামারি লাগিয়েছে। অন্য একটা বন্ধু রবিন তা দেখে বিষয় সম্পর্কে না জেনেই সবাইকে বলতে শুরু করলো ‘এক মালাউন আমাদের মুসলমান ভাইকে মারছে।’ এই শুনে মানুষজন ঝাঁপিয়ে পড়লো; সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টির মাধ্যমে মারামারি আরো মহামারি আকার ধারণ করলো। স্বাভাবিকভাবে চিন্তা করে দেখুন, রবিন যদি বলতো, সমর আর রফিক মারামারি করছে। তাহলে মানুষের অনুভূতিতে আঘাত হানতো না। বরং সবাই মিলে মারামারি ঠেকাতে ব্যস্ত হয়ে পড়তো।

সামান্য একটা মিথ্যা কথায় বিশ্বাসী হয়ে কত মানুষ যে কতো ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে তা বিগত অনেক ঘটনা থেকেই দেখা গেছে। প্রযুক্তির উন্নয়ন আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আধিপত্যের কারণে যাচাই বাছাই ছাড়াই মানুষ কোনো বিষয়ের প্রতি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ে; অন্যকেও তা বিশ্বাস করাতে বাধ্য করে। কেউ যদি সত্যটা প্রকাশে একাগ্র হয় বা গুজবের থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেয়, অতি আবেগী বাঙালীরা তখন তাকে কথার ফুলঝুরির মাধ্যমে বুলডোজারের মত পিশে হেনস্তা করে অবিরত। সাধারণ জনগণের কাছে সে হয়ে যায় ক্ষতিকর কীট। বিপর্যস্ত হয় সামাজিক অবস্থান, মানসিক পরিস্থিতি। প্রবাদে আছে, ইট মারলে পাটকেলটি খেতে হয়। যারা গুজব ছড়িয়েছে তারা কেউ কি শান্তিতে আছে? সাপ খুঁড়তে বেড়িয়ে গিয়েছে কেউটেও।

আবার আবেগের সাথে সায় দিয়ে বাছ-বিচার না করে অজান্তেই যে মানুষটা একটি শেয়ার দিয়েছে গুজবের পোস্ট, সেই অসহায় মানুষটিও পড়ে গেছে গুজব ছড়ানোদের কাতারে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আওতায় তাদের জন্য অপেক্ষা করছে শাস্তি। তাতে লাভ কি কারো হচ্ছে? তাই যে কোনো বিষয়ে আবেগকে বেশি প্রশ্রয় না দিয়ে বিবেককে জাগ্রত করা উচিত । দল-মত নির্বিশেষে সবার আগে এটা ভাবা উচিত যে কাজটা করতে যাচ্ছেন তা আদৌ কতটা ভালো আপনার জন্য; সমাজের প্রতিটি মানুষের জন্য। দেশটা আমার আপনার আমাদের সবার। দেশের প্রতিটি জনগণও তাই আমাদের পরম আত্মীয়। একজনকে ছোট করে, নিজে ভালো এটা প্রমাণ করা কখনোই সম্ভব না। দিনশেষে অপমানের সম্মুখীন হয় দেশ। তাই সকলের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এমন কিছু কাজ করা উচিত যাতে দেশটা গর্বের ভাগিদার হয়; লজ্জার না। লেখক : আবৃতি শিল্পী, বিতার্তিক। সম্পাদনা : রেজাউল আহসান

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ