প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

লামায় বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে ছোট ভাইয়ের যত অভিযোগ

মো. নুরুল করিম আরমান, লামা প্রতিনিধি: বান্দরবানের লামা উপজেলায় আপন বড় ভাই কর্তৃক ছোট ভাইকে প্রাণ নাশের হুমকি ও নানাভাবে হয়রানি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সোমবার দুপুরে বড় ভাই আকবর আলীর বিরুদ্ধে ছোট ভাই আবদুল আলী সাংবাদিকদের কাছে লিখিতভাবে এ অভিযোগ করেন। বড় ভাইয়ের মিথ্যা অভিযোগ, নানা হয়রানি থেকে রক্ষা ও নিরাপত্তায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন আবদুল আলী। আকবর আলী ও আবদুল আলী লামা সদর ইউনিয়নের নুনারঝিরি এলাকার বাসিন্দা মৃত মহব্বত আলীর ছেলে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ১৯৮০-৮১ সালে আবদুল আলীর বাবা মহব্বত আলী সরকার কর্তৃক উপজেলার ২৯৩নং ছাগল খাইয়া মৌজায় আর-৪১৩নং হোল্ডিং মূলে ৫ একর জায়গা বন্দোবস্তি পায়। তৎকালীন উপজেলায় ম্যালেরিয়া রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে মহব্বত আলী স্ব পরিবারে জন্মস্থান সিলেটে চলে যান। এ সুবাদে জনৈক আবদুল গফুর ও কেরামত আলী ওই জায়গা জবর দখল করে। পরে আবদুল আলী জবর দখলকারীদের হাত থেকে দুই একর জায়গা পুনরায় উদ্ধার করেন।

এছাড়া পাশের জনৈক ব্যক্তির ২২৬নং হোল্ডিং থেকে ২০শতক জমি কিনে ভোগ দখল করে আসছেন। এতে আবদুল আলীর বহু শ্রম, সময় ও অর্থ ব্যয় হলেও কোন ওয়ারিশ খরচ বহন বহন করেননি। এমনকি কোন ওয়ারিশগন জাযগা দাবী করবেনা মর্মে একটি নাদাবী নামাও দেন আবদুল আলীকে। এরপরও জায়গা ফরজ নামা মূলে সকল ওয়ারিশদের নামে বন্টন করে দেন আবদুল আলী। পরবর্তীতে বড় ভাই আকবর আলী জায়গা দাবি করলে তার প্রাপ্য অংশ বুঝিয়ে দেয়া হয়। এর আগে নগদ টাকার বিশেষ প্রয়োজন হলে মহব্বত আলী ৪ একর ৫০শতক জায়গা ছেলে আবদুল আলীর নিকট বিক্রি করে দেন।

বর্তমানে ওই জায়গার মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় ও লোভের বশিভূত হয়ে তার প্রাপ্য অংশ ছাড়াও অন্য ওয়ারিশদের জাযগাও জবর দখলের চেষ্টায় লিপ্ত হন আকবর আলী। এক পর্যায়ে আবদুল আলীর দখলীয় ও সৃজিত বাগানের গাছ কেটে নিয়ে যান এবং থানার মাধ্যমে জোর পূর্বক একটি অঙ্গিকার নামাও নেন তিনি। পরবর্তীতে আবদুল আলী এ ঘটনায় উপজেলা সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গত ২০ সেপ্টেম্বর একটি মামলা করেন। বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন আছে।

এদিকে কিছুদিন আগে আকবর আলী ওই জায়গার ওপর স্থীত পাহাড় কাটলে আবদুল আলী বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আবদুল আলীকে প্রাণ নাশের হুমকি দেন আকবর আলী ও তার লোকজন। শুধু তাই নয়, সম্প্রতি আকবর আলী এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদেরকে মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে বিভ্রান্তির চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেন আবদুল আলী।

আবদুল আলী আরও বলেন, আমার বড় ভাই আকবর আলী ২০০৮ সালের ৫ এপ্রিল বায়না নামা নং-৩৭৯/০৮ইং মূলে স্থানীয় রহিমা খাতুনের মৃত বাবা বাহেজ আলী সেজে আর/১৫১৮নং হোল্ডিং এর চার একর পঞ্চাশ শতক জমি জালিয়াতির মাধ্যমে জনৈক মোস্তাফিজুর রহমানের নিকট বিক্রি করে দেন। পরে রহিমা খাতুন জালিয়াতির বিষয়টি টের পেয়ে আকবর আলীসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে উপজেলা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন।

অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত আকবর আলী বলেন, আবদুল আলী মৃত বাবাকে জীবিত দেখিয়ে অন্য এক ব্যক্তিকে বাবা সাজিয়ে সব সম্পত্তি নিজের নামে নামজারী করে নিয়েছেন। তাই জায়গা পূণরায় বাবার নামে বহাল রাখার জন্য জেলা প্রশাসনের নিকট আবেদন করেছি। আবদুল আলীকে কোন হয়রানি কিংবা হুমকি দিচ্ছিনা।

 

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ