প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

৭১এর গণহত্যার জন্য ইয়াহিয়ার চেয়ে ভুট্টো বেশি দায়ী: জয়ন্ত কুমার

আরিফুর রহমান তুহিন : ভারতের জাতীয় গবেষণা অধ্যাপক জয়ন্ত কুমার রায় বলেছেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যে গণহত্যা চালিয়েছিল এর জন্য ঢালাওভাবে জেনারেল ইয়াহিয়া খানকে দোষী করা হয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো-এর জন্য সব থেকে বেশি দায়ি জুলফিকার আলি ভুট্টো।মূলত ভুট্টোর প্ররোচনায়ই ইয়াহিয়া খান এমন জঘণ্য কাজ করতে বাধ্য হয়েছিলো।

শুক্রবার রাজধানীর বাংলা একাডেমিতে ‘১৯৭১ সালের গণহত্যা-নির্যাতন বিষয়ক আর্কাইভ ও জাদুঘর ট্রাস্ট’ কর্তৃক আয়োজিত ‘১৯৭১: স্বাধীনতা যুদ্ধ, গণহত্যা ও বিশ্ব’ বিষয়ক এক আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন।

জয়ন্ত কুমার রায় বলেন, ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ পর্যন্ত ইয়াহিয়া খান নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ভুট্টো এতে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এক পর্যায়ে তিনি ভুট্টো ও বঙ্গবন্ধুর মধ্যে সমঝোতারও চেষ্টা করেন। কিন্তু ভুট্টো কোনোভাবেই বঙ্গন্ধুকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মানতে রজি ছিল না।ভুট্টো বিভিন্নভাবে ইয়াহিয়ার উপর চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। এক্ষেত্রে তিনি সেনাবাহিনীকেও ব্যবহার করে। এদিকে বাংলার জনগণ বঙ্গবন্ধুকে ক্ষমতা না দেওয়ায় ফুঁসে উঠে।তখন ইয়াহিয়ার অনিচ্ছা সত্তেও সামরিক বাহিনীকে কাজে লাগিয়ে বাঙ্গালির উপর ২৫ মার্চ গণহত্যা চালায়। ইয়াহিয়াহর ভুল ছিলো তিনি এই গণহত্যার বিপক্ষে অবস্থান না করে সায় দেন। যার খেশারত দিতে হয় বাংলার মানুষকে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে কত মানুষ শহীদ হয়েছেন তার সঠিক হিসেব এখনো করা হয়নি।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন এর সংখ্যা প্রায় ৩০ লক্ষ। আবার মিত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে ভারতীয় সেনাবহিনী বলেছে এর সংখ্যা ১০ লাখের মত। তবে ন্যাক্কারজনকভাবে পাকিস্তানি বাহিনী বলেছিল এর সংখ্যা ৩০-৪০ হাজারের বেশি হবে না। তবে এর সঠিক সংখ্যা বের করা প্রয়োজন। যদিও মুনতাসির মামুনরা এই কাজে হাত দিয়েছেন। তিনি আশা করছেন এই কাজে সফলতা আসবে।

আসামের সাময়িক প্রসঙ্গের সম্পাদক তৈমুর রাজা চৌধুরি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় আসামের বিশেষকরে দক্ষিণ আসামের জনগণ বাংলার মানুষকে প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করেছে। ২৯ মার্চ শিলচর পৌরসভায় পাকিস্তানির গণহত্যার প্রতিবাদে একটি প্রস্তাব পাশ করা হয়। এছাড়া বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিতে ভারত সরকারকে আহ্বান জানিয়ে আরেকটি প্রস্তাব পাশ করা হয়। সে সময়ে ভুট্ট কবিতা নামে এক প্রকার গান রচনা হতো যার মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের উৎসাহ ও সমর্থন যোগানো হাতো। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই গান নিয়ে কোনো সংকলন হয়নি। তিনি বাংলাদেশকে গানের কিছু সংকলন ও অডিও ক্যাসেট প্রদান করেন।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তরুণ গবেষক চৌধুরী শাহেদ কাদের বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের যে অবদান ছিল তা কিছুটা বিতর্কিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ভারতীয়দের লেখায়। সেখানে তারা এই যুদ্ধকে ভারত পাকিস্তানের যুদ্ধ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। আবার অনেকে এটাকে ভারতের ’৪৭ এর দেশভাগের প্রতিশোধ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তবে সবকিছুর ঊর্ধে যেটি প্রমাণিত হয়েছে তা হলো, বাংলাদেশের সীমানা ঘেঁষা ভারতের যে চারটি প্রদেশ রয়েছে ওই অঞ্চলের মানুষের ত্যাগ ও ভালবাসা ছিল নিঃস্বার্থ। তারা এদেশের লাখো মানুষকে কোনো প্রকার প্রশ্ন ছাড়াই গ্রহণ করে নিয়েছিল। তাদের এই ত্যাগ ছিল বাঙ্গালির মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সম্পদ।

অনুষ্ঠানের শেষে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবিরের তৈরি করা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি নাগরিকের প্রতিক্রিয়া বিষয়ক একটি ডকুমেন্টারি পরিবেশন করা হয়। সেখানে পাকিস্তানের সর্বস্তরের নাগরিকরা ’৭১এর গণহত্যার নিন্দা জানায়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত