প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

৭১’র গণহত্যাকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবি

সমীরণ রায়: ৭১’র গণহত্যাকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবি উঠেছে ১৯৭১: মুক্তিযুদ্ধ, গণহত্যা ও বিশ্ব আন্তর্জাতিক সম্মেলন থেকে।

শুক্রবার রাজধানীর বাংলা একাডেমির আব্দুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে ১৯৭১: মুক্তিযুদ্ধ, গণহত্যা ও বিশ্ব আন্তর্জাতিক সম্মেলন উপলক্ষে এক সেমিনারে বক্তারা এ দাবি জানান। ১৯৭১: গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর ট্রাস্ট, খুলনা এ সম্মেলনের আয়োজন করে। সম্মেলনের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।

১৯৭১: গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর ট্রাস্ট-এর সভাপতি ড. মুনতাসীর মামুন বলেন, ৭১’র ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার পরই পাকিস্তানি বাহিনী গণহত্যা সূচনা করে। একই সঙ্গে তাদের দোসর রাজাকার, আলবদর, আলশামস শান্তি কমিটির সদস্যরাও হত্যাযজ্ঞ শুরু করে। রক্ষণশীল হিসেব অনুযায়ী দেশের ৩০ লাখ মানুষ শহীদ ও ২ লাখ নারী ধর্ষিত হয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি গবেষণায় দেখা গেছে, শহীদের সংখ্যা ৩০ লাখের বেশি ও নির্যাতিত নারীর সংখ্যা ৫ লাখের বেশি। তাই ৭১’র গণহত্যাকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি চাই।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রকে আধুনিক করতে হলে অসাম্প্রদায়িক চেতনা প্রয়োজন। আর অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র চাইলে মুক্তিযুদ্ধের সরকারকেই বিজয়ী করতে হবে।

১৯৭১: মুক্তিযুদ্ধ, গণহত্যা ও বিশ্ব আন্তর্জাতিক সম্মেলন কমিটির আহ্বায়ক হাশেম খান বলেন, ১৯৭১ সালে ৯ মাসে মুক্তিযুদ্ধকালে নিরস্ত্র মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করেছে পাকবাহিনী। সম্প্রতি পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে, ৭১’-এ ৩০ লাখের বেশি মানুষকে হত্যা ও ৫ লাখ নারী নির্যাতন করা হয়েছিল। বিশ্বজুরে গণহত্যা হয়েছে এবং এখনও হচ্ছে। এখন সময় এসেছে তরুণ প্রজন্মকে গণহত্যাকে রুখে দিতে শক্তি সঞ্চয় করা। আর এটি সম্ভব হবে বাংলাদেশের এই গণহত্যাকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়া হলে।

সাংবাদিক ও কলামিস্ট শাহরিয়ার কবির বলেন, গণহত্যার বিচারহীনতার যে সংস্কৃতি দেখা দিয়েছে, তাতে সূদুর প্রসারী প্রভাব রয়েছে। যতক্ষণ পর্যন্ত বিচার শেষ না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত মানবিক অধিকার প্রতিষ্ঠা হবে না।

ড. বোরহান উদ্দিন খান জাহাঙ্গির বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কোনো অপশক্তি শক্তিশালী হলে দেশটা নষ্ট হয়ে যাবে। এই দায়িত্ব দেশের প্রতিটি মানুষের। আমাদের একমাত্র কথা দেশকে রক্ষা করা। দেশ না থাকলে আমরা কি নিয়ে কথা বলব।

ভারতের জাতীয় গবেষণা অধ্যাপক ড. জয়ন্ত কুমার রায় বলেন, ৭১’-এর যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন, তাদের কাছে মুক্তিযুদ্ধ ছিল, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদের অগ্নিপরীক্ষা। তবে বাংলাদেশের সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ভাতাসহ বিভিন্ন সুবিধা দিয়ে তাদের সম্মান দখিয়েছেন, যা বিরল। পাকিস্তানি বাহিনী ৭১’র সালে গণহত্যা চালিয়েছিল। এই গণহত্যার জন্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আজকে সময়ের দাবি।

যুক্তরায্যের লাখুমল লুহানা বলেন, বাংলাদেশে স্বাধীনতা যুদ্ধে যে গণহত্যা হয়েছে তা দু:খজনক ঘটনা। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি বাংলাদেশ যেভাবে সুপারিশ করেছে, তাতে বাংলাদেশে যারা গণহত্যার শিকার হয়েছেন এবং নির্যাতিতরা ন্যায়বিচার পাবেন।

এছাড়াও সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইউনির্ভাসিটি অব প্রফেশনাল বঙ্গবন্ধু চেয়ার ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক ড. মেজবাহ কামাল, বেলজিয়ামের পাওলো কাসাকা, মিশরের মহসিন আরিশি, নেদারল্যান্ডের ড. থিজস বাউনেট, ভারতের কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কম্বোডিয়ার কিও ডং প্রমুখ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত