সাজিয়া আক্তার : সড়কের পরিবহনের অসুস্থ প্রতিযোগিতার চিত্র প্রতিদিনের। যার পরিণতি প্রতিদিনেই পরিবহনের চাকায় স্পৃষ্ট হচ্ছে কোনো না কোনো প্রাণ।
সড়কের যানচলাচলের এই নৈরাজ্য দীর্ঘ দিনের, তবে আজ কাল তা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। যদিও নৈরাজ্য ঠেকাতে আছে আইন, তারপরেও সড়কে যান চলাচলে কেন এতো বিশৃঙ্খলা?
চালকরা বলছেন, জানজটের কারণে অনেকসময় মানুষ কেউ সামনে কেউবা পিছে পরে যায়, আর এই সময় সবকিছু ঠিকরাখা যায় না। মালিক আমাদের উপর যে টার্গেট দিয়ে দেয় তা পুরন করতে গিয়ে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়। সেই টার্গেট পূরন করতে না পারলে আমাদের বেতন থাকে না। আর সেই কারণেই আমরা এই প্রতিযোগিতার মধ্যে পরে যাই।
আরো পড়ুন : সবদলের আগে দেয়া হতে পারে আ.লীগের মনোনায়ন
আর তাদের কথার সাথে একমত বিশেষজ্ঞরাও। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি গোষ্ঠীর কাছে জিম্মি পুরো পরিবহন সেক্টর।আর তাই আইনের তুয়াক্কা না করেই চলছে নিয়ম ভাঙার প্রতিযোগিতা।
বুয়েট দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউট সহকারী অধ্যাপক সাইফুন নেওয়াজ বলেন, মালিককে তাদের টার্গেট অনুযায়ী টাকা দিতে হয়, এবং রাস্তায় চাঁদাবাজি রয়েছে। আরেকজন চালক তার চাকরিটা নিয়ে যাবে এই চিন্তা নিয়ে চালক যখন গাড়ি চালায় তখন সে তার টার্গেট ফিলাপ করতে গিয়ে সে যে কোনো সময় বেপরোয়া হয়ে যায়।
আরো পড়ুন : নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আ. লীগ লজ্জাজনক সংখ্যালঘুতে পরিণত হবে : ভারতীয় কূটনীতিক
নিরাপদ সড়ক চাইয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, চালকরা জানে যে তারা যাই করোক তাদের কোনো শাস্তি হবে না। কে মরলো কে বাঁচলো তাদের কোনো আসে যায় না। আর এই মনোভাবের জন্যই রাস্তায় এতো দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।
বিআরটিএ বলছে, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বেপরোয়া চালকদের এই সংক্রামণ ব্যাধি থেকে বের করে আনতে কাজ শুরু হয়েছে।
আরো পড়ুন : সংবিধানে কোথাও নেই, জেলে বিশেষ আদালত বসানো যাবে না: কাদের
বাধ্য হয়ে যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন ব্যবহার করছেন তাদের বাঁচাতে এখনি সড়কে কঠোর নজর দেওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।
দীর্ঘদিন ধরে পরিবহন আইনের কঠোর বাস্তবায়ন না থাকায় সড়কে তৈরি হয়েছে এমন বিশৃঙ্খলা।
সূত্র : ডিবিসি টেলিভিশন
আরো পড়ুন : যত দিন ইচ্ছা সাজা দিন, বিচারককে খালেদা