আহমেদ জাফর : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সংবিধানে কোথাও নেই যে, বিশেষ প্রয়োজনে জেল খানায় আদালত বসানো যাবে না। যারা সংবিধান মানে না, আইন মানে না, দেশের শাসন মানে না, তারা সবই করতে পারে, সেটা দেশের মানুষের কাছে প্রমাণিত হয়েছে।
বুধবার (৫ সেপ্টেম্বর) ধানমন্ডি আওয়ামী লীগের সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয় অনষ্ঠিত যৌথসভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জাবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
দুর্নীতি মামলায় হাজিরা দিতে এসে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া বলেছেন, এই আদালতের উপর তার কোনো আস্থা নেই। আদালত যা ইচ্ছা রায় দিয়ে দিক। যতদিন ইচ্ছা সাজা দিয়ে দিক,সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, তার বিষয় আদালত কি রায় দিবে সেটা আদালতের বিষয়, এটা আমাদের বিষয় নয়। যারা দেশের গণতন্ত্র মানে না ,আইনকে লঙ্ঘন করে, দেশের শাসন ব্যবস্তার উপর আস্থা রাখে না, তারা আইনের কথা বলতে পারে না।
খালেদা জিয়ার সুবিধার জন্য বিশেষ আদালত বসানো হয়েছে উল্লেখ করে কাদের বলেন ,বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বয়স ও তাঁর শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করেই তাঁকে বিশেষ সুবিধা দেয়ার জন্য কারাগারে বিশেষ আদালত বসানো হয়েছে । তাছাড়া কোন মামলায় কার বিষয়ে আদালতের কী করণীয় সেটা তো আদালতই ডিসাইড করবেন।
বাংলাদেশের আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আটকে রাখার জন্য জেলখানায় আদালত বসানো হয়েছে। সরকার আইনের লঙ্ঘন করেছে। স্বাধীন বাংলাদেশে এ রকম কোনো নজির নেই। আদালতে কোড বসানো অসাংবিধানিক, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, কোন সংবিধানে লেখা আছে, বিশেষ প্রয়োজনে জেল কোডে আদালত বসানো যাবে না। আপনাদের পক্ষে সবকিছুই বলা সম্ভব। এ ট্রেন্ড তো জিয়াউর রহমান তৎকালীন জাসদ নেতা কর্নেল তাহেরের বিচারের মধ্য দিয়ে চালু করেছিলেন। এটা কি আপনারা ভুলে গেছেন?
তিনি বলেন,আওয়ামী লীগের সহযোগি সংগঠন গুলো সবসময় আমদের বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করে আসছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় কার্যক্রমে আরোও সহযোগিতা করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এ সময় আরোও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক,ড.দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, বাহাউদ্দিন নাছিম, নওফেল চোধুরী, আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ড.আব্দুস সোবহান গোলাপ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আবদুস সবুর, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল প্রমূখ।