রুহিন হোসেন প্রিন্স : সরকার শুধু শিক্ষার্থীদেরকেই নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে, পরিবহন মালিকদেরকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। যার কারণে পরিবহন মালিকরা রাস্তায় গাড়ি নামাচ্ছেন না। পরিবহন মালিকদের খামখেয়ালির কারণে আমাদেরকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।রাজধানীর সড়কে যানবাহনের সংখ্যা এখন খুবই কম। এছাড়া রাজধানীর যেসব গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যানবাহনের ভিড় থাকে সেখানেও গাড়ি না পেয়ে অফিসগামী মানুষ দাঁড়িয়ে আছেন। অনেক সময় পর পর দুয়েকটি গাড়ি আসলেও ভিড় ঠেলে অধিকাংশ মানুষই উঠতে পারছে না। এনিয়ে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
সবার আগে আমাদের নিজেদের সচেতন হতে হবে। রাস্তা পারাপারে, রাস্তা ব্যবহারে, গণপরিবহন ব্যবহারে আমাদের আরও সচেতন হতে হবে, দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক পরিবহনের ব্যবস্থা করতে হবে, স্কুলবাস ছাড়া কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে পরিচালনা করার অনুমতি দেয়া যাবে না। পরিবহন শ্রমিকদের লাইসেন্স দেয়ার ক্ষেত্রে হয়রানি ও দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। চালকসহ সকল স্টাফদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। টার্মিনালে টার্মিনালে পুলিশ-মাস্তান ও মাফিয়াদের চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। ট্রিপভিত্তিক দৈনিক ইজারা প্রথা বন্ধ করে বাসের যাত্রী তোলার প্রতিযোগিতা বন্ধ করতে হবে। দুর্ঘটনা বন্ধ করতে শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা ও অবসর নিশ্চিত করতে হবে। নগর পরিবহন ব্যবস্থা আধুনিকায়ন করতে হবে। বাসের সংখ্যা বৃদ্ধি, আসনের মান উন্নত করে যাত্রী হয়রানী বন্ধ করতে হবে। স্ট্রাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান বাস্তবায়নের মাধ্যমে নগরের পরিবহন সংকট নিরসন করতে হবে। সরকারের উচিত আইন কঠোর করা এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ করা। কারণ, যত কঠোর আইনই করা হোক না কেন প্রয়োগবিহীন তা পঙ্গু। পরিবহন সংশ্লিষ্ট বিশেষ করে ড্রাইভার ভাইদের উচিত বেপরোয়া ভাবে গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকা এবং হেলপার দিয়ে গাড়ি না চালানো।
পরিচিতি: কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, সিপিবি/মতামত গ্রহণ: নৌশিন আহম্মেদ মনিরা/সম্পাদনা: সম্পাদনা: রেজাউল আহসান