লিহান লিমা: করমর্দন করা ছাড়া নাগরিকত্ব পাওয়া যাবেনা স্ক্যান্ডিনেভিয়ার রাষ্ট্র ডেনমার্কে। দেশটির অভিবাসন মন্ত্রণালয় এই তথ্য জানায়। দেশটিতে নাগরিকত্ব পাওয়ার নতুন আইনের খসড়ায় অন্যতম পূর্বশর্ত হিসেবে করমর্দন উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে বলা হয়, নাগরিকত্ব প্রদানের অনুষ্ঠানে অবশ্যই মেয়রের সঙ্গে সৌজন্য করমর্দন করতে হবে। দেশটির অভিবাসনমন্ত্রী ইনজার স্টোলবার্গ বলেন, ‘করমর্দন কাউকে সম্ভাষণ জানানোর জন্য ডেনমার্কের রীতি। এর মাধ্যমেই আমরা একে অপরের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে থাকি। এই কারণেই নাগরিকত্ব প্রদান অনুষ্ঠানে একটি অংশ এটি।’
ডেনমার্কের সোশ্যাল ডেমোক্রেট, ডেনিশ পিপলস পার্টি এবং কনজারভেটিভদের মতে, করমর্দন একটি আইনি বাধ্যবাধকতা হওয়া উচিত। দেশটির অভিবাসন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মার্টিন হেনরিকেসেন বলেন, ‘ডেনিশ নাগরিক হতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই অন্যদের সঙ্গে আন্তরিক ও সৌজন্যবোধ রক্ষা করতে হবে। ডেনমার্কে এটি প্রকাশ পায় করমর্দনের মধ্য দিয়ে।’
তবে সোশ্যাল ডেমোক্রেটের ইশস মিউনিসিপালিটির মেয়র ওলি বিজস্ট্রোপ বলেন, ‘ডেনমার্কের নাগরিকদের ৪০ ভাগই অন্য ভাষায় কথা বলেন। ডেনমার্কের অনেক নৃগোষ্ঠিই করমর্দন ছাড়া অন্যভাবে একে অপরের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করেন, এতে কারো প্রতি অসম্মান প্রদর্শিত হয় না।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমি মনে করি এতে করে মুসলমানদের টার্গেট করা হয়েছে। ডেনমার্কে ধর্মীয় স্বাধীনতা আছে। সংবিধান যার সুরক্ষা করেছে, সকলের তা সম্মান করা উচিত, আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য।’
কয়েকদিন আগে সুইজারল্যান্ডে করমর্দন নিয়ে বিতর্ক ওঠে। এক মুসলিম দম্পতি বিপরীত লিঙ্গের ব্যক্তিদের সঙ্গে হাত মেলাতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে তাদের নাগরিকত্ব প্রত্যাখ্যান করা হয়। নরওয়ে এবং সুইডেনেও করমর্দন না করলে মুসলমানদের চাকরি দেয়া হয় না বা বরখাস্ত করা হয়। আরটি।