প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
ঔষধ রিপ্রেজেন্টেটিভদের দৌরাত্মে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত

বিল্লাল হোসেন, কালীগঞ্জ (গাজীপুর) : গাজীপুরের কালীগঞ্জে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারী হাসপাতাল। গড়ে প্রতিদিন ৫/৬শত রোগীর প্রয়োজনীয় সেবা দিতে ২০ জন চিকিৎসক ও ৩য় শ্রেণির ৭৭ জন এবং ৪র্থ শ্রেণির ১০ জন কর্মচারী মিলিয়ে মোট ৮৭ জন জনশক্তি নিয়োজিত রয়েছে। আর বর্তমান এই জনশক্তি ১১৭ জনের বিপরীতে। বাকী ৩০টি পদ দীর্ঘদিন যাবৎ শূন্য রয়েছে।

হাসপাতালের ইউএইচও বলছেন, গড়ে প্রতিদিন ৫/৬শত রোগীর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দিতে যে পরিমান জনশক্তির প্রয়োজন তা তাদের নেই। কিন্তু হাসপাতালে আসা রোগী ও তাদের অভিভাবকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে কমপ্লেক্স যে জনশক্তি রয়েছে তা দিয়েও দৈনিক হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগীদের চিকিৎসা সেবা সম্ভব। তবে তা ব্যাহত হচ্ছে শুধুমাত্র বিভিন্ন ঔষধ রিপ্রেজেন্টিটিভদের দৌরাত্মের কারণে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে হাসপাতাল বর্হিবিভাগে পড়ে লম্বা লাইন। কিন্তু সকালে বর্হিবিভাগের চিকিৎসক ও রোগী আসার আগেই হাসপাতাল কম্পাউন্ডে বিভিন্ন ঔষধ রিপ্রেজেন্টিটিভদের বিশাল হাট বসে। পুরো কম্পাউন্ডের বিভিন্নস্থানে রিপ্রেজেন্টিটিভদের অংসখ্যা মোটরসাইকেল ছড়ানো ছিটানো। আর চিকিৎসকরা তাদের চেম্বারে বসার সাথে সাথে রিপ্রেজেন্টেটিভদের ভীর জমে। কিন্তু দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট নিয়ে আসা রোগীরা রিপ্রেজেন্টেটিভদের কারণে চিকিৎসকের রুমের সামনে আবারও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ায়। তাদের কাজ শেষ হলে শুরু হয় রোগীদের চিকিৎসা সেবা। এরপর ডাক্তারদের রুম থেকে রোগীরা বের হলে ঔষধ কোম্পানীর বিক্রয় প্রতিনিধিদের দ্বারা শুরু হয় নানা দুর্ভোগ। রোগীরা চিকিৎসকের রুম থেকে বের হওয়ার সাথে সাথে তাদের হাতে থাকা চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র টেনে নিচ্ছে এবং ছবি তুলছে। এদের কাছ থেকে কোন সিরিয়াস রোগীও বাদ যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে অভিযোগের তীর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তৃপক্ষের দিকেই। ভূক্তভোগী রোগী ও তাদের অভিভাবকদের দাবি ডাক্তারদের ব্যক্তি স্বার্থে ওইসব বিক্রয় প্রতিনিধিদের জন্য কোন নিয়ম-নীতি করছে না। আর কোন নিয়ম-নীতি করলেও তারা তা মানছে না। তবে রিপ্রেজেন্টেটিভরা যে কোন নিয়ম-নীতি মানছে না সে ব্যাপারে কোন ভ্রুক্ষেপ নেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।

এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাক্তার মোহাম্মদ ছাদেকুর রহমান আকন্দ জানান, বিক্রয় প্রতিনিধিদের জন্য নির্দিষ্ট দিন এবং সময় রয়েছে। তারা সপ্তাহের প্রতি রবি ও বুধবার দুপুর ১২টার পর চিকিৎসকদের সাথে দেখা করতে পারবে। তবে কিছু কিছু রিপ্রেজেন্টেটিভ তা মানছে না। এদের ব্যাপারে অভিযোগ পেয়েছি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গাজীপুর জেলার সিভিল সার্জন সৈয়দ মুঞ্জুরুল হক জানান, বিষয়টি আমার জানা ছিলনা। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলব এবং যথাযথ ব্যবস্থা নিব।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত