প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কর বৃদ্ধির পাশাপাশি তামাকের উৎপাদন বন্ধ করতে হবে

ফাহিম ফয়সাল: জাতীয় যক্ষ্মা নিরোধ সমিতির (নাটাব) সভাপতি ও বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের (বাটা) উপদেষ্টা মোজাফফর হোসেন পল্টু বলেছেন, ব্যবহার কমাতে তামাকের ওপর কর বৃদ্ধি করতে হবে এবং তামাক চাষ বন্ধের ব্যবস্থা করতে হবে।
বুধবার জাতীয় প্রেস কাবে আয়োজিত ‘২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেটে তামাক কর : উপেক্ষিত জনস্বাস্থ্য’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, তামাক উৎপাদনকারী বড় বড় কারখানা চাষীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিয়ে তাদের তামাক চাষে উৎসাহী করে তুলছে। অধিক লাভের আশায় তামাক চাষে যুক্ত হচ্ছে কৃষক। কৃষকদের তামাকের কুফল সম্পর্কে জানাতে হবে এবং বিকল্প চাষের জন্য সহায়তা করতে হবে। তবেই তামাক উৎপাদন কমবে এবং ব্যবহার কমবে।
এ সময় বক্তারা বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সমতা ও দতা বৃদ্ধি করার মাধ্যমে তামাক কর প্রশাসন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী ও কার্যকর করতে হবে এবং কর ফাঁকির দন্ড নিশ্চিত করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন,  ‘এটা পরিষ্কার যে, কর না বাড়ানোর সঙ্গে কোম্পানির ব্যবসায়িক স্বার্থ জড়িত। অথচ তামাকপণ্যের ওপর কর বৃদ্ধির দাবির সঙ্গে জনস্বাস্থ্য রক্ষার প্রশ্ন জড়িত। বাংলাদেশের ৪৩ (২০০৯ সালের হিসেব অনুযায়ী) শতাংশ বা ৪ কোটি ১৩ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ধূমপান ও ধোয়াবিহীন তামাক সেবন করে। তামাকের চাহিদা কমাতে পারলে হাজার হাজার মানুষ অনেক ঘাতক রোগ থেকে রক্ষা পাবে। তামাকজাত ক্ষয়ক্ষতির হিসেব করলে দেখা যায় তা জিডিপির প্রায় ৩ শতাংশ। তামাক অসংক্রামক রোগ সৃষ্টির অন্যতম প্রধান কারণ।’
সংবাদ সম্মেলনে আয়োজক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়। সুপারিশগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য তামাকজাত দ্রব্যের কর কাঠামো সহজ করে একটি শক্তিশালী তামক কর নীতি প্রণয়ন করা; কার্যকর তামাক নিয়ন্ত্রণে তামাকজাত দ্রব্যকে একক কর কাঠামোর আওতায় আনা; তামাকজাত দ্রব্য উৎপাদন এবং বিপননে জড়িত সকলকে লাইসেন্সিংয়ের আওতায় আনা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের পরিচালক গাউস পিয়ারী, বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির প্রকল্প পরিচালক ডা. গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক, মাদক বিরোধী সংগঠন প্রত্যাশার সাধারণ সম্পাদক হেলাল আহমেদ, ইসপার প্রোগ্রাম ম্যানেজার নাজমুল হায়দার, এইড ফাউন্ডেশনের অ্যাভভোকেসি অফিসার আবু নাসের অনিক প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ব্যুরো অব ইকোনোমিক রিসার্চ, বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটি, নাটাব, ইপসা, এইড ফাউন্ডেশন, মাদকবিরোধী সংগঠন প্রত্যাশা, তামাক বিরোধী নারী জোট, বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট এবং ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডব্লিউবিবি) ট্রাস্ট।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত