প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নবম তারাবিতে আজ যা পড়া হবে

রাশেদুর রহমান: আজ নবম তারাবিতে সূরা হুদ পুরোটা এবং সূরা ইউসুফের ১ থেকে ৫২ নম্বর আয়াত পর্যন্ত পড়া হবে। আজ পড়া হবে ১২তম পারা। পাঠকদের জন্য আজ নবম তারাবিতে যা পড়া হবে সেটির আলোচ্য বিষয় তুলে ধরা হলো,

সূরা হুদ, আয়াত ১২৩, রুকু ১০
প্রথম পাঁচ আয়াত ব্যতীত সূরা হুদ পুরোটাই এই পারায়। সূরাটির সূচনাপর্বে কোরআনের আজমত ও বড়ত্বের কথা বর্ণনা করা হয়েছে। শব্দ, ভাষা, অর্থ সবদিক দিয়েই পবিত্র কোরআন অকাট্য নির্ভুল এবং ধ্রুব সত্য। তার বর্ণনায় কোনো বিরোধ নেই, কোনো কিছুই অযৌক্তিক এবং বাস্তব বিরুদ্ধ নয়। এর অনুপম ভাষা এবং বর্ণনাধারা, অলৌকিক সাবলীলতা এবং প্রাঞ্জলতায় কটাক্ষ করার কোনো সুযোগ নেই। কোরআনের প্রতিটি তত্ত্ব এবং তথ্য অকাট্য, কালের পরিবর্তনে তাতে চিড় ধরার সম্ভাবনা মাত্র নেই, রোজ কেয়ামত পর্যন্ত এর সার্থকতা, উপাদেয়তা এবং প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। (১-৫)।

কিতাবুল্লাহর আজমত বর্ণনার পর তাওহিদের দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। আল্লাহর একত্ববাদের বিভিন্ন প্রমাণ পেশ করা হয়েছে। (৬-১২)। যারা বলে, কোরআন মানব রচিত, তাদের কোরআনের অনুরূপ কিছু বানিয়ে দেখানোর চ্যালেঞ্জ দেওয়া হয়েছে। (১৩)। কিন্তু কখনোই কাফেররা এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণের সাহস পর্যন্ত দেখাতে পারেনি এবং কেয়ামত পর্যন্ত পারবেও না। দুনিয়াদারদের উদাহরণ দেওয়া হয়েছে অন্ধ ও বধিরের সঙ্গে, আর ঈমানদারদের উপমা দেওয়া হয়েছে চক্ষুষ্মান ও শ্রবণসম্পন্ন ব্যক্তির সঙ্গে। (১৫-২৪)।

কোরআনের সত্যতা এবং তাওহিদ ও রিসালতের বাস্তবতার প্রমাণ উল্লেখের পর হজরত নুহ, হুদ, সালেহ, লুত, শুআইব, মুসা এবং হারুন (আ.) এর কাহিনি বর্ণনা করা হয়েছে। মূলত নবী মুহাম্মদ (সা.) এর ওহির সত্যতা এবং কোরআনের মোজেজা হওয়ার বর্ণানা দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই ঘটনাগুলো বর্ণনা করা হয়েছে। সূরায় নবীদের ঘটনা আলোচনা প্রসঙ্গে হজরত নুহ (আ.) এর ঘটনা বর্ণনার পর বলা হয়েছে, এসব ঘটনা অদৃশ্যের সংবাদের অন্তর্ভুক্ত, যা আমি তোমাকে ওহির মাধ্যমে জানাচ্ছি। ইতঃপূর্বে না তুমি জানতে এগুলো, আর না জানত তোমার জাতি। সুতরাং সবর করো, মুত্তাকিদের পরিণতি ভালোই হয়। (৪৯)।

নবীদের ঘটনাগুলোয় বোধসম্পন্ন লোকদের জন্য রয়েছে অসংখ্য উপদেশ, আর রয়েছে নবীজি (সা.) এবং মুখলিস ঈমানদার ব্যক্তিদের জন্য সান্ত¡Íনা ও দৃঢ়তার সবক। তাই ঘটনাগুলোর বর্ণনা প্রসঙ্গে নবীজি ও তাঁর উম্মতকে ইস্তেকামাত ও জমে থাকার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। (১১২)। বস্তুত ইস্তেকামাত এমন এক হুকুম, যার সম্পর্ক আকিদা-বিশ্বাস, কথা-কাজ এবং আখলাক-চরিত্রÑ সবকিছুর সঙ্গে। ইস্তেকামাতের অর্থ হলোÑ সারা জীবন সেই শিক্ষার আলোকে চলা, যেভাবে চলার নির্দেশনা আল্লাহ তায়ালা দিয়েছেন। ইস্তেকামাতই হলো আসল কারামাত। ইস্তেকামাতের চেয়ে বড় কোনো কারামাত আর হতে পারে না। মুসা (আ.) এর ঘটনা প্রসঙ্গে গোনাহ ও নাফরমানির ব্যাপারে সতর্ক করে বলা হয়েছে, আল্লাহ ছাড় দেন, ছেড়ে দেন না। (১১ : ১০২-১০৩)।
মূলত গোনাহ, সীমাতিরিক্ত ভোগবিলাস এবং মন্দ কাজে বাধা না দেওয়ার কারণেই জাতীয় জীবনে বিপর্যয় এবং আল্লাহর আজাব নেমে আসে। (১১৬)। পবিত্র কোরআনে বিভিন্ন কাহিনি বর্ণনার কী উদ্দেশ্যÑ এ প্রসঙ্গটির উল্লেখ করে সূরাটি সমাপ্ত হয়েছে।
সূরা ইউসুফ, আয়াত ১১১, রুকু ১২

এ সূরায় হজরত ইউসুফ (আ.) এর ঘটনা বিবৃত হয়েছে। স্বয়ং কোরআন ইউসুফ (আ.) এর ঘটনাকে ‘আহসানুল কাসাস’ তথা সবচেয়ে সুন্দর ঘটনা বলে আখ্যায়িত করেছে। ঘটনাটিতে প্রচুর শিক্ষা ও নসিহত রয়েছে।
নবী ইউসুফ (আ.) এর ঘটনা এতই প্রসিদ্ধ যে, প্রকৃত মুসলিম পরিবারের ছোট ছোট বাচ্চাও তা জানে। সূরা ইউসুফের যে অংশটুকু আজ পড়া হবে তার সারসংক্ষেপ হলো,

হজরত ইয়াকুব (আ.) এর বারো সন্তান ছিল। এদের মধ্যে ইউসুফ ছিলেন অস্বাভাবিক সৌন্দর্যের অধিকারী, বাহ্যিক আকার-আকৃতি ও দৈহিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি আচার-ব্যবহারেও তিনি ছিলেন অনন্য। তাই বাবার কাছেও ছিলেন সবচেয়ে আদরের। মহব্বতের একটি কারণ এ-ও ছিল, ইউসুফ শৈশবে একটি বিস্ময়কর স্বপ্ন দেখেন, যা ছিল তার নবী হওয়ার পূর্বাভাষ। তাছাড়া ইউসুফ ও তার ভাই বিনয়ামিন ছিলেন সবার ছোট, আর তাদের মায়েরও ইন্তেকাল হয়ে গিয়েছিল। বাবা ইয়াকুব (আ.) এর এই স্বভাবজাত মহব্বত ভাইয়েরা সহ্য করতে পারেনি, তারা হিংসার আগুনে জ্বলতে থাকে। বিনোদনের কথা বলে একদিন তারা ইউসুফ (আ.) কে জঙ্গলে নিয়ে যায় এবং সেখানে একটি কূপে তাকে ফেলে দেয়। সেই পথ দিয়ে একটি কাফেলা যাচ্ছিল, পানির প্রয়োজনে তারা কূপের সামনে যায়, বালতি নিচে ফেলার পর বালতি ওঠানো মাত্রই ফুটফুটে সুন্দর ইউসুফকে দেখতে পায়। কাফেলার লোকরা মিশরে গিয়ে ইউসুফকে বিক্রি করে দেয়। মিশরের আজিজ তাকে কিনে নিজের ঘরে নিয়ে যান।

ধীরে ধীরে ইউসুফ বড় হন, যৌবনে পর্দার্পণ করেন। একসময় মিশরের বাদশার স্ত্রী তার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে। সে ইউসুফকে খারাপ কাজের প্রতি আহ্বান করে, ইউসুফ (আ.) তা প্রত্যাখ্যান করেন। রাজপরিবার বদনাম থেকে বাঁচার জন্য ইউসুফকে জেলে নিক্ষেপ করে। জেলের কুঠুরিতেও তাওহিদের দাওয়াত চলতে থাকে, অনেকেই তার হাতে মুসলমান হন।
তৎকালীন বাদশা একটি আশ্চর্য স্বপ্ন দেখেন। ইউসুফ সেই স্বপ্নের সঠিক ব্যাখ্যা বলে দেন। ইউসুফের প্রতি বাদশাহর বিশেষ দৃষ্টি নিবদ্ধ হয়। বাদশা ইউসুফকে সে দেশের অর্থ বিভাগের পূর্ণ দায়িত্ব দেন এবং তাকে নিজের উজির বানিয়ে নেন। (১-৫২)।

সূত্র: আলোকিত বাংলাদেশ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ