প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ক্রমেই সংর্কীণ হচ্ছে নিরাপদ মাতৃগর্ভের হার

আজকের শিশু আগামীদিনের ভবিষ্যৎ। এই ভবিষ্যৎ উন্নত বাংলাদেশের জাতীয় সম্পদ। একটি সুস্থ ও স্বাস্থ্যবান আগামী প্রজম্মের জন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন সুস্থ শিশুর মাতৃগর্ভে বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করা এবং সম্পূর্ণ চিকিৎসকদের তত্বাবধানে কোন রকম প্রসবকালীন জটিলতামুক্ত সুন্দর প্রসব নিশ্চিত করা। স্বাধীনতার বহু বছর পর নারীরা এখন কর্মক্ষেত্রে পুরুষের সাথে সমানতালে জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রেখে চলছে। নারী শিক্ষার দ্বার উম্মোচনের সাথে সাথে নারী উন্নয়নের একটা বাতাস আবহমান বাংলায় প্রবাহিত হতে শুরু করে। তারপর সরকারের নারী নীতির ফলে ঘরে বাইরে সর্বত্রই নারীর কর্মক্ষেত্রের প্রসার ঘটেছে।

জাতীয় অথর্নীতিতে নারীর ভুমিকা যেমন অস্বীকার করার কোন উপায় নেই, তেমনি সুস্থ্য ও সবল জাতি গঠনে সুস্থ্য গর্ভেরও কোন বিকল্প নেই। একটি সুস্থ নারীর গর্ভ হচ্ছে সুস্থ্য শিশু জম্মদানের প্রথম চাবিকাঠি। তাছাড়া জিন ও রক্তের সর্ম্পকও অনেকটা দায়ী। এই সুস্থ শিশু পেতে হলে অবশ্যই খুব পরিকল্পনা মাফিক নারীর কর্মক্ষেত্র নির্দ্ধারণ করতে হবে। তা না হলে এক সময়ে জাতীয় জীবনে মহা বিপর্যয় নেমে আসবে। কারণ, খুব পরিকল্পনা করে আমাদের দেশে পরিবার পরিকল্পনা কাযর্ক্রম শুরু হয়েছিল, সেটার সুফল আস্তে আস্তে পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু দুভার্গ্যরে বিষয়, নারীর কমক্ষেত্র প্রসারের সাথে সাথে নারীর প্রজননের বিষয়টিকে আজ আমলে নিয়ে সুদূরপ্রসারী কোন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়নি।

ফলে আধুনিক যুগের বিভিন্ন রকম মেশিনারীজ নারীর গর্ভকালীন সময়ে ভ্রুণের উপর মারাত্মক যে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করছে, তাতে নানাবিধ জম্মগত ত্রুটি নিয়ে জম্মগ্রহণ করছে আজকের শিশুরা। খুব দ্রত যান্ত্রিক বিকশিত হওয়ার কারণে প্রতিটি যন্ত্র মানব ভ্রুণের কী ক্ষতি সাধন করছে তা পৃথকভাবে নির্ণয় করা সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু প্রতিটি যন্ত্রেরই ক্ষতিকারক প্রভাব থাকার সম্ভাবনাই বেশি। শুনলে সবাই অবাক হবে যে, উচ্চ শব্দই মানব ভ্রুণের ভয়াবহ রকম ক্ষতিসাধন করতে পারে। তাই নারীর কর্মক্ষেত্র প্রসারের সাথে সাথে নারীর গভর্কালীন সময়কে জাতীয় নীতির মধ্যে নিয়ে আসতে হবে এবং এই নীতিমালার আওতায় সরকারি-বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নারীরা নিরাপদ গর্ভকালীন ছুটি ও সেবার আওতায় থাকার ব্যবস্থা করতে হবে।

শিশু সাজার্রীতে ক্যারিয়ার গড়ার সুবাদে শিশুদের সকল ত্রুটি নিয়ে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। বর্তমানে শিশুদের জম্মগত ত্রুটি নিয়ে পিতা-মাতা যে হারে চিকিৎসকদের শরনাপন্ন হচ্ছে, এমনটি আগে লক্ষ্য করা যায়নি। সারাদেশে ব্যাপকহারে বাড়ছে শিশুর জম্মগত ত্রুটি। জন্মগত ত্রুটি মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কাজ অথবা উভয়কেই প্রভাবিত করতে পারে। শিশুর জন্মের পূর্বে, জন্মের সময়, অথবা জন্মের পর যেকোন সময়ে জম্মগত ত্রুটি দেখা দিতে পারে। বেশিরভাগ জন্মগতই ত্রুটি শিশুর জন্মের প্রথম বছরের মধ্যেই দেখা যায়। বেশ কিছু ত্রুটি সহজেই চোখে ধরা পড়ে, আবার কিছু ত্রুটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ধরা পড়ে।

আজকের বিজ্ঞানের যুগে নিয়মিত চেক আপ করালে অনেক ত্রুটি শিশু গর্ভে থাকাকালীন সময়েই নির্ণয় করা সম্ভব। জন্মগত ত্রুটির ফলে অনেক শিশু মারাও যায়। একটি শিশু যদি জন্মের সময় শারীরিক গঠন, কার্যকারিতা বা বিপাক ক্রিয়ার কোনো অস্বাভাবিকতা নিয়ে জন্মায়, তবে তার জন্মগত ত্রুটি রয়েছে বলে ধরা নেয়া হয়। দুভার্গ্যরে বিষয় হচ্ছে চিকিৎসক মায়েরাই এর বেশি শিকার হচ্ছে। কারণ, প্রথমত দুবোর্ধ্য ও কঠিন চিকিৎসা বিজ্ঞানের সব কিছু মাথায় রাখতে গিয়ে সব সময় মানসিক চাপ, এরপর কর্মক্ষেত্রের অধিক কাজের চাপ নিত্য নতুন চিকিৎসা উপকরণ ও যন্ত্রপাতির ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে গর্ভের ভ্রুণ মারত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

এই অবস্থা থেকে উত্তরণ পেতে হলে অবশ্যই প্রতিটি উন্নয়নের আগে স্বাস্থ্যগত বিষয়টি আমলে নেওয়া আবশ্যক। সেই সাথে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালসহ সকল প্রতিষ্ঠান ও কল-কারখানায় কর্মরত প্রতিটি নারী কর্মীর মাতৃত্বকালীন স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে সরকার ও কল-কারখানার মালিক পক্ষকে চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক নারী কর্মীর সুযোগ সুবিধা নিশ্চিতকরণ একান্ত প্রযোজন।

লেখক : চিকিৎসক ও কলামিস্ট/সম্পাদনা : মোহাম্মদ আবদুল অদুদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত