প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কেসিসি নির্বাচন
শরিক সংকটে আওয়ামী লীগ-বিএনপি

খুলনা প্রতিনিধি: আসন্ন খুলনা সিটি নির্বাচনকে (কেসিসি) কেন্দ্র করে শরিক নিয়ে সংকটে পড়েছে প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটগতভাবে থেকেও জাতীয় পার্টি থেকে আলাদা প্রার্থী করা হয়েছে মেয়র পদে। অন্যদিকে বিএনপির মেয়র প্রার্থীকে প্রকাশ্যে সমর্থনের কথা বলছে না জামায়াত। উল্টো তারা পাঁচ কাউন্সিলর পদে প্রার্থী দিয়েছে।

এছাড়া আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ঘর সামলাতেও সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। তারা কাউন্সিলর পদে একক প্রার্থী রাখার চেষ্টা চালিয়েও সফল হতে পারেনি। অধিকাংশ ওয়ার্ডেই তাদের একাধিক প্রার্থী রয়ে গেছে। যদিও দলের মনোনয়ন না পাওয়া নেতারা স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করছেন। কিন্তু মনোনয়ন না পাওয়া দলীয় নেতাদের প্রার্থী হওয়া নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের সম্ভাব্য বিজয়ী হওয়ার লড়াই নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে উদ্বেগ। সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

আগামী ১৫ মে খুলনা সিটি করপোরেশনে ভোট নেওয়া হবে। একই দিন ভোট হবে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও।

১৪ দলীয় জোট থেকে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়া হলেও জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী এস এম শফিকুর রহমান ওই ঘোষণা আমলে নেননি। তিনি মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। একইসঙ্গে কাউন্সিলর পদে ১৬ জাপা সমর্থিত প্রাথীও রয়েছেন নির্বাচনে । বিষয়টি জোটের অন্যতম শরিক আওয়ামী লীগের জন্য বড় ভাবনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে মেয়র পদে জামায়াতের কোনও প্রার্থী না থাকলেও পাঁচটি কাউন্সিলর পদে প্রার্থী দিয়েছে তারা। ২০ দলীয় জোট থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়া হলেও জামায়াতের পক্ষ থেকে এখনও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলা হয়নি। তারা বিএনপির কাছে পাঁচ কাউন্সিলর পদে নিশ্চয়তা চেয়েছে। তা না হলে জামায়াত প্রকাশ্যে বিএনপির পক্ষে অবস্থান নেবে না বলে জানিয়েছে।

এরপরও সোমবার (২৩ এপ্রিল) ২০ দলের বৈঠকে গঠিত ৫১ সদস্যর নির্বাচনি পরিচালনা কমিটিতে সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শাহ আলম। এ অবস্থা বিএনপির জন্যও সংকট তৈরি করেছে। তবে বিএনপি থেকে কয়েকটি ওয়ার্ড উন্মুক্ত রাখার ঘোষণার মধ্য দিয়ে সংকট সমাধানের চেষ্টা চালানো হয়েছে।

এছাড়া আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ঘর সামলাতেও সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। তারা কাউন্সিলর পদে একক প্রার্থী রাখার চেষ্টা চালিয়েও সফল হতে পারেনি। অধিকাংশ ওয়ার্ডেই তাদের একাধিক প্রার্থী রয়ে গেছে। যদিও দলের মনোনয়ন না পাওয়া নেতারা স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করছেন। কিন্তু মনোনয়ন না পাওয়া দলীয় নেতাদের প্রার্থী হওয়া নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের সম্ভাব্য বিজয়ী হওয়ার লড়াই নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, কেসিসি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এবার কঠোরভাবে সাংগঠনিক যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে মেয়র ও ৩১টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে প্রার্থী ঘোষণা করে। এর মধ্যে ১৪ দলীয় জোটের শরিক সাম্যবাদী দলের নেতা এফ এম ইকবালের স্ত্রী মোসা. হোসনেয়ারার পক্ষে সংরক্ষিত (১০ নং ওয়ার্ডে) ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে সমর্থন দাবি করা হয়েছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ সেখানে লুৎফুন নেছাকে মনোনয়ন দেয়।

মহানগর ও জেলা ১৪ দলের সদস্য সচিব জাসদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. খালিদ হোসেন জানান, তারা আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণার জন্য স্ট্যান্ডিং কমিটি গঠন করেছেন। ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় ওয়ার্ডে ১৪ দল সংঘবদ্ধভাবে প্রচার চালাবে।

জাতীয় পার্টি মনোনীত মেয়র প্রার্থী ও নগর কমিটির আহ্বায়ক মুশফিকুর রহমান বলেন,‘খুলনার ১৬টি ওয়ার্ডে জাপার কাউন্সিলর প্রার্থী রয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীরা ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় রয়েছে। কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাপা এককভাবে নির্বাচন করছে।’ তিনি বলেন, ‘১৪ দল সিদ্ধান্ত নিয়েছে সমন্বিতভাবে নির্বাচন করার। জাপা ১৪ দলের শরীক নয়। জাপা মহাজোটের শরিক। মহাজোট ওই ধরনের কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি।’

জাতীয় পার্টির জেলা সভাপতি শফিকুল ইসলাম মধু জানান, জাপা আলাদাভাবে নির্বাচনের পক্ষে। গাজীপুরে আওয়ামী লীগের পক্ষে জাতীয় পার্টি সমর্থন দিলেও খুলনায় এ ধরনের কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি বলেন, ‘খুলনায় জাতীয় পার্টির মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা প্রচারণায় মাঠে আছেন।

মহানগর আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক মাহবুবুল আলম সোহাগ জানান, ১৪ দলের সঙ্গে নির্বাচন বিষয়ে বৈঠক হয়েছে। ১৪ দল আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষেই নির্বাচনি প্রচারণায় রয়েছে।

অন্যদিকে বিএনপির মেয়র প্রার্থী নিয়ে আপত্তি না থাকলেও পাঁচটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে বিএনপির সমর্থন চেয়েছে জামায়াত। কাউন্সিলর পদে জামায়াতের এই পাঁচ প্রার্থী সমর্থন পেলেই বিএনপির মেয়র ও কাউন্সিলরদের হয়ে জামায়াত প্রকাশ্যে প্রচারণায় নামবে বলে জানিয়েছে। বিএনপি নির্বাচনে শরিক ২০ দলের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করলেও জামায়াত এখনও প্রকাশ্যে মাঠে নামেনি।

মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম জানান, ১৯৯৪ সালের সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে জামায়াত একক প্রার্থী হিসেবে গোলাম সরওয়ার প্রায় ২৮ হাজার ভোট পেয়েছিলেন। ২৪ বছরে দলীয় ভোট অনেক বেড়েছে। তিনি বলেন, পাঁচটি ওয়ার্ডে জামায়াতের কাউন্সিলর প্রার্থীকে সমর্থন জানালেই তারা বিএনপির মেয়র ও কাউন্সিলরদের পক্ষে থাকবেন।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঘরোয়া বৈঠকে দলের শরীকদের সঙ্গে কথা হয়েছে। কয়েকটি ওয়ার্ডে কৌশলগত কারণে কাউন্সিলর পদ উম্মুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। জামায়াতের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনাও হয়েছে। এছাড়া ২০ দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব জামায়াত নেতাকে করা হয়েছে। সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত