প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিএনপির হঠাৎ নড়াচড়া

আবু হোসাইন শুভ : বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনকে বেগবান করতে হঠাৎ করেই রাজপথে সরব হয়ে উঠেছে বিএনপি। ৮ ফেব্রুয়ারি চেয়ারপারসনের কারাবরণের পর মাসখানেক শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করলেও এখন গা-ঝাড়া দিয়ে উঠেছে দলটি।

গত দুই সপ্তাহ থেকে খালেদার স্বাস্থ্য নিয়ে সরকার ও বিএনপির পাল্টা-পাল্টি অবস্থান রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ নিয়ে আসে। এরই মাঝে গত দুই মাসের আন্দোলনকালীন গ্রেফতার হওয়া অধিকাংশ নেতা জামিনে বেরিয়ে আসেন। বিশেষ করে দলটির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় জেল থেকে বের হওয়ার পরই নতুন নতুন কর্মপন্থা নির্ধারণে বেশ তৎপর দেখা যাচ্ছে দলকে।

তাছাড়া দলের লন্ডন প্রবাসী নেতা তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর জোরালো অবস্থানও বিএনপিকে ভাবিয়ে তুলেছে। এ অবস্থায় দলের স্থায়ী কমিটির বেশ কয়েকটি বৈঠকে বিএনপিকে মাঠে নামানোর সিদ্ধান্ত হয় এবং দাবি আদায় পর্যন্ত মাঠে থাকার নীতিগত সিন্ধান্ত হয়। আন্দোলনকে চূড়ান্ত রূপ দিয়ে জুন পর্যন্ত মাঠে সরব থাকার চিন্তা করছে বিএনপি।

দলীয় সূত্র জানায়, কারাগারে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে উদ্বিগ্ন বিএনপি। কয়েক দিন আগে দলের তিন সিনিয়র নেতা ও আত্মীয়স্বজনকে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সাক্ষাতের সুযোগ দেয়নি কারা কর্তৃপক্ষ। এমন পরিস্থিতিতে গত শনিবার বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ৭ দিনের শান্তিপূর্ণ নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি।

পাশাপাশি সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে ইউনাইটেডসহ বিশেষায়িত কোনো হাসপাতালে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা দেয়ার দাবি জানিয়েছেন দলের দুই সিনিয়র নেতা।
এদিকে লন্ডন সফররত অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রবাসী বাঙালিদের এক অনুষ্ঠানে দন্ডপ্রাপ্ত আসামি তারেক রহমানকে দেশে ফেরত আনার কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমি ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে কথা বলেছি। যে অপরাধী সাজাপ্রাপ্ত সে কী করে এখানে থাকে? কাজেই তাকে তাড়াতাড়ি ফেরত দেন। ফেরত নেয়ার জন্য আমরা প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। যেভাবেই হোক দেশে আমরা ফেরত নেব। এমন ঘোষণায় বিএনপি নেতারা অনেকটা উদ্বিগ্ন। যদিও দলটির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য তারেকের দেশে ফেরত আনার বিষয়টিকে উড়িয়ে দিয়েছেন।

কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে প্রথমবারের মতো জোরালো বক্তব্য আসায় নতুন করে হিসাব করতে হচ্ছে বিএনপিকে। এছাড়া দেশের পাসপোর্ট ফেরত দিয়েছেন তারেক এমন তথ্য উঠে আসার পর বিএনপির পক্ষ থেকেও পাল্টা প্রমাণ চাওয়া হয়েছে। লন্ডনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের এমন তথ্যের পর গতকাল সংবাদ সম্মেলন করে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশের পাসপোর্ট ফেরত দিয়েছেন এমন তথ্য প্রমাণ থাকলে উপস্থাপন করুন।

পরে শাহরিয়ার আলম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সাংবাদিকদের কাছে পাসপোর্টের কিছু পাতা সরবরাহ করেন।
এদিকে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, তারেক রহমানকে লন্ডন থেকে ফিরিয়ে আনতে আলোচনা চলছে। গত রোববার রাজধানীর বিচার প্রশাসন ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে জেলা ও দায়রা জজ এবং সমপর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের এক প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

সরকারি দলের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, তারেক রহমান দেশে আসবেন এজন্য তো কারো ওস্তাদি করার দরকার নেই।

এদিকে তারেক রহমানের পাসপোর্ট সারেন্ডার করা হয়েছে এমন প্রমাণ দিতে তারেক রহমানের পক্ষ থেকে উকিল নোটিশ পাটানো হয়েছে প্রতিমন্ত্রীকে। তারেক রহমানের পক্ষে পাঠানো নোটিশে বলা হয়, আগামী ১০ দিনের মধ্যে প্রতিমন্ত্রীকে বক্তব্যের প্রমাণ দিতে হবে, ব্যর্থ হলে তারেক রহমানসহ জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। এছাড়া বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথাও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

আইনি নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে তারেক রহমানকে বাংলাদেশি পাসপোর্ট দেখানোর কথা বলে ক্ষমতাসীন দল থেকেও একটি সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। সে বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান গতকাল গণমাধ্যমে বলেন, ‘না, আমরা দেখাব কেন? বিতর্ক যারা তুলেছে তাদের দায়িত্ব দেখানোর যে তিনি এ দেশের নাগরিক নন বা পাসপোর্ট সারেন্ডার করেছেন। এটা তো তারা দেখাবেন, আমরা দেখাব কেন? তারা বিতর্ক তুলবেন, আমরা বিতর্কে অংশ নেব নাকি? আমাদের তো বিতর্কে অংশ নেয়ার দরকার নেই। তারা যেহেতু বিতর্কটা তুলেছেন প্রশ্নটা তাদের করেন যে, আপনারাই বিতর্ক তুলেছেন, বিএনপি তোলেনি, সুতরাং আপনারাই দেখান তারেক রহমান পাসপোর্ট সারেন্ডার করেছেন।

এর বাইরে গত রোববার দুপুরে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে মধ্য বাড্ডা এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল হয়। বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মির্জা আলমগীর বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় কারাদন্ড দেয়া হয়েছে। তিনি গুরুতর অসুস্থ। সেখানে তাকে সুচিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না। আমরা দেশনেত্রীকে মুক্তি দিয়ে তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা করার সুযোগ দেয়ার দাবি জানাচ্ছি।

এর আগে গতকাল সকালে দলের নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ৭ দিনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, আগামী ২৫ এপ্রিল ঢাকাসহ সারা দেশে মহানগর ও জেলা সদরে মানববন্ধন এবং ২৭ এপ্রিল কারাবন্দি খালেদা জিয়ার আরোগ্য কামনায় মসজিদে মসজিদে বাদ জুমা দোয়া মাহফিল করবে বিএনপি। ২২ এপ্রিল ঢাকা মহানগর উত্তর, ২৩ এপ্রিল মহানগর দক্ষিণ, ২৬ এপ্রিল ছাত্রদল, ২৮ এপ্রিল যুবদল ও ২৯ এপ্রিল স্বেচ্ছাসেবক দল সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি করবে। সূত্র : প্রতিদিনের সংবাদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত