প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আমাদের ইতিহাস ও মুজিবনগর সরকার

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে এদেশবাসীর ঘুরে দাঁড়ানোর প্রতীক ছিল মুজিবনগর সরকার। আমাদের ইতিহাসের রক্তক্ষয়ী নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধ এই মুজিবনগরের নামেই পরিচালিত হয়। এ নামটি আওয়ামী লীগের সকল কর্মী-সমর্থকের নিকট অত্যন্ত পরিচিত। অন্য দেশের সমর্থন পেতে প্রয়োজন ছিল রাষ্ট্রের রাজধানী ও সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিকতা। বঙ্গবন্ধুকে সর্বোচ্চ সম্মাণ দেখিয়ে গঠিত হয় মুজিবনগর সরকার। মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলার আম বাগানে শপথ পাঠ হয় এই সরকারের।
স্বাধীন বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার গঠন পাক বাহিনীর নৃশংসতার শিকার বাঙালিদের মনোবল বৃদ্ধি করেছিল। শাণিত করেছিল তাদের অঙ্গীকার।

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র এবং আন্তর্জাতিক মিডিয়ার মাধ্যমে সারা দেশের মানুষসহ সারা পৃথিবীর জনগণ বাংলাদেশে সামরিক জান্তার অকল্পনীয় নৃশংসতার কাহিনী মুজিবনগরের বদৌলতে জানতে পেরেছে। মুজিবনগর সরকার গঠনের কারণে বিশ্বজনমত যেমন যুদ্ধ চলমান বাংলাদেশের পক্ষে এসেছে, তেমনি দেশব্যাপী ছড়িয়ে ছিঁটিয়ে থাকা মুক্তিযোদ্ধারাও জীবন বাজি রেখে দেশ মুক্ত করার অনুপ্রেরণা পেয়েছেন, কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছিল তাদের নৈতিক মনোবল। বিশ্বের নিকট এ খবর চলে গিয়েছিল যে, বাঙালিরা দেশ স্বাধীন করার জন্য যুদ্ধ করছে, পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন বা সহিংসতা করছে না। এমন একটি সময়োপযুগী কাজ বাংলাদেশকে স্বাধীন করার ক্ষেত্রে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছিল।

তৎকালীন পাকিস্তান সরকার মুক্তিযোদ্ধাদেরকে বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে আর মুজিবনগর সরকারকে ভারতের ক্রীড়নক হিসেবে ব্যাপক প্রচারে নেমেছিল। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকারের মতোই মুজিবনগর সরকারের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর নামে পরিচালিত হওয়ায় বিশ্ববাসীর আস্থাও জন্মেছিল। পাকিস্তানের প্রচারণা ধোপে টিকেনি। তাই মুজিবনগর দিবস অনন্য মর্যাদায় অভিষিক্ত হয়েছে। মুজিবনগর সরকার গঠন ও এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ।

লেখক : স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক, নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবলীগ/সম্পাদনা: মোহাম্মদ আবদুল অদুদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত