প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ওয়াশিংটনে পৌঁছেই আমেরিকাকে সতর্ক করলেন জাভেদ জারিফ

ইরানের পররষ্ট্রমন্ত্রী মুহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ পরমাণু সমঝোতা থেকে মার্কিন সরকারের বেরিয়ে যাওয়ার হুমকির ব্যাপারে বলেছেন, তেহরান তার স্বার্থ রক্ষা করবে। তিনি আমেরিকাকে পাল্টা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ইরানের হাতেও অনেক অপশন খোলা রয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিউইয়র্ক পৌঁছে সাংবাদিকদের এ কথা বলেছেন। তিনি আরো বলেছেন, আমেরিকা যদি পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যায় তাহলে শুধু যে ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টা প্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন হবে তাই নয় একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে যা আমেরিকার জন্য মোটেও সুখকর হবে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভ্যন্তরীণ আইন অনুযায়ী পরমাণু সমঝোতার প্রতি সমর্থন দেয়া অব্যাহত রাখবেন কিনা সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণার সময় যতই ঘনিয়ে আসছে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ভয়াবহ পরিণতির ব্যাপারে বিভিন্ন মহল থেকে ততই সতর্কবার্তা দেয়া হচ্ছে ট্রাম্পকে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট হুমকি দিয়ে বলেছেন, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি যদি আগামী মে মাসের ১২ তারিখের মধ্যে পরমাণু সমঝোতায় পরিবর্তন না আনে তাহলে ওয়াশিংটন ওই সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাবে। মার্কিন সিনেটের পররাষ্ট্র সম্পর্ক বিষয়ক কিমিটির প্রধান বব কোরকার কিছুদিন আগে বলেছেন, ওয়াশিংটনের ইচ্ছা অনুযায়ী ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতায় যদি পরিবর্তন আনা না হয় তাহলে আমেরিকা চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাবে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হোয়াইট হাউজে প্রবেশের পর থেকেই পরমাণু সমঝোতা লঙ্ঘন করে চলেছেন এবং আন্তর্জাতিক এ চুক্তিকে অকার্যকর করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছেন। অথচ এ চুক্তির প্রতি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সমর্থন রয়েছে। আমেরিকা পরমাণু সমঝোতার বহু ধারা এখনো বাস্তবায়ন করেনি এবং এমনকি চুক্তি লঙ্ঘন করে অন্য দেশের সঙ্গে ইরানের বাণিজ্য সম্পর্ক বাধাগ্রস্ত করছে। আমেরিকার প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও সাবেক ইরানি কূটনীতিক হোসেন মুসাভিয়ান বলেছেন, “আমেরিকা তার প্রতিশ্রুতি পালন না করায় পরমাণু সমঝোতা এরই মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”

মার্কিন প্রেসিডেন্ট পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি দেয়ায় ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি এই চুক্তির প্রতি ট্রাম্পের সমর্থন ধরে রাখার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই তিন ইউরোপীয় দেশ পরমাণু সমঝোতার প্রতি সমর্থন জানালেও বাস্তবে তারা ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছে। ইরানের বিরুদ্ধে ইউরোপের নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘটনা এরই আলোকে মূল্যায়ন করতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের তৎপরতা এবং দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে অজুহাত করে ইউরোপ ইরানের বিরুদ্ধে ওই নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছে। এ থেকে বোঝা যায় ইরান ইস্যুতে তারা আমেরিকার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট সবসময়ই পরমাণু সমঝোকে বিপদজনক চুক্তি অভিহিত করে বলে থাকেন এতে অনেক দুর্বলতা রয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ভূমিকা ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির বিষয়টি এতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার আন্তর্জাতিক বিষয়ক রাজনৈতিক উপদেষ্টা আলী আকবর বেলায়েতি পরমাণু সমঝোতার ব্যাপারে ইউরোপ ও আমেরিকার নীতি সম্পর্কে বলেছেন, “তারা মনে করছে পরমাণু সমঝোতার মাধ্যমে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করা যাবে।”

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, পরমাণু সমঝোতার ব্যাপারে আমেরিকা ও ইউরোপের আচরণে প্রমাণিত হয়েছে এ ব্যাপারে তারা সবাই একজোট হয়েছে এবং ক্ষেপণাস্ত্র, প্রতিরক্ষা ও আঞ্চলিক নানা ইস্যুতে ইরানের ওপর চাপ বাড়িয়েছে। কিন্তু ইরান পাশ্চাত্যকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজের স্বাধীন নীতি বজায় রেখেছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের শক্তিশালী ভূমিকার কারণে এ অঞ্চলে বৃহৎ শক্তিগুলোর সব ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়ে গেছে এবং এ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য ইরানের অবদান অনস্বীকার্য।পারস

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত