তাজা খবর



বাংলাদেশের পরিকল্পনা কৌশল নির্মাণে বিবেচনার কয়েকটি বিষয়

আমাদের সময়.কম
প্রকাশের সময় : 14/02/2018 -11:01
আপডেট সময় : 14/02/ 2018-11:02
 ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ : পরিকল্পনা কমিশনের বিল বোর্ডে কমিশনকে ইদানিং পরিচয় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে, ‘যেখানে আপনার একটি স্বপ্ন আছে’। সেই স্বপ্নের স্বরূপ সন্ধান করে জনগণের কাছে কমিশনকে আরও অর্থবহ করে তোলা যায়। পরিকল্পনার দর্শন স্বচ্ছ ও সাবলিল হলে এর সাফল্য অর্জন তথা বাস্তবায়ন কার্যকর হয়।

বাংলাদেশের পরিকল্পনা কৌশল নির্মাণে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক, ভৌগলিক, বিশেষ করে এর রাজনৈতিক অর্থনীতির বৈশিষ্টসমূহের বিবেচনা বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্যÑ সমতটের এই ভূখ- ভৌগলিক অবস্থানগত কারণে প্রকৃতির মিশ্র সহযোগিতাপ্রাপ্ত একটি দেশ। কর্কট ক্রান্তি রেখার ওপর বাংলাদেশের অবস্থান হয়েও মাথার ওপর হিমালয় পর্বত এবং পায়ের নিচে বঙ্গোপসাগর থাকায় বাংলাদেশ মরুভূমি নয় বরং মৌসুমী বায়ুম-ল ও নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া বলয়ের কারণে সুজলা-সুফলা। প্রকৃত অর্থে ‘এমন দেশটি (অন্য) কোথাও খুঁজে পাওয়ার নয়। ছিলও না। এ কারণেই দেশটির প্রতি বিদেশি বর্গী, হার্মাদ, হায়েনার আধিপত্যের আকাক্সক্ষা অতীতে প্রবল ছিল তো বটেই, হাজার বছরের ঔপনিবেশিক শাসন তার প্রমাণ।

দুই. গাঙ্গেয় বদ্বীপ বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগরের বিচিত্র খেয়ালেরও শিকারÑ বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, সিডর, আইলা, গোর্কির গোলকধাঁধায় এর জীবনায়ন অর্জনে ঘটে থাকে নানান দুর্বিপাক। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে  জলবায়ুর পরিবর্তন আর পরিবেশ দূষণের কবলে পড়ে হিমালয়ও এখন এদেশটির জন্য আশীর্বাদের পরিবর্তে ক্রমশ হয়ে উঠছে অকাল বন্যা আর খরার কারণ। এসবের প্রভাবে এদেশের জনগণ, তাদের মূল্যবোধ, কর্মস্পৃহা এবং জীবনযাত্রাও প্রকৃতির এই মিশ্র স্বভাবসিদ্ধ। এদেশের জনগণ সরলমনা, ভাবুক, কিছুটা পরিশ্রমী এবং অল্পে তুষ্ট। শারীরিক গঠন  ও খাদ্যাভাসের কারণে কঠোর ও দীর্ঘস্থায়ী কায়িক পরিশ্রমে অপারগ এদেশের জনগণ প্রকৃতির খেয়াল-খুশির ওপর একান্তভাবে নির্ভরশীল। সঞ্চয়ের অভ্যাস তাই কম। এদেশের অর্থনীতিও তাই প্রকৃতির এই মিশ্র স্বভাবে প্রভাবিত।

তিন. বাংলাদেশের সমাজ ও অর্থনীতি রাষ্ট্রীয় সীমানা ভূ-রাজনৈতিক অবকাঠামো অবস্থানের দ্বারাও বিশেষভাবে প্রভাবিত। বাংলাদেশের শতকরা ৭৫ ভাগ সীমান্ত ভারতীয় উন্মুক্ত ভূমি, নদী ও পাহাড়ে পরিবেষ্টিত,  ৫ ভাগ সীমান্ত মিয়ানমারের সাথে পাহাড়ি পথ এবং  বাকি ২০ ভাগ সীমান্ত বিশ্বের সেরা ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবনসহ সমুদ্র উপকূল-বঙ্গোপসাগর বিধৌত।

চার. বাংলাদেশের অর্থনীতি কৃষি প্রধান। বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের শতকরা ২৯ ভাগ আসে কৃষি ও তদসংশ্লিষ্ট খাত থেকে। সমতল ভূমির মোট জমির শতকরা ৯২ ভাগ ব্যবহার হয় কৃষিকাজে আর কৃষিকে অবলম্বন করে জীবিকা নির্বাহ করে শতকরা ৬৪ ভাগ মানুষ। কৃষিখাতে দেশের সিংহভাগ ভূমি ব্যবহৃত এবং এ খাতেই কর্মসংস্থানের অন্যতম উৎস। এ প্রেক্ষিতে কৃষি ব্যবস্থাকে আধুনিকীকরণ, উচ্চ ফলনশীল শস্যের উৎপাদনে সহায়তাকারী বীজ, উপকরণ, সার ইত্যাদি সরবরাহ, কৃষককে সহজ শর্তে মূলধন জোগান এবং তার উৎপাদিত পণ্য ন্যায্য মূল্যে বিপণন ব্যবস্থা তদারকি করে কৃষি ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা এবং কৃষি গবেষণা, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ কার্যক্রম জোরদার করণের মাধ্যমে কৃষিকেই দেশের জিডিপির অন্যতম জোগানদাতা হিসেবে পাওয়া যেতে পারে। একই সাথে  কৃষিনির্ভর শিল্প প্রতিষ্ঠা এবং কৃষির উন্নয়নকামী পদক্ষেপ; নদীমাতৃক দেশে পানি সম্পদের সদ্ব্যবহার এবং নদী শাসন ও নৌযোগাযোগ; জনবহুল জনপদের জনশক্তিকে সম্পদে রূপান্তর এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দেশীয় কাঁচামাল এর উপযুক্ত ব্যবহার নিশ্চিত করে দেশজ সম্পদের সমাহার ঘটিয়ে উন্নয়ন উদ্যোগ গ্রহণে স্থানীয় সঞ্চয়ের বৃদ্ধি ও বিনিয়োগ, ব্যক্তি তথা বেসরকারি খাতের বিকাশ, বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প সম্ভাবনার বিকাশ বাংলাদেশের অর্থনীতি উন্নয়নের অন্যতম, বাঞ্ছিত ও কাক্সিক্ষত উপায়।

পাঁচ. দেশীয় শিল্প সম্ভাবনাকে উপযুক্ত প্রযতœ প্রদানের মাধ্যমে স্বয়ম্ভর শিল্পভিত্তি গড়ে তোলা সম্ভব। দেশজ কাঁচামাল ব্যবহার দ্বারা প্রয়োজনীয় ফিনিশড্ প্রডাক্ট তৈরিতে দেশের শিল্পখাতকে সক্ষম করে তুলতে পারলেই বিদেশি পণ্যের উপর আমদানি নির্ভরতা তথ্য মহার্ঘ্য বৈদেশিক মুদ্রায় আমদানি ব্যয় হ্রাস পাবে। শিল্প ব্যবসা-বাণিজ্যে বিনিয়োগে আর বৈদেশিক সাহায্যের ব্যবহারে আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে প্রত্যাশিত অগ্রগতির হিসাব সংক্রান্ত তুলনামূলক সারণিগুলোর সাথে বিশ্ব অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অবস্থান ও সম্পর্কের শুমার এবং বিশ্লেষণ করলে বাংলাদেশ অর্থনীতির অগ্রগতি ও গতিধারা সনাক্তকরণে অসুবিধা হয় না।

ছয়. বুদ্ধি ও বিবেচনা প্রয়োগ করে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তা বাস্তবায়নে চাই আন্তরিক ও নিরবচ্ছিন্ন প্রয়াস। সীমাবদ্ধ দৃষ্টিভঙ্গি কিংবা ঠুনকো কার্যকরণকে উপলক্ষ করে নেওয়া পদক্ষেপ দীর্ঘস্থায়ী ফল বয়ে আনে না। শুধু নিজের মেয়াদকালে বাস্তবায়নযোগ্য পদক্ষেপ ও কার্যক্রম গ্রহণ করলে, ধারাবাহিকতার দাবিকে পাশ কাটিয়ে ইতোপূর্বে গৃহীত কার্যক্রমকে ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখার রেওয়াজ শুরু হলে টেকসই উন্নতির সম্ভাবনা সীমিত হয়ে পড়ে। জাতীয় ঊন্নয়ন পরিকল্পনার জন্য দূরদৃষ্টি রূপকল্প প্রণয়নকারীর, প্রগাঢ় প্রতিশ্রুতি ও দৃঢ়প্রত্যয় প্রয়োজন।

লেখক : সরকারের সাবেক সচিব ও এনবিআর-এর সাবেক চেয়ারম্যান

এক্সক্লুসিভ নিউজ

আজ মহান একুশে ফেব্রুয়ারি

হুমায়ুন কবির খোকন : আজ বুধবার মহান ২১ ফেব্রুয়ারি মহান... বিস্তারিত

মিয়ানমারে ফসলের গুদাম তৈরি করে দেবে ইসরাইল

সাইদুর রহমান : মিয়ানমারের মান্দালে এলাকায় কৃষকদের ফসল সংরক্ষণের জন্য... বিস্তারিত

আওয়ামী লীগ কোয়ালিটি এডুকেশনের বিরোধী : বিএনপি

শাহানুজ্জামান টিটু : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া... বিস্তারিত

১০ হাজার কনস্টেবল নিয়োগে স্বচ্ছতা চায় সদর দফতর

ডেস্ক রিপোর্ট : সারা দেশে ১০ হাজার পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগে... বিস্তারিত

রায়ের পাঁচ ভাগের চার ভাগই অবান্তর: ব্যারিস্টার মওদুদ (ভিডিও)

ডেস্ক রিপোর্ট: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় পড়ে অবাক... বিস্তারিত

দু’বিলে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন
আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধের শাস্তি ৭ বছর

আসাদুজ্জামান সম্রাট : রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ চলতি দশম জাতীয়... বিস্তারিত





আজকের আরো সর্বশেষ সংবাদ

Privacy Policy

credit amadershomoy
Chief Editor : Nayeemul Islam Khan, Editor : Nasima Khan Monty
Executive Editor : Rashid Riaz,
Office : 19/3 Bir Uttam Kazi Nuruzzaman Road.
West Panthapath (East side of Square Hospital), Dhaka-1205, Bangladesh.
Phone : 09617175101,9128391 (Advertisement ):01713067929,01712158807
Email : editor@amadershomoy.com, news@amadershomoy.com
Send any Assignment at this address : assignment@amadershomoy.com