প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

৩৫৪ আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স অবৈধ

ডেস্ক রিপোর্ট : রংপুরের জেলা প্রশাসকের সই জাল করে দেশের উত্তরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান করা চক্রকে পুরোপুরি শনাক্ত করেছে তদন্ত সংস্থা। তদন্তের এ পর্যায়ে ৩৫৪টি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স অবৈধ বলে প্রাথমিক বিশ্লেষণে ধরা পড়েছে। জব্দ করা এসব আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান হোতা হিসেবে কাজ করেছিলেন রংপুরের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের জেএম শাখার কর্মকর্তা সামসুল ইসলাম। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন। তাকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদের পর এ সংক্রান্ত চাঞ্চল্যকর অনেক তথ্যই পাওয়া গেছে। কিন্তু তদন্তের স্বার্থে উল্লেখযোগ্য এবং স্পর্শকাতর কিছু বিষয় গোপন রেখেছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, সময় হলে থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়বে। নেপথ্যে কারা কারা জড়িত এ বিষয়ে প্রস্তুত করা প্রতিবেদনে সবকিছুই রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, জব্দ করা আগ্নেয়াস্ত্র ও লাইসেন্স অবৈধ বলে ইতোমধ্যে চিহ্নিত হয়েছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত তথ্য জানতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) রংপুরের সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে রংপুরের জেলা প্রশাসন দফতরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সম্প্রতি পাঠানো চিঠিতে জব্দ করা ৩৫৪টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং এর লাইসেন্সগুলো যে অবৈধ এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন চাওয়া হয়। জেলা প্রশাসন থেকে দুদকে চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিবেদন পাঠানোর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে। তবে সূত্রটি জানায়, এরই মধ্যে বিশ্লেষণ করে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা এসব আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স অবৈধ তালিকার আওতায় এনেছেন।
এ ছাড়া যেসব প্রতিষ্ঠান আগেয়াস্ত্র সরবরাহ করেছে তাদেরকেও তদন্তের আওতায় আনা হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন কর্মকর্তারা। কারণ ভুয়া লাইসেন্সের বিপরীতে অস্ত্র বিক্রি করা প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো ধরনের যাচাই বাছাই ছাড়া অস্ত্র বিক্রি করেছে। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান তাদের দায় দায়িত্ব এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।
সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, নয়টি প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা গেছে। যাদের সঙ্গে পুরোচক্রের যোগসূত্র আছে। মিলেমিশে এরা দীর্ঘদিন ধরে অপকর্ম করে যাচ্ছে। বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জানানো হবে। একইসঙ্গে জড়িত এবং দায়িত্বহীনতার পরিচয় দেয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হবে।

এদিকে রংপুরে জেলা প্রশাসকের সই জাল করে অবৈধভাবে অস্ত্রের লাইসেন্স প্রদানকারী চক্রের হোতা সামসুলের সহযোগীদের চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানান এক কর্মকর্তা। তিনি বলেন, তালিকায় ইতোমধ্যে ৩৫৪টি আগ্নেয়াস্ত্রকে অবৈধ হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও আরো ৭৩টি আগ্নেয়াস্ত্র সংক্রান্ত বিষয়ে জটিলতা রয়েছে। এর মধ্যে ২৭ জন আদালতে রিট করেছেন। বাকি ৪৬টি আগ্নেয়াস্ত্রের মালিক এখনো জমা দেননি অস্ত্র ও লাইসেন্স। অনেকে ভুয়া নাম ঠিকানায় লাইসেন্স করায় তাদের চিহ্নিত করতে একাধিকার চিঠি দেয়া হয়েছে। কেউ কেউ নাম ঠিকানা ভুয়া দেয়ায় তাদের চিহ্নিত করতে আসামি সামসুলের তথ্য কাজে লাগানো হচ্ছে।
জানা যায়, কত টাকার বিনিময়ে কার কার হাত হয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে আগ্নেয়াস্ত্র গেছে সে বিষয়ে প্রতিবেদনে তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। একটি আগ্নেয়াস্ত্রের বিপরীতে ৫ লাখ থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া তদন্তে জেলা প্রশাসকের জুডিসিয়াল মুন্সিখানা (জেএম) শাখায় যারা বিভিন্ন দায়িত্বে ছিলেন তাদের বিষয়ে তথ্য আছে। জেএম শাখার কর্মকর্তা সামসুল ইসলামের সঙ্গে তার সহযোগী সরকারি সংস্থার সাবেক সদস্য আবদুল মজিদের একটি চক্রকে শনাক্ত করেছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপর এক কর্মকর্তা বলেন. সামসুল ও মজিদের বাড়ি থেকে উদ্ধার নথিপত্র ঘেঁটে যেসব তথ্য উদ্ধার করা হয়েছে, তা অনুসন্ধান এবং তদন্তে কাজে লাগছে।
তদন্তানুসন্ধানে জানা গেছে, বহুদিন আগ থেকে এই অপকর্ম করে আসছিলেন সামসুল। আর জব্দ করা অবৈধ লাইসেন্সগুলোর বেশিরভাগে সাল উল্লেখ করা হয়েছে ১৯৯২, ৯৩, ৯৪ ও ৯৫। আবার আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সের বিপরীতে অস্ত্র কেনা হয়েছে আরো অনেক পরে। কাগজপত্র খতিয়ে দেখা যায়, অস্ত্রগুলো ২০১৬ থেকে ২০১৭ সালের মে মাস পর্যন্ত কেনা হয়েছে।

কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, আইন অনুযায়ী আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স গ্রহণের পাঁচ বছরের মধ্যে অস্ত্র না কিনলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই লাইসেন্স বাতিল হয়ে যায়।

উল্লেখ্য, রংপুরের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের জেএম শাখার কর্মকর্তা সামসুল ইসলামকে গত বছরের ৫ জুলাই গ্রেফতার করে র‌্যাব। ভুয়া আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স প্রদান করা বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওযায় ১৮ মে রংপুরের কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের হয়। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা অমূল্য চন্দ্র রায় বাদী হয়ে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। অবৈধ অর্থ উপার্জনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুদকের পক্ষেও আরেকটি মামলা করা হয়। মানবকণ্ঠ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত