প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘যোগ্য নেতৃত্ব তৈরিতে ডাকসুসহ সব বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচন অনস্বীকার্য’

খন্দকার আলমগীর হোসাইন : সরকার ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠানে আন্তরিক নয়। নির্বাচনের শর্ত হলো, সব ছাত্র সংগঠনের সহ-অবস্থান। এখানে সহ-অবস্থান নেই। ছাত্রলীগ কোনো ছাত্র সংগঠনকে মূল্যয়ন করছে না। সব ক্ষেত্রে ছাত্রলীগ আধিপত্য বিস্তার করছে। ছাত্রলীগের অপকর্মে জাতি স্থম্ভিত। ডাকসু নির্বাচন হলে নতুন নেতৃত্ব বেরিয়ে আসবে। যোগ্য নেতৃত্ব তৈরির জন্য ডাকসুসহ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নির্বাচন অস্বীকার্য। সরকারের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে জরুরি ভিত্তিতে ডাকসু নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। আমাদের অর্থনীতির সাথে আলাপকালে ডাকসুর সাবেক জিএস  ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন এসব কথা বলেন।

তিনি আরও  বলেন, আমাদের জন্য দুর্ভাগ্য, দীর্ঘ ২৭ বছর ডাকসু নির্বাচন করতে পারিনি। সামগ্রিকভাবে সবারই কমবেশি ব্যর্থতা রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সার্বজনীন ইতিহাস রয়েছে। ডাকসুর নেতৃত্বে ৫২-্এর ভাষা আন্দোলন, ৬৯-এর গণঅভুত্থান, স্বাধীনতা যুদ্ধ, দেশে যতগুলো গণতান্ত্রিক আন্দোলন হয়েছে সবগুলোর সাথে ডাকসুর নেতৃত্বের অবদান ছিল। সর্বশেষ আমরা ডাকসুর নেতৃত্বে ৯০-এর সামরিক স্বৈরশাসক এরশাদ বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলে পতন ঘটিয়েছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, সরকার, সরকারি ছাত্রসংগঠন, বিরোধী ছাত্রসংগঠন সবাইকে নিয়ে ঐক্যমতের ভিত্তিতে একটা সুন্দর সুষ্ঠু সহ-অবস্থানের ভিত্তিতে ডাকসু নির্বাচন করতে হবে।

এক সময়ের ডাকসুর তুখোড় এই নেতা আরও বলেন, বর্তমানে ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করছে। বিরোধী মতের কোনো ছাত্রকে তারা সহ্য করতে পারছে না। ক্যাম্পাসে তাদের পদচারণা করতে দিচ্ছে না। রাজনীতির ব্যানারে তারা ভর্তি বাণিজ্য, টেন্ডারাবাজি, চাঁদাবাজি, মাস্তানি, নারী নির্যাতন ও যৌন হয়রানিসহ এমন কোনও অপরাধ নেই যে তারা করছে না। তারা যত রকম অপকর্ম করছে তা প্রতিদিন আমাদের জাতীয় দৈনিকগুলোয় প্রকাশ পাচ্ছে। তাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে এই পর্যন্ত ৮৭ জনকে জীবন দিতে হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় প্রায় ৭০০ বার সংঘাত হয়েছে। বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজগুলো তাদের কারণে বন্ধ হয়েছে। ছাত্রলীগের হাত থেকে শিক্ষক পর্যন্ত রেহাই পাচ্ছে না।

তিনি বলেন, আজকে ডাকসু নির্বাচন না হওয়ার কারণে ছাত্রলীগ অপকর্ম করার সুযোগ পাচ্ছে। ডাকসু নির্বাচন হলে সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অপকর্মগুলো হতো না। তারা যে অপকর্ম করেছে, নির্বাচন হলে ছাত্রলীগের ভরাডুিব হবে তাই ডাকসু নির্বাচন চাচ্ছেন না। প্রত্যেকটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগ একছেঁটিয়া আধিপত্য বিস্তার করছে, অন্য ছাত্র সংগঠনকে সুযোগ না দেয়ার করণে সুষ্ঠু রাজনীতির চর্চা হচ্ছে না। সরকার তাদের অবৈধ ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার জন্য এসব করছে। ছাত্রলীগ এই পর্যন্ত একদিনও ডাকসুর নির্বাচন উত্থাপন করেনি।

তিনি বলেন, বাম ছাত্র সংগঠনগুলো আন্দোলন করেছে। আশরাফ নামে একটা ছেলে ১৫ দিন অনশন করতে হয়েছে। অনশন করার প্রেক্ষিতে আমাদের জাতির টনক নড়েছে। গণমাধ্যমগুলো তা প্রকাশ হয়েছে। তাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে নির্বাচন হবে। কিন্তু সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ দেয়নি। সর্বশেষ উচ্চ আদালত থেকে রায় এসেছে আগামী ছয় মাসের মধ্যে ডাকসু নির্বাচনের পদক্ষেপ নিতে। আদৌ সে নির্বাচন হবে কিনা? সে বিষয়ে সন্দেহ থেকেই গেলো।

তিনি বলেন, সাতটি কলেজকে অধিভুক্তি করার বিরোধিতা করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা যে সাংবিধানিক আন্দোলন করছিল সে আন্দোলনে ছাত্রলীগ সরকারের লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে এবং ছাত্রীদের যৌন হয়রানি করেছে। তাদের উচিত ছিল, তাদের দাবির সাথে একাত্মতা ঘোষণা করা। সারাদেশে নিজের স¦ার্থের জন্য দ্বন্ধ-সংঘাত করেই আসছে। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বিঘিœত হচ্ছে। তাই ডাকসু নির্বাচনের জন্য আমাদের জাতীয়ভাবে একটা আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত