প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আদালতে খালেদা জিয়া, যুক্তিতর্ক চলছে 

মাঈন উদ্দিন আরিফ: দুর্নীতির দুই মামলায় হাজিরা দিতে আদালতে পৌঁছেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) বেলা সোয়া ১১টায় রাজধানীর গুলশানের বাসভবন থেকে রওয়ানা হয়ে ১২টায় বকশীবাজারে কারা অধিদফতরের প্যারেড মাঠে স্থাপিত ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতে হাজির হন বিএনপি চেয়ারপারসন।

খালেদা জিয়াসহ অপর দুই আসামি শরফুদ্দিন আহমেদ ও কাজী সালিমুল হক কামাল আদালতে উপস্থিত হলে বেলা পৌনে ১২টায় ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামান বিচারিক কার্যক্রম শুরু করেন।

এদিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন শেষ হলেও টানা তৃতীয় দিনের মতো অপর আসামি সরফুদ্দিন আহমেদের পক্ষে যুক্তি-তর্ক শুনানি করছেন তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আহসান উল্লাহ।

সরফুদ্দিনের পক্ষে শুনানি শেষ হলে শুরু হবে আরেক আসামি কাজী সালিমুল হক কামালের পক্ষে যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় প্রধান আসামি খালেদা জিয়াসহ ৬ আসামির মধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান পলাতক রয়েছেন।

কাজী সালিমুল হক কামালের পক্ষে যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন শেষ হলে যুক্তি খণ্ডনের সময় পাবে রাষ্ট্রপক্ষ। তারপরই রায়ের দিন ধার্য করবেন আদালত।

এর আগে বুধবার পুরান ঢাকার বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসায় স্থাপিত বিশেষ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান বলেন, পূর্ব নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার যুক্তিতর্ক চলবে। ম্যাডাম জামিনে থাকবেন পরবর্তী তারিখ পর্যন্ত। কাল (বৃহস্পতিবার) মামলার পরবর্তী তারিখ ঘোষণা করা হবে।

মঙ্গলবার বিএনপি প্রধানের যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। এদিন তার পক্ষে যুক্তিতর্ক শেষ করেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।

বুধবার ওই মামলার অপর আসামি ব্যবসায়ী শরফুদ্দিনের পক্ষে তার আইনজীবী আহসান উল্লাহ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। বৃহস্পতিবারও তার যুক্তিতর্ক চলবে।

খালেদা জিয়ার হাজিরা ঘিরে আদালত ও এর আশপাশের এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে। বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া আদালতের প্রধান ফটকে স্ক্যানার বসিয়ে তল্লাশি করে ভেতরে ঢোকানো হচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) ওই দুই মামলার পরবর্তী তারিখ ১৬, ১৭ ও ১৮ জানুয়ারি ধার্য করা হয়। পুরান ঢাকার বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসায় স্থাপিত বিশেষ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান এ দিন ধার্য করেন।

মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

পরে ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন— খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী (পলাতক), হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএর সাবেক নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।

এ ছাড়া জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় অপর একটি মামলা করে দুদক।

২০১০ সালের ৫ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

মামলায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়া বাকি আসামিরা হলেন— মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত