প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শাহজালালের চোখ তুলল কে?

ডেস্ক রিপোর্ট : পুলিশি হেফাজতে মো. শাহজালাল ওরফে শাহজামাল নামের এক যুবকের দুই চোখ তুলে ফেলার অভিযোগ তদন্ত করে পুলিশের কোনো সংশ্নিষ্টতা পায়নি পিবিআই।

গত মঙ্গলবার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক মো. বাবলুর রহমান মহানগর হাকিম মো. শাহীদুল ইসলামের আদালতে এ-সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। ক্ষুব্ধ পরিবারের প্রশ্ন তাহলে শাহাজালালের চোখ তুলল কে?

পিবিআইর প্রতিবেদনে বলা হয়, খুলনার গোয়ালখালী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ছিনতাইয়ের সময় ধরা পড়ে গণধোলাইয়ে শাহজালালের দু’চোখই নষ্ট হয়েছে। তদন্তে কে বা কারা তার দু’চোখ নষ্ট করার সঙ্গে জড়িত তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

সমকাল’র তথ্যমতে, শাহজালালের বাবা পিবিআইর এ তদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার বাবা জাকির হোসেন বলেন, পুলিশের সম্পর্কে পুলিশের করা ওই তদন্ত প্রতিবেদনে তারা আস্থা খুঁজে পাচ্ছেন না। তাই আগামী শুনানির দিন তারা এ তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজির আবেদন করবেন। সঠিক প্রতিবেদন পেতে বিচার বিভাগীয় তদন্তের আবেদনও করা হবে।

প্রতিবেদনটিকে ‘কাল্পনিক’ আখ্যা দিয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা খুলনা জেলা সমন্বয়কারী মো. মোমিনুল ইসলাম জানান, তারা এটি প্রত্যাখ্যান করছেন। চোখ ওঠানোর আগেই শাহজালালকে নিয়ে পুলিশ খালিশপুর ক্লিনিকে গিয়েছিল, সিসি ক্যামেরায় সে ফুটেজও পাওয়া গেছে।

ওই মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- খালিশপুর থানার ওসি নাসিম খান, এসআই রাসেল, এসআই সেলিম মোল্লা, এসআই মিজান, এসআই মামুন, এসআই নূর ইসলাম, এএসআই তাপস রায়, এএসআই সৈয়দ সাহেব আলী, আনসারের নায়েক রেজাউল, ল্যান্স নায়েক আবুল হোসেন, সিপাহি আফসার আলী (তারা সবাই খালিশপুর থানায় কর্মরত), ৬১/১, পুরাতন যশোর রোডের শুকুর আহম্মেদের মেয়ে সুমা আক্তার ও শিরোমনি বাদামতলা এলাকার লুৎফর হাওলাদারের ছেলে রাসেল।

সমকাল’র প্রতিবেদনে মামলার উদ্ধৃতি দিয়ে অ্যাডভোকেট মোমিন জানান, গত ১৮ জুলাই রাত ৮টায় মো. শাহজালাল নগরীর নয়াবাটি রেললাইন বস্তি কলোনিতে শ্বশুরবাড়িতে অবস্থানকালে তার শিশুকন্যার দুধ কিনতে বাসার পাশের দোকানে যান। খালিশপুর থানার ওসি নাসিম খানের নির্দেশে কৌশলে তাকে থানায় ডেকে নেওয়া হয়। তার ফিরতে দেরি হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজ নিতে থানায় যান। তখন ওসি তাকে ছাড়ানোর জন্য দেড় লাখ টাকা দাবি করেন। না হলে তাকে হত্যার হুমকিও দেন। ওই টাকা দিতে না পেরে স্বজনরা থানার সামনে অপেক্ষা করতে থাকেন।

ওই দিনই রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ কর্মকর্তারা শাহজালালকে পুলিশের গাড়িতে করে বাইরে নিয়ে যায়। রাতে তাকে আর থানায় আনা হয়নি। ১৯ জুলাই ভোর সাড়ে ৫টায় স্বজনরা থানায় গিয়ে জানতে পারেন, শাহজালাল নামে কেউ সেখানে নেই। অনুসন্ধানকালে তারা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তৃতীয় তলায় ১০-১১নং ওয়ার্ডের বারান্দায় শাহজালালকে দুই চোখ উপড়ানো অবস্থায় পান।

এ সময় স্ত্রী ও শাশুড়িসহ অন্যদের শাহজালাল জানান, পুলিশ কর্মকর্তারা তাকে গাড়িতে করে বিশ্বরোডের (খুলনা বাইপাস সড়ক) নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে তার মুখের মধ্যে গামছা ঢুকিয়ে স্টূ্ক্র ড্রাইভার দিয়ে চোখ দুটি উপড়ে ফেলে তারা। পরে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেখে আসে।

শাহজালালের দুটি চোখই নষ্ট হয়ে গেছে। পরে পুলিশ শাহজালালের বিরুদ্ধে খালিশপুর থানায় ছিনতাই মামলা করে গ্রেফতার দেখায়। শাহজালালের মা রেণু বেগম বাদী হয়ে গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বর মুখ্য মহানগর হাকিমের আমলি আদালতে মামলা করেন। পরে ১৭ সেপ্টেম্বর এ মামলার তদন্তভার পিবিআইকে দেওয়া হয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত