প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এত কাছে জঙ্গি আস্তানা কেন?

আশিক রহমান : রাজধানীতে জঙ্গি আস্তানায় র‌্যাবের অভিযানে তিন জঙ্গি নিহত হয়েছে। গত শুক্রবার ভোরে ১৩/১ পশ্চিম নাখালপাড়া ‘রূবি বিলা’ নামের ছয়তালা এ ভবনে অভিজান চালানো হয়।প্রধানমন্ত্রির কার্যালয়ের পেছনের সীমানার প্রাচীর থেকে মাত্র ১১৩ কদম দূরে এবং পাশ্ববর্তী পুরোনো এমপি হোস্টেলের সীমানা প্রচীরের ঠিক পেছনে ভবনটির অবস্থান। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এত কাছে কিভাবে জঙ্গি আস্তনা গড়ে উঠলো, নিরাপত্তা বাহিনি কি করলো জানতে চাইলে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা তাদের অভিমত দিয়েছেন।

উদ্বেগ ও শঙ্কা থাকলেও ইন্টেলিজেন্স ভালো কাজ করছে

দেশে জঙ্গি তৎপরতা আছে, অ্যাকশনও নেওয়া হচ্ছে। অ্যাকশন নেওয়া বন্ধ হয়ে যায়নি, জঙ্গিও শেষ হয়ে যায়নি। ইন্টেলিজেন্স এখন ভালো কাজ করছে। যে কারণে জঙ্গিরা যেখানেই থাকুক তারা খবর পাচ্ছে। উচ্চ নিরাত্তা বলয়ের মধ্যে থাকেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। তার কার্যালয়ের আশেপাশে এ ধরনের জঙ্গি আস্তানা কিছুটা হলেও শঙ্কা তৈরি করে। কিন্তু জঙ্গিরা তো পার পেয়ে যাচ্ছে না। এটা একটা ভালো দিক। হয়তো তারা (জঙ্গিরা) মাত্রই এসেছিল ওই এলাকায়।

আমাদের অর্থনীতির সঙ্গে আলাপকালে নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রি. জে. এম সাখাওয়াত হোসেন (অব.) আরও বলেন, খবর পেলাম, আর বের হয়ে চলে গেলাম অনেক সময় এমনটা তো হয় না। জঙ্গিদের গতিবিধি দেখতে হয়। এছাড়া এটা একটা পাবলিক প্লেস। নিশ্চয়ই জঙ্গিরা নজরদারিতে ছিল। এর ফলেই এত তাড়াতাড়ি নিরাপত্তা বাহিনী অ্যাকশন নিতে পারছে। তবে এটা তো উদ্বেগের বিষয়ই। কারণ এত নিরাপত্তা বলয় যে এলাকায় তার আশেপাশে জঙ্গিরা কতদিন ধরে ছিল এ বিষয়ে পুরো তথ্য না পেলে তো বলা মুশকিল।

এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমার মনে হয় না এখানে নিরাপত্তা বাহিনীর কোনো গাফলতি বা ব্যর্থতার জায়গা আছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত না জেনে গাফলতি বা ব্যর্থতার কথা বলতে পারব না। কারণ ঘনবসতিপূর্ণ একটা দেশে চার-পাঁচজন লোক কোনো বাড়িতে থাকতেই পারে। অনেক বহুতল বিল্ডিং। অনেক সময় আশেপাশে কে থাকে তাও জানি না। পাশের বিল্ডিংয়ে কে থাকেন তাদেরও তো কেউ খবর নিই না। ১৭ কোটি মানুষের দেশ, ২ কোটি মানুষের শহরÑ খুব ডিফিকাল্ট বোঝা কে কেমন।

তিনি বলেন, আমি মনে করি, আমাদের প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা যথেষ্টই আছে। সেখানে এমন কোনো শঙ্কার কারণ নেই। যদি এমন পাবলিক ফিগার হোন তাদের নিরাপত্তা যতই থাকুক না কেন তা যথেষ্ট হয় না। কারণ নানান ধরনের হুমকি থাকে তাদের উপর।

 

অভ্যন্তরীণ রাজনীতি থেকে জঙ্গিবাদের মদদ আসে

যারা জঙ্গি তারা তো চেষ্টা করবে যে তাদের কার্যকলাপ বা হামলা করে নিজেদের প্রকাশ করতে। নিজেদের প্রকাশ করতে না পারলে সংগঠনকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে না তারা। সেজন্য সব সময় বিভিন্ন ধরনের পরিকল্পনা করার চেষ্টা করে থাকে। এক্ষেত্রে আমরা দেখতে পেয়েছি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের খুব সন্নিকটে, লোকাল বলয়ের মধ্যে এরকম একটা ঘাঁটি বা আস্তানা গড়েছে। সেটা স্বভাবতই সব মানুষের মধ্যে একটা শঙ্কা তৈরি করেছে যে, এমন জায়গায় তারা কেমন করে ঘাঁটি গাড়ল।

আমাদের অর্থনীতির সঙ্গে আলাপকালে মে. জে. আব্দুল রশিদ (অব.) আরও বলেন, জঙ্গি আস্তানাটি র‌্যাবই খুঁজে বের করেছে। এবং তা গুঁড়িয়েও দিয়েছে। জঙ্গি দমনে নিরাপত্তা বাহিনী ভালো কাজ করছে, এর ফলেই হলি আর্টিজান বা শোলাকিয়ার হামলার পরে তেমন কোনো হামলার ঘটনা দেখিনি আমরা। মানুষের জীবনের নিরাপত্তা, জঙ্গিবাদ বিরোধী অভিযানগুলো সফলতা পাচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনীর আন্তরিক প্রচেষ্টার ফলে।

মে. জে. আব্দুল রশিদ (অব.), বাংলাদেশের জঙ্গিবাদ অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সঙ্গে বেড়ে উঠে। আমাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি তো রাজনীতির সঙ্গে ধর্ম নিয়ে খেলে, তাদের ভেতর থেকেই জঙ্গিবাদের সৃষ্টি বা মদদ আসে। সে ক্ষেত্রে সহিংস জঙ্গিবাদের মূলোৎপাটন করতে হলে ধর্মীয় রাজনীতি একটি বড় সমস্যা। যতক্ষণ পর্যন্ত ধর্ম রাজনীতি থেকে আলাদা করা না যাবে, ততক্ষণ জঙ্গিবাদ উৎসাহিত হতে থাকে।

তিনি বলেন, আমরা জানি, এ বছরই সম্ভাব্য জাতীয় নির্বাচন। স্বভাবতই নির্বাচনকালীন সময়ে তারা সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করবে। এবং নির্বাচন বানচাল করার নানা অপতৎপরতা চালাবে। সেক্ষেত্রে আমাদের আরও সতর্ক এবং সচেতন থাকতে হবে। শুধু নিরাপত্তা বাহিনীই নয়, সমাজকেও এ ব্যাপারে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

 

গাফলতি বা ব্যর্থ নয়, আমাদের গোয়েন্দা বাহিনী সফল

 

ঢাকা শহর একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশেপাশের এলাকায় অনেক বিল্ডিং, বহু মানুষ বসবাস করে, হাজারো মানুষ যাতায়াত করে। জঙ্গিদের অনেকেই গত দেড় বছরে আহত, নিহত হয়েছে। এর ফলে তারা তো কোনোরকম অ্যাকশন বা অপতৎপরতায় যেতে পারেনি। কিন্তু তাদের প্রচেষ্টা যে অব্যাহত রয়েছে তারই একটি প্রমাণ নাখালপাড়ার এই জঙ্গি আস্তানা। র‌্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, জঙ্গিরা বড় ধরনের নাশকতার উদ্দেশেই এখানে জড়ো হচ্ছিল। এটা অবশ্যই আমাদের জন্য শঙ্কার জায়গা। এই শঙ্কা থেকে আমরা এখনো মুক্ত হতে পারিনি।

আমাদের অর্থনীতির সঙ্গে আলাপকালে মে. জে. মোহাম্মদ আলী শিকদার (অব.) আরও বলেন, জঙ্গি দমনে গত দেড় বছরে আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী অনেক সফলতা দেখিয়েছে। তাদের আন্তরিক প্রয়াস বন্ধ হয়নি, অব্যাহত রয়েছে। আমাদের আত্মতুষ্টির কোনো জায়গা নেই। যারাই নিরাপত্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত রয়েছেন তাদেরকে আরও অত্যন্ত সজাগ, সতর্ক, সচেতন শতভাগ নিবেদিত হয়ে জঙ্গিদের খোঁজখবর, তথ্য সংগ্রহ এবং তারা যেন বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটাতে না পারে তার জন্য অনবরত তৎপর থাকতে হবে।

মে. জে. মোহাম্মদ আলী শিকদার (অব.), গোয়েন্দা ব্যর্থতা থাকত তাহলে তো জঙ্গিদের ধরতেই পারত না। গোয়েন্দারা তথ্য পেয়েছে বলেই তো তারা তাদের ধরতে পেরেছে। গোয়েন্দারা তো সফল। গোয়েন্দারা তথ্য কোথায় পেয়েছেন? নিশ্চয়ই আশেপাশে তাদের কানো সোর্স রয়েছে। সোর্স তাদের এই সংবাদ দিয়েছে। অর্থ্যাৎ সোর্স খুব সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তাই গোয়েন্দাদের সফল বলতে হবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশেপাশের এলাকায় যদি ৫ লাখ মানুষ বাস করে, যাতায়াত করে, তাদের সবাইকে কি প্রতিদিন চেক করা সম্ভব? সম্ভব নয়। এমনটি করতে গেলে তো সব মানুষ রাস্তায় নেমে যাবে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে। দেশে গণতন্ত্র নেই, আমরা বাসায় থাকতে পারছি না, স্বাধীনভাবে চলতে পারছি না পুলিশের হয়রানিতেÑ এমনটি বলতে থাকবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত