প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

তড়িৎ গতিতে প্রধানবিচারপতি নিয়োগে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নেই : আইনমন্ত্রী

হ্যাপী আক্তার : আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, প্রধানবিচারপতি নিয়োগের বিষয়টি সম্পূর্ণ রাষ্ট্রপতির অঙ্গীকার। বিষয়টি সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদে বলা আছে। তিনি নতুন প্রধানবিচারপতিকে নিয়োগ দেবেন। উনি কখন দেবেন আমিতো বলতে পারব না। আমি আশা করি শীঘ্রই এটা হবে। প্রায় দু’মাস হয়ে গেছে প্রধানবিচারপতি নিয়োগ হয়নি, কেন হয়নি কবে হবে বিবিসি বাংলার এমন এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এমন মন্তব্য করে বলেন, নিয়োগ হতেই হবে, তড়িৎ গতিতে নিয়োগ হতেই হবে সেরকম সাংবিধানিক কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। প্রধানবিচারপতির নিয়োগ কবে হবে তা আইনমন্ত্রী বলতে পারেন না। তবে প্রধানবিচারপতির নিয়োগ খুব তাড়াতাড়ি হবে বলে আইনমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বিতর্কিত এবং নতুন বিচারপতি নিয়োগ নিয়ে সরকার কি বলছে? এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ষোড়শ সংশোধনী বাতিল রায়ের সাথে প্রাক্তন প্রধানবিচারপতির পদত্যাগের কোনো যোগ-সংযোগ নেই। এটি অত্যন্ত বিচ্ছিন্ন একটি ঘটনা। দুটো আলাদা আলাদা ঘটনা এবং একটা জিনিসই সূত্র এটা যেটা হচ্ছে সময়টা যেটা ষোড়শ সংশোধনীর বাতিলের রায়ের পরে। এই ব্যাপারটা ছাড়া দুটি ঘটনার সঙ্গে কোনো যোগ নেই। এখন ব্যাপারটা হচ্ছে ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় দিয়েছেন আপিল বিভাগ, সেক্ষেত্রে আমরা আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে যাওয়ার জন্যই প্রস্তুতি নিয়ে রিভিউ পিটিশন করেছি। সেখানে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি যিনি ছিলেন তিনি থাকবেন এবং তার সামনেই এটা হবে। কিন্তু তারপর যেসব ঘটনার উদ্ভব হলো সেই ঘটনায় দেখা গেল শেষ পর্যন্ত প্রাক্তন প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে কিছু দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। সেই দুর্নীতির অভিযোগগুলো সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের জেষ্ঠ্য আর বাকি বিচারপতিদের দেখানোর পর তারা প্রাক্তন প্রধানবিচারপতির সাথে বসতে তাদের অপারগতা প্রকাশ করে। সেই প্রেক্ষিতে প্রাক্তন প্রধানবিচাপতি যখন দেখলেন তার ‘ব্রাদার চার্জেস’ তার সাথে বসতে চায় না তখন তিনি পদত্যাগ করেছেন। এই দুই ঘটনার সাথে যারা একটি সংযোগ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে, আমি মনে করি তারা এই জিনিসটিকে রাজনীতিকরণের চেষ্টা করছে।

সেই সুযোগটা কি সরকারই দিচ্ছে? সরকারের মন্ত্রীরা প্রধানবিচারপতির সমালোচনা করেছিলেন,প্রধান বিচারপতির পদত্যাগের বিষয়টি নিয়ে যে রাজনীতিকরণের যে চেষ্টা, তা কি সরকার করে দিচ্ছে?

এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, আমার মনে হয় না সরকার তা করার চেষ্টা করছে। হাইকোর্ট বা আপিল বিভাগ কোনো রায় দেবার পর কিন্তু জনগণ সে রায় নিয়ে সমালোচনা করতে পারে। যদি এ রায়কে আমরা সমালোচনা করে থাকি, তাহলে আমার মনে হয়, আমরা আমাদের অধিকারের মধ্য থেকেই সেই সমালোচনা করেছি। এবং যিনি এই সব কথা লিখেছেন তার এই সমালোচনা শুনতে হবে। তার কারণ হচ্ছে এইসব কথা লেখার যে দায়িত্বভার, তাকে সেটা নিতে হবে।

বিষয়গুলো যেভাবে এসেছে একের পর এক সমালোচনা হয়েছে। নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগের ওপর একধরনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে?

জবাবে তিনি বলেন, আজকে বিচার বিভাগ যে কতটা স্বাধীন, আজকে বাংলাদেশের জনগণ বঙ্গবন্ধুর হত্যা মামলার বিচার পেয়েছে। জেল হত্যা মামলার বিচার পেয়েছে, যুদ্ধাপরাধীদের হত্যা মামলার বিচার পেয়েছে। এটাই হচ্ছে আইনের শাসনের প্রতিষ্ঠা। তাহলে ওনারা যে একথাগুলো বলেন, এই বিচারগুলো সুষ্ঠুভাবে হয়েছে, তাহলে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে করায়াত্ত্ব করার যে কথা বলা হচ্ছে, তার প্রমাণ কোথায়। তিনি বলেন, আমরা তো দেখিয়ে দিচ্ছি স্বাধীনভাবে বিচার হচ্ছে। সাধারণ মানুষ স্বাধীনভাবে বিচার পাচ্ছে। জনগণ আদালতে যেতে পারছে।

সর্বাধিক পঠিত