প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইসলামী জীবন বীমার প্রয়োজনীয়তা

ওয়ালি উল্লাহ সিরাজ:জীবন বীমা পদ্ধতিকে ইসলামের আলোকে তথা শরীয়তের বিধি-বিধান ও সীমারেখার মধ্যে পরিচালিত করার জন্য ইসলামী জীবন বীমা বা পারিবারিক তাকাফুল ব্যবস্থার উদ্ভব হয়েছে। চুক্তি প্রণয়নের ক্ষেত্রে যে ধরণের স্বচ্ছতা শরীয়তের দৃষ্টিতে কাম্য, বর্তমান বীমা চুক্তিতে তার অভাব রয়েছে। যেহেতু বীমাকারী প্রতিষ্ঠান প্রকৃত অর্থে পলিসি মালিকদের প্রদত্ত প্রিমিয়ামের জিম্মাদার সেহেতু ইসলামী জীবন বীমা চুক্তিতে পরিপূর্ণ স্বচ্ছতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কোনরূপ অস্পষ্টতা, অনিশ্চয়তা, ফটকাবাজারী শর্ত ইসলামী জীবন বীমার চুক্তিতে থাকবে না। ইসলামী জীবন বীমায় অংশগ্রহণকারীদের অর্থ কিভাবে জমা রাখা হবে, অনুদান হিসেবে কত অংশ প্রদান করতে হবে, বিনিয়োগ কিভাবে করা হবে, লাভের অংশ কিভাবে বণ্টন করা হবে, ব্যবসা সংগ্রহ খরচ, ব্যবস্থাপনা খরচ, কোন খাত হতে কিভাবে ব্যয় করা হবে এর সব কিছুই চুক্তির শর্তাবলীতে স্পষ্ট বলা প্রয়োজন। ইসলামী জীবন বীমার স্বচ্ছতার কারণে জনগণের নিকট এর গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বেশি হবে বলে আশা করা যায়।

ইসলামী জীবন বীমা ব্যবস্থায় বিনিয়োগ হতে হবে সুদমুক্ত এবং শরীয়তের অনুমোদিত পন্থায়। ইসলামী ব্যাংকসমূহ যেভাবে মুদারাবা, মুরাকাবা, মুশারাকা, ইজারা, ইসতিসনা ইত্যাদি পদ্ধতিতে লাভ-ক্ষতির ভিত্তিতে বিনিয়োগ করে সেভাবে তা করা প্রয়োজন। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সুদমুক্ত লেন-দেন ও কারবার প্রচলন করার ক্ষেত্রে ইসলামী চিন্তাবিদগণ যে সব শরীয়ত অনুমোদিত পথ ও পন্থার কথা বলেছেন সে সব পদ্ধতি অনুসরণ করে উদ্বৃত্ত অর্থ বিনিয়োগ করার মাধ্যমে ইসলামী জীবন বীমা সমাজ ব্যবস্থায় ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটাতে পারে।

ইসলামী জীবন বীমা চালু হওয়ার ফলে পরিবারের সদদস্যদের আপদকালীন সঞ্চয় ও নিরাপত্তার একটি শরীয়তসম্মত পদ্ধতি অনুসরণের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। জীবনকে ঝুঁকিমুক্ত রাখা সম্ভব নয়, কিন্তু পারস্পারিক সহযোগিতা ও যৌথ নিশ্চয়তার মাধ্যমে সমাজের প্রত্যেক দায়িত্বশীল ব্যক্তি ইসলামী জীবন বীমা পদ্ধতি অবলম্বর করে জীবনকে সহজ, সুন্দর ও সফল করার প্রয়াস নিতে পারেন। সমাজের সবাই যখন এভাবে সৎকর্মে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন তখন ব্যক্তি, পরিবার, রাষ্ট্র, সমাজ এবং সর্বপরি জনজীবনে শান্তি ও সুখের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়।

মহান আল্লাহ কখনো চান না যে তার বান্দারা দুঃখ, কষ্ট বা দরিদ্রতার মধ্যে কালাতিপাত করুক। একজন সৎ ও বিশ্বাসী ব্যক্তি পরমুখাপেক্ষী থাকুক কিংবা অন্যের অনুগ্রহের ওপর নির্ভর করে জীবনযাপন করুক তা শরীয়তের কাম্য নয়। অতএব যে ব্যবস্থার মাধ্যমে নিজের ক্ষুদ্র সঞ্চয়কে কাজে লাগিয়ে শরীয়ত অনুমোদিত পন্থায় জীবনকে সুন্দর করার সহজ প্রচেষ্টা রয়েছে, শরীয়ত তা শুধু অনুমোদনই করে না বরং তাকে উৎসাহিত করে।

সমাজকল্যাণের মহান ব্রতকে সামনে রখে জীবন বীমা ব্যবস্থার প্রচলন হয়েছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে প্রতারণা, প্রবঞ্চনা এবং ঠকবাজির মাধ্যমে সরলমতি মানুষকে বিভ্রান্ত করা হয় এবং তাদের ন্যায্য হিসসা বা পাওনা থেকে তাদের বঞ্চিত করা হয়। সমাজের সৎ ও ধার্মিক ব্যক্তিদের দ্বারা যদি শরীয়ত অনুমোদিত পন্থায় জীবন বীমার ব্যবস্থা করা সম্ভব হয় তবে এই পদ্ধতির প্রতি মানুষের আস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং এর ফলে সমগ্র মানব সমাজ উপকৃত হবে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের এক নব দিগন্তের সূচনা হবে।

ইসলামী যেহেতু একটি পরিপূর্ণ জীবন বিধান, সেহেতু আর্থ-সামাজিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে ইসলামের বিধি-বিধান প্রয়োগ একান্ত অপরিহার্য। শরীয়তের বিধি-বিধানের প্রয়োগ শুধুমাত্র ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে নয় বরং সামগ্রিক মঙ্গলের বিষয়টি চিন্তা করেও শরীয়তের বিধি-বিধান প্রয়োগ করা প্রয়োজন। যা কিছু সমাজের জন্য চির মঙ্গলকর ও কল্যাণকর যা কিছু মানুষের মধ্যে ন্যায়, সুবিচার, সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে দৃঢ় করে তা সর্বশ্রেণীর, সর্বকালের মানুষের কল্যাণের লক্ষ্যে চালু করা প্রয়োজন। এ রকম একটি আন্তরিক তাগিদ হতে শরীয়াহভিত্তিক জীবন বীমা পদ্ধতির প্রবর্তন ও প্রচলন করার প্রয়াস নেয়া হয়েছে। এই প্রয়াসের সফলতা সুন্দরের বিজয় ও মানবকল্যাণের একটি নুতন মাইলফলক হিসেবে ইতিহাসে চিহ্নিত হবে বলে আশা করা যায়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত