প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আওয়ামী লীগও সাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে পরিণত হচ্ছে

গোলাম মোর্তোজা : আমরা প্রতিদিনই মুখে মুখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলি। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কী? মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হচ্ছে, মত প্রকাশের স্বাধীনতা। বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থা। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়া। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরে এসে বাংলাদেশ মোটামুটিভাবে একটি সাম্প্রদায়িক দেশে পরিণত হওয়ার সব রকমের উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। একটা সময় সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করেছে বিএনপি ও জামায়াত। তুলনামূলকভাবে মুক্ত চর্চা, মুক্ত চিন্তা এবং অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি করত আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনগুলো। কিন্তু দিন দিন আওয়ামী লীগ বিএনপির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে, বিএনপির রাজনীতিকে নিজেদের রাজনীতি করতে গিয়ে, বিএনপি ধারার রাজনীতির সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে গিয়ে, আওয়ামী লীগও অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির যে শ্লোগান দিচ্ছে, সেটাকে তারা ধরে রেখে নিজেদের চরিত্রটাকে সাম্প্রদায়িক মোড়কে ঢেকে দেওয়ার যে উদ্যোগ, সেটা দৃশ্যমান হয়েছে গত বছর।

গত বছর আমরা দেখেছি, পাঠ্যপুস্তক বইগুলোকে সাম্প্রদায়িকীকরণ করা হয়েছে। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হয়েছে যে, আওয়ামী লীগ দিন দিন সাম্প্রদায়িক রূপ নিচ্ছে। সাম্প্রদায়িক চেহারা নিচ্ছে। সাম্প্রদায়িকতাকে পৃষ্ঠপোষকতা করছে। সেটা দিন দিন স্পষ্ট হচ্ছে। এই স্পষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রে আরও একটি বড় প্রমাণ হল, কিশোরগঞ্জের ভাস্কর্যের নারী চরিত্রকে একটি মহলের চাপে পুরুষে পরিণত করা। এটি শুধু একটি ভাস্কর্যে নারীকে পুরুষে পরিণত করা নয়। এটি বাংলাদেশের সমাজ ও রাজনীতির জন্য একটি বড় ব্যাপার। আওয়ামী লীগ, তাদের চরিত্রের যে মৌলিক পরিবর্তন ঘটেছে সেটার একটি বড় রকমের প্রকাশ। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ যে ধর্মাতœক শক্তি, মৌলবাদী শক্তি, অসাম্প্রদায়িক শক্তির কাছে বড় একটি রাজনৈতিক দলগুলোর এক ধরনের অসহায় আত্মসমর্পণের নজির তৈরি হল। এই নজির ভবিষ্যত বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত খারাপ দৃষ্টান্ত বয়ে আনবে। এটা এখনকার রাজনৈতিক ব্যক্তিরা বুঝতে পারছেন না।

কিন্তু যখন বুঝতে পারবেন, তখন কিছু করার থাকবে না। তখন বাংলাদেশের চেহারা এক ধরনের মৌলবাদী বা সাম্প্রদায়িক রাজনীতির চেহারা থাকবে। এগুলো যদি আমাদের রাজনীতিবিদরা না বুঝেন, দেশের মানুষ না বুঝে, তাহলে হয়তো আমাদের এই পরিস্থিতি মেনে নিতে হবে। এটা আমাদের জন্য ও বাংলাদেশের জন্য দুর্ভাগ্য যে, আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা মুখে বলব কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিশ্বাস করব না। আমরা মুখে বলব কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হৃদয়ে ধারণ করব না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা মুখে বলব, কিন্তু বৈষম্যমূলক সমাজ তৈরি করব। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা মুখে বলব, কিন্তু আমরা দুর্নীতিযুক্ত একটি দেশে তৈরি করব। তাই একসময় মুক্তিযুদ্ধের যে চেতনা, তা মানুষের কাছে গুরুত্ব হারাবে। মুক্তিযুদ্ধের যে একটি মহিমান্বিত দিক, সেই দিকটা গুরুত্ব হারাবে। এটা আমাদের জন্য কোনোভাবেই মঙ্গলজনক নয়।

পরিচিতি : সম্পাদক, সাপ্তাহিক
মতামত গ্রহণ : গাজী খায়রুল আলম
সম্পাদনা : মোহাম্মদ আবদুল অদুদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত