প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সংসদ বহাল রেখেই নির্বাচনের যুক্তি কী?

সুভাষ সিংহ রায় : বিএনপির সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে, তারা আসলে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন কি-না? সংসদীয় পদ্ধতিতে নির্বাচন সারা পৃথিবীতে যেভাবে হয়, সেভাবেই করতে হবে। গত নির্বাচনে তারা আসেননি। তারা তো দল হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন যদি তারা যে কথাগুলো বলছেন, জন সমাবেশে যা বলেছেন, সেগুলোতে কতটুকু ঠিক থাকবেন সেটাও তো বিবেচনার বিষয়। বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, যে কোনো পরিস্থিতিতে তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। এটা সঠিক, নাকি গতকাল বলেছেন শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন নয়-এটা সঠিক, তা জানতে সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

 

পৃথিবীর কোনো সংসদীয় পদ্ধতির সরকারে পার্লামেন্ট ভেঙে যায় না। অনির্বাচিত কোনো সরকার থাকার সুযোগ নেই। আমাদের দেশে যেহেতু বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের পর নির্বাচনে সংসদীয় পদ্ধতি ছিল না, যে কারণে অনেকের মাথার মধ্যে এসেছে, আগে তো সংসদ থাকা অবস্থায় নির্বাচন হয় নি। আগে তো সংসদ ছিল না। ভারতে, ব্রিটেনে পৃথিবীর যে কোনো দেশে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার থাকা মানেই সংসদ থাকা অবস্থায় নির্বাচনটি হবে। আমাদের বাংলাদেশের যে কোনো নির্বাচন যখন হয় এবং আমাদের অর্থনীতি আপনার পত্রিকায় যদি সাংবাদিকদের কোনো নির্বাচন হয়, যদি একটা কমিটি থাকে, সেই কমিটি রেখেই আরেকটি কমিটি নির্বাচন হয়। পরবর্তীতে দায়িত্ব হস্তান্তর হয়। কনভেনশনও তাই। অর্থাৎ সংসদীয় পদ্ধতির সরকার যদি আপনি চান, যদি সংসদে বিশ্বাস করেন, তাহলে যে সংসদটি আগে ছিল সেটাকে রেখেই নির্বাচন করতে হবে। এখন নির্বাচন কমিশন কতটুকু রাজনৈতিক দলগুলোকে আস্থায় আনতে পারবে, এটা দেখার বিষয়। আর ওই নির্বাচনকালীন সময়ে তফসিল ঘোষণার পরে ওই সরকার কোনো রুটিন ছাড়া, কাজ করতে পারবে না। এটা পৃথিবীর সব দেশেই আছে। এখন নতুন করে যদি নতুন ফরমুলা আবিষ্কার করতে চায়, সেটা ভিন্ন কথা।

 

বিএনপি নির্বাচনকালীন সরকার চায়। সহায়ক সরকার। নির্বাচনকালীন সরকার তো থাকবেই। এই সরকারই থাকবে। পরবর্তী সংসদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর না করা পর্যন্ত এই সংসদই থাকবে। নির্বাচনকালীন সরকারের সময়ে যখন নির্বাচন তফসিল ঘোষণা করা হবে তখন কোনো মন্ত্রী তার প্রটোকল ব্যবহার করতে পারবেন না। কোনো মন্ত্রী তার নির্বাচনী এলাকায় সরকারি প্রতিশ্রুতির কোনো বিষয়ে বক্তৃতা দিতে পারবেন না। এগুলো ভারত বর্ষেও আছে, ব্রিটেনেও আছে। পৃথিবীর সব দেশেই আছে। যেখানে যেখানে সংসদীয় পদ্ধতি আছে। আমাদের একটু খাপ ছাড়া লাগে, যেহেতু অতীতে আমরা এই বিষয়গুলো দেখিনি। আমাদের অভিজ্ঞতা হচ্ছে যে, আগে সংসদ নির্বাচনের সময় আগের সংসদ থাকে না। থাকে না এই কারণে যে তখন তো ওই সংসদের অস্তিত্বই ছিল না। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরে ’৭৩ এর নির্বাচন এর পরে আরতো কোনো সংসদ ছিল না। ’৭৩ এর নির্বাচন কি ছিল? ’৭০ এর নির্বাচনের যে ম্যান্ডেটটি আওয়ামী লীগ পেয়েছিল, সে ম্যান্ডেটের বলে দুটো পরিষদ ছিল। একটি কেন্দ্রিয় পরিষদ, একটি আঞ্চলিক পরিষদ।

 

এই দুই পরিষদ মিলে হলো গণপরিষদ। এই গণপরিষদ সংবিধান রচনা করল। ’৭৩ এর নির্বাচন হল। ৭৮ সালের নির্বাচনের আগেই তো বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ড ঘটল। সংসদ বাতিল হয়ে গেল। তারপর ’৭৯ -এর পার্লামেন্ট যখন হল, তখন সামরিক শাসনের প্রেক্ষাপটেই এটা হল। তখন আগের সংসদ ছিল না। ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডের পরেই সংসদ ভেঙে দেওয়া হল, মাশাল ল গভর্নমেন্ট আসলো। এর পরবর্তীতে ’৮৬ -এর নির্বাচন। এর আগেই এরশাদ ১৯৮২ এর ২৪ মার্চ ক্ষমতায় আসলেন।

আগের পার্লামেন্ট ভেঙে গেল। মাশাল’ল গভর্নমেন্ট আসল। এর পরবর্তীতে ১৯৯০ এর ছাত্র গণঅভ্যুত্থানের পরে তখনতো সংসদ ছিল না। তখন অস্থায়ী সরকারের অধীনে নির্বাচনটি হলো। বিচারপতি শাহাবুদ্দিনের অধীনে। সেই নির্বাচনে তখনতো আর পার্লামেন্ট ছিল না। পার্লামেন্ট না থাকার কারণে আমাদের মনে হতে পারে যে, আগের পার্লামেন্ট কেন থাকবে? কিন্তু এখন তো পার্লামেন্ট রয়েছে। আপনি মানেন আর না মানেন পার্লামেন্টতো রয়েছে। যদি সংসদীয় পদ্ধতির সরকার মানেন, এই ব্যবস্থা চালু রাখতে চান, তাহলে আপনাকে এই পদ্ধতি মানতে হবে।

 

পরিচিতি : সিনিয়র সাংবাদিক
মতামত গ্রহণ : সানিম আহমেদ
সম্পাদনা : মোহাম্মদ আবদুল অদুদ

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ