প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মানবতার সেবায় নার্সিং ক্যারিয়ার

অধ্যাপক ড. মো. আনিসুর রহমান ফরাজী : কর্মমুখী শিক্ষা যার কোনো বিকল্প নেই। সাধারণ শিক্ষার চেয়ে বর্তমানে কর্মমুখী শিক্ষা সময়ের চাহিদা। বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রতিটি দেশেই দক্ষ জনবলের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। দক্ষ জনবল তৈরি করতে কর্মমুখী শিক্ষা একান্ত প্রয়োজন। কর্মমুখী শিক্ষা বলতে আমরা যা বুঝি তা হলো হাতে কলমে শিক্ষাদান। কর্মমুখী শিক্ষিত সমাজ একটি উন্নত জাতি তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। এতে পারস্পরিক নির্ভরশীলতা অনেক কমে আসে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানের কিছু কিছু কর্মমুখী শিক্ষার গুরুত্ব আরোপ করা একান্ত প্রয়োজন। তাহলে ছাত্র-ছাত্রীগণ তাদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণের সময়ই তাদের পছন্দমতো কর্মমুখী শিক্ষার প্রতি আগ্রহী হতে পারে। বর্তমান বিশ্বে দক্ষ জনবলের চাহিদায়, নার্সিং একটি অন্যতম কর্মমুখী পেশা। একজন প্রশিক্ষিত ও দক্ষ নার্স সমাজে অনেক ভূমিকা পালন করতে পারে। পাশাপাশি রোগীদের স্বাস্থ্য-সেবা প্রদান, স্বাস্থ্য শিক্ষাদান, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাদান এবং দেশে-বিদেশে উচ্চ বেতনে চাকুরির সুযোগ পান। একটি পরিবারের একজন প্রশিক্ষিত নার্স নিজ নিজ পরিবারের ও দেশের একটি সম্পদ। নবপ্রজন্মের শিক্ষার্থীবৃন্দ যারা এইচএসসি পাশ করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা দিতে দিতে হতাশ হয়ে পড়েছেন বা কাঙ্খিত বিষয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ না পেয়ে পড়া-লেখার মান মর্যাদাকে মূল্যহীন মনে করেন, তারা নার্সিং এর মতো একটি কর্মমূখী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারেন।
বর্তমান বিশ্বের প্রতিটি দেশেই নার্সদের উচ্চ বেতনে এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত চাকুরির প্রচুর সুযোগ রয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ভাবে আমাদের দেশের জনসাধারণ নার্সিং শিক্ষার উপরে তেমন গুরুত্ব দেন না। ফলে দেশে-বিদেশে দক্ষ নার্সদের চাকুরির সুযোগ আমরা দিন দিন হারাচ্ছি। কিন্তু আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ চীন, ভারত, ফিলিপাইন এবং শ্রীলঙ্কায় নার্সিং একটি সম্মান জনক পেশা হিসেবে স্থান পেয়েছে।
আমরা মনে করি, শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য জ্ঞানার্জন। কিন্তু শিক্ষা গ্রহণের পর তারা উপযুক্ত কর্মসস্থান একান্ত প্রয়োজন। এ নিয়ে কারো ভিন্নমত পোষণ করার সুযোগ নেই। তবুও প্রতিযোগিতার এই যুগে কর্মমুখী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বেড়েই চলেছে। একটা সময় ছিল যখন যে কোনো বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি নিয়ে সহজেই চাকুরি পাওয়া যেত। সময় বদলেছে। বদলেছে অর্থ সামাজিক প্রেক্ষাপট। এখন একটি সম্মানজনক ক্যারিয়ার নিশ্চিত করতে চাই যুগোপযোগী বিষয়ে শিক্ষালাভ। আর এমনই একটি বিষয় হচ্ছে নার্সিং। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশের পাশাপাশি বিদেশেও প্রতিনিয়ত বাড়ছে নার্সের চাহিদা। দেশে সার্বিক পরিস্থিতির দিকে তাকালে দেখা যায়, দিন দিন বাড়ছে আমাদের জনসংখ্যা, বাড়ছে হাসপাতাল। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নার্সদের চাহিদাও। বিশ্ব স্বস্থ্য সংস্থার প্রটোকল অনুযায়ী একটি দেশে চিকিৎসক ও নার্সের অনুপাত হওয়া উচিত ১:৩। কিন্তু বাংলাদেশে এ অনুুপাত এর সম্পূর্ণ বিপরীত। সেবামূলক কাজে আত্মনিয়োগ করার আগ্রহ অনেকেরই রয়েছে। কিন্তু নার্সিং এ প্রশিক্ষণ নেওয়ার তেমন আগ্রহী প্রার্থী পাওয়া যায় না। নার্সিং পেশায় একদিকে যেমন মানুষের সেবা করা যায়, তেমনি ভবিষ্যৎও উজ্জ্বল করা যায়। দেশে এখন প্রায় সব জেলা-উপজেলা শহরগুলোতেই সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিক গড়ে উঠেছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রতি বছরই দক্ষ নার্সের প্রয়োজন হয়। বাংলাদেশ সরকারের নার্সিং ও মিডওয়াইফারী অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ২০১৩ সালে ৪ হাজার ১০০ জনকে দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে সিনিয়র স্টাফ নার্স পদে নিয়োগ করা হয়েছে। পরবর্তীতে পিএসসির মাধ্যমে আরও ১০ হাজার সিনিয়র স্টাফনার্স সরকারি হাসপাতালে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও কয়েক হাজার নার্স নিয়োগ দানের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। দেশের চাহিদার প্রেক্ষিতে এরকম নিয়োগ নিয়মিত ভাবে প্রতিবছরই দেওয়া হবে। কিন্তু দেশের অন্য কোনো পেশায় বা জনগুরুত্ব সম্পন্ন সার্ভিসে প্রতি বছর এতো সংখ্যক পদে নিয়োগ নেই। শুধুমাত্র নার্সিং এ সুযোগটি বিদ্যমান আছে। এতে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি পাচ্ছে। নার্সিং পেশায় যারা ক্যারিয়ার গড়তে চান, তাদের জন্য সুস্পষ্ট ভবিষ্যৎ রয়েছে। বিদেশি উদ্যোগতাগণ বাংলাদেশ থেকে দক্ষ নার্স নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করছেন। অতি শিগগিরই অনেক বিদেশি উদ্যোক্তা বাংলাদেশের দক্ষ নার্স নিয়োগের জন্য আসছেন।
এতদ্বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রদান ও নার্সিং এ দেশে-বিদেশে উজ্জ্বল ক্যারিয়ার গঠনের পক্ষে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেয়ার লিমিটেড, নিকুঞ্জ, ঢাকা।

লেখক : অধ্যক্ষ, ইন্টারন্যাশনাল নার্সিং কলেজ, টঙ্গি, গাজীপুর
ইমেইল: ভড়ৎধুু@মসধরষ.পড়স
সম্পাদনা : মোহাম্মদ আবদুল অদুদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ