শিরোনাম
◈ আবারও দুবাই শহরের কেন্দ্রীয় অংশে জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ ◈ ওমানে ড্রোন বিধ্বস্ত : দুই শ্রমিক নিহত ◈ আজান দিলেই মসজিদে আসে সাপ, শেষ হওয়ার পরপরই আবার অদৃশ্য হয়ে যায়, আরও নানা রহস্য! ◈ ঈদ উপলক্ষে যে ৬ দিন বন্ধ থাকবে যেসব যানবাহন ◈ এবার যে সুখবর পাচ্ছেন এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা ◈ ইরানে ৬০০০ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চা‌লি‌য়ে‌ছে যুক্তরাষ্ট্র, জা‌না‌লো ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড ◈ টেস্ট টিউবে প্যাক করা ২০০০ রানি পিঁপড়া পাচারের চেষ্টা, এরপর যা ঘটল ◈ পা‌কিস্তা‌নের বিরু‌দ্ধে আজ জিত‌লেই ‌সি‌রিজ বাংলাদেশের ◈ ইরানের শাসনব্যবস্থা এখনো সুসংগঠিত, গোলকধাঁধায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ◈ হিন্দু মন্দিরে ভারতের টি-টো‌য়ে‌ন্টি বিশ্বকাপের ট্রফি নিয়ে যাওয়ায় শুরু হ‌য়ে‌ছে রাজ‌নৈ‌তিক বিতর্ক

প্রকাশিত : ১৩ মার্চ, ২০২৬, ১০:৫২ দুপুর
আপডেট : ১৩ মার্চ, ২০২৬, ০১:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

এক বছরের কম শিশুদের কেন গরুর দুধ খাওয়ানো ঝুঁকিপূর্ণ

শিশুদের গরুর দুধ খাওয়ানোর চল বহু বছরের। অনেকের ধারণা, গরুর দুধ একটি সুষম খাবার। সেই ধারণা থেকেই, শিশুদের ছানা, দই, ক্ষীর, পনিরের মতো দুগ্ধজাত খাবার খাওয়ানো হয়। 

দুধের পুষ্টিগুণ 
দুধ ক্যালসিয়ামের অন্যতম সেরা উৎস। তার পাশাপাশি এতে ফসফরাসও থাকে। অনেক শাক-সবজিতে ক্যালসিয়াম থাকলেও, সেখানে অক্সালেট বা ফাইটেট জাতীয় পদার্থ থাকে যা ক্যালসিয়াম শোষণে বাধা দেয়। দুধে এই ধরনের উপাদান থাকে না। তাই এর বায়োঅ্যাভেলেবিলিটি বেশি। অর্থাৎ এর পুষ্টিরস গ্রহণ করা অনেক সহজ। 

দুধের ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের নিখুঁত ভারসাম্যই একে হাড় ও দাঁতের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। দুধের প্রোটিন ভেঙে কেসিন ফসফোপেপটাইডস তৈরি হয়। যা ক্ষুদ্রান্ত্রের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং জিঙ্কের মতো খনিজগুলির শোষণে সাহায্য করে। অধিকাংশ খাবারে এই পুষ্টিগুণ থাকলেও শরীর তা সম্পূর্ণ ভাবে গ্রহণ করতে পারে না। 

ল্যাক্টোফেরিন হলো দুধে থাকা একটি অত্যন্ত শক্তিশালী প্রোটিন, যা রোগ প্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। এছাড়া দুধে দুই রকম প্রোটিন— কেসিন এবং হোয়ে প্রোটিনের সঠিক ভারসাম্যে রয়েছে।

এক বছরের কম শিশুদের কি গরুর দুধ খাওয়ানো উচিত? 
গরুর দুধের অনেক গুণ থাকলেও এক বছরের নিচে শিশুদের গরুর দুধ খাওয়ানো চলবে না। বার বার এই সতর্কবার্তাই দিয়ে থাকেন শিশুরোগ চিকিৎসকরা। উপকারী হলেও কেন এমন নিষেধাজ্ঞা?

গরুর দুধে প্রোটিন অনেক বেশি মাত্রায় থাকে। তাই এক বছরের কম শিশুদের পাকস্থলী সেই প্রোটিন হজম করতে পারে না। এছাড়া গরুর দুধ থেকে অনেক শিশুর অ্যালার্জির ঝুঁকি থাকে। একে বলা হয়, ‘কাউ মিল্ক প্রোটিন অ্যালার্জি’। এর ফলে বমি, পেটের সমস্যায় ভুগতে পারে শিশু। 

এছাড়া গরুর দুধে যে আয়রন থাকে তা শিশুদের শরীরে সহজে শোষিত হয় না। এক বছরের কম যে শিশু গরুর দুধ খায় তার অ্যানিমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই বেশি থাকে। গরুর দুধের সোডিয়াম আর পটাশিয়ামের মাত্রা স্তনদুগ্ধের তুলনায় তিন-চার গুণ বেশি থাকে, ফলে শিশুদের কিডনির অসুখ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। তবে এ ক্ষেত্রে সাত থেকে আট মাস বয়সের পরে শিশুদের দুগ্ধজাত খাবার যেমন ছানা, দই খাওয়া যেতে পারে।

১ বছরের পর শিশুদের গরুর দুধ দেওয়া যেতে পারে। প্রথম দিকে দুধের সঙ্গে পানি মিশিয়ে খাওয়াতে পারে। কোনোরকম সমস্যা দেখা না দিলে সপ্তাহ দুয়েক পর পানি ছাড়াই দুধ খাওয়ানো যেতে পারে শিশুদের। এক্ষেত্রে বাজারের প্যাকেটজাত গরুর দুধও দেওয়া যেতে পারে, আবার বাজার থেকে খোলা দুধ কিনে এনে ভালো করে ফুটিয়েও খাওয়ানো যেতে পারে। 

তবে ১ বছরের ওপরেও শিশুকে দুধ দেওয়া হলে পরিমাণের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে। সারা দিনে ৪০০-৫০০ মিলিলিটারের বেশি দুধ দেওয়া চলবে না। বেশি দুধ খেলে শিশুর পেট ভরে যাবে। ফলে, খাবারের প্রতি অনীহা তৈরি হবে। এছাড়া দুধের কারণে শরীরে আয়রনের ঘাটতি আর কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও হতে পারে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়