শিরোনাম
◈ আগামী এক মাসের মধ্যে রামিসা হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড নিশ্চিত করা হবে : প্রধানমন্ত্রী ◈ ‘উগ্রবাদীদের শিক্ষা দিতে’ কুরবানিতে গরু না দেওয়ার আহ্বান মাওলানা মোহাম্মদ জাফর পাশার (ভিডিও) ◈ অবশেষে কাটলো সম্প্রচার জট, ভারতে দেখা যাবে ফুটবল বিশ্বকাপ ◈ দেশের ভাগ্য পরিবর্তনে ৪০ কোটি হাতকে এক হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী ◈ বাংলাদেশে নারী-শিশু নির্যাতন বেড়েছে, বিচারহীনতা বন্ধে জরুরি পদক্ষেপ চায় ইউনিসেফ ◈ কলকাতায় বাংলাদেশি তারকাদের কাজে আপত্তি টলিউডের টেকনিশিয়ানদের, যা বললেন রুদ্রনীল ◈ যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসী গ্যাবার্ড পদত্যাগ করলেন ◈ দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আজ থেকে ছুটি শুরু ◈ গ্রিন কার্ডে নতুন কড়াকড়ি: যুক্তরাষ্ট্রে বসে আর নয়, বিদেশিদের দেশে ফিরে আবেদন বাধ্যতামূলক! ◈ চার নতুন নিয়ম আস‌ছে বিশ্বকাপে, ম্যাচের চেহারা বদ‌লে যা‌বে!

প্রকাশিত : ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ১১:১৯ রাত
আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ১১:১৯ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সম্ভাবনাময় সেমিকন্ডাক্টর শিল্প সহায়তার অভাবে পিছিয়ে

ছবি: সংগৃহীত

শহীদুল ইসলাম: বিশ্ব ও বৈশ্বিক অর্থনীতি এখন প্রযুক্তি খাতের দখলে। বাংলাদেশও এ খাতে অপার সম্ভাবনাময় স্বপ্ন দেখছে। সেই স্বপ্নই বাস্তবায়ন করতে পারে প্রযুক্তি খাতে আধিপত্য বিস্তারকারী সম্ভাবনাময় সেক্টর সেমিকন্ডাক্টর শিল্প। এ  সেক্টরকে পোশাক খাতের চেয়েও বড় রপ্তানিকারক শিল্পে পরিণত করতে হলে দরকার সরকারের সঠিক পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ। ইতমধ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকার সেমিকন্ডাক্টর বাজারটি ২০২১ সালে ২০ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। তাই আগামী ২০৩০ সালে মাইক্রোচিপের বৈশ্বিক বাজার এক লাখ কোটি ডলারের হবে বলে আশাবাদি এ খাতের সংশ্লিষ্টরা। সমিকন্ডাক্টর শিল্প এত বিপুল সম্ভাবনাময় খাত হওয়া সত্তেও ২০২১-২২ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে এ শিল্পের কোনো নামই ছিল না। ছিল না এটি বিকাশের জন্য কোনো নীতিগত সহায়তার ঘোষণা। ভারত সরকার তাদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে উদ্যোক্তাদের ১ কোটি ডলারের বিনিয়োগ প্রদাণে কাজ করছে। ভারতের প্রণোদনার বিশেষ প্যাকেজের আওতায় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ভারতে সেমিকন্ডাক্টর ফ্যাব্রিকেশন ল্যাব, ডিসপ্লে ফ্যাব্রিকেশন ল্যাব, কম্পাউন্ড সেমিকন্ডাক্টর ফটোনিকস, সেন্সর, সেমিকন্ডাক্টর প্যাকেজিং ইত্যাদি খাতে এই প্রণোদনা দেওয়া হবে।

সেমিকন্ডাক্টর বা মাইক্রোচিপ হলো কম্পিউটার, স্মার্টফোন, ওয়াশিং মেশিন, ইলেক্ট্রিক কেতলি থেকে শুরু করে অটোমোবাইল, যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র সর্বত্র ব্যবহৃত হয়। আধুনিক জীবনযাপনের সবখানেই এখন এর রাজত্ব। প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের উত্থানের হাত ধরে, ভবিষ্যতে মানুষের ব্যবহৃত প্রায় সকল ডিভাইসে এটি সংযোজনের দরকার হবে। বাংলাদেশে বর্তমানে সেমিকন্ডাক্টর তৈরির কোম্পানি রয়েছে হাতে গোনা কয়েকটি। এর মধ্যে উল্কাসেমি, নিউরাল সেমিকন্ডাক্টর, প্রাইম সিলিকন ও টোটোন ইলেকট্রনিক্স, ডিবিবিএল গ্রুপ অন্যতম। বাংলাদেশের দুটি বড় কোম্পানি ওয়ালটন ও এসিআই এ বাজারে প্রবেশের উদ্যোগ নিয়েছে।

বাংলাদেশে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের প্রথম উদ্যোক্তা প্রকৌশলী এনায়েতুর রহমান বুয়েট থেকে ১৯৭৭ সালে স্নাতক ও পরে যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে তড়িৎ ও কম্পিউটারবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর শেষ করে বিশ্বখ্যাত চিপ নির্মাণ প্রতিষ্ঠান এএমডিতে দীর্ঘদিন কাজ করেন। নিজেই নকশা করার পাশাপাশি তৈরি করেছেন বেশ কিছু সেমিকন্ডাক্টর চিপ। এএমডি ছাড়ার পর তিনি দেশে কিছু করার কথা ভাবছিলেন। ২০০৭ সালে মাত্র চারজন প্রকৌশলী নিয়ে ঢাকায় সেমিকন্ডাক্টর নিয়ে কাজ করার জন্য উল্কাসেমি নামে একটি প্রতিষ্ঠান খোলেন। সেটির সদর দপ্তর সিলিকন ভ্যালিতে। এনায়েতুর রহমান ২০০৮ সালে তার প্রতিষ্ঠানে প্রথম সার্কিট ডিজাইন ও লে-আউটের কাজ পেতে শুরু করেন। ২০১২ সাল থেকে চিপ ডিজাইন ও ভেরিফিকেশনের কাজে যুক্ত হয় তার উল্কাসেমি। কাজ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কানাডার টরন্টো ও ভারতের বেঙ্গালুরুতেও আরও দুটি অফিস খুলেন তিনি। ধীরে ধীরে তার কোম্পানির কাজের পরিমাণ বাড়তে থাকে। সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে প্রকৌশলীর সংখ্যাও। বর্তমানে উল্কাসেমিতে ৩০০ কর্মী কাজ করছেন। ২০২৪ সালের মধ্যে কর্মীর সংখ্যা ৫০০-তে উন্নীত হবে।  

সেমিকন্ডাক্টর চিপ খাতের সংশ্লিষ্টরা বলেন, সেমিকন্ডাক্টর চিপ ডিজাইনের মাধ্যমে বছরে ৫০ লাখ ডলার আয় করে বাংলাদেশ। বাংলাদেশে আরএমজি সেক্টরে ৪০ লাখ লোক যে আয় করে, সেমিকন্ডাক্টরে এক লাখের কম মানুষ তার চেয়ে বেশি আয় করতে পারবে। প্রতিবেশী ভারতের এখাত থেকে আয় বছরে ৬ হাজার কোটি ডলার। মানসম্পন্ন আইটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি ভারত সরকার স্থানীয় সেমিকন্ডাক্টরে গুরুত্ব দেয়ায় এটি সম্ভব হয়েছে। 

এদিকে নেদারল্যান্ডস ভিত্তিক আন্তর্জাতিক বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান ‘ব্রেইনপোর্ট আইন্দহোভেন’ বাংলাদেশে স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম ও সেমিকন্ডাক্টর মেনুফ্যাকচারিং, এডভান্স হাইটেক মেনুফ্যাকচারিং ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী হয়ে সরকারের সাথে বৈঠক করেছে। এছাড়া ২০২১ সালে উল্কাসেমি বিশ্বের অন্যতম প্রধান সেমিকন্ডাক্টর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি, টিএমএসসির ডিজাইন সেন্টার অ্যালায়েন্স পার্টনার হয়েছে। বিশ্বের মাত্র ২০টি প্রতিষ্ঠান টিএমএসসির ডিজাইন সেন্টার অ্যালায়েন্সের সঙ্গে যুক্ত। 

এমএএস

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়