সাংহাইয়ের বিজ্ঞানীরা স্টেম সেল ব্যবহার করে বিশ্বের প্রথম পরীক্ষাগারে তৈরি সাইনো অ্যাট্রিয়াল নোড তৈরি করেছেন। এটি হৃৎপিণ্ডের প্রাকৃতিক পেসমেকার হিসেবে কাজ করে এমন একটি ক্ষুদ্র কাঠামো। স্বয়ংক্রিয় ভাবে স্পন্দিত হতে সক্ষম এই অর্গ্যানয়েডটি একটি যুগান্তকারী আবিষ্কার, যা গবেষকদের মতে হৃদরোগ গবেষণা এবং ওষুধ পরীক্ষার ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে।
হৃৎপি-ের অবিরাম ও ছন্দবদ্ধভাবে স্পন্দিত হওয়ার ক্ষমতা সাইনোঅ্যাট্রিয়াল নোডেরউপর নির্ভর করে, যা ডান অলিন্দ প্রকোষ্ঠের ভিতরে অবস্থিত।হৃৎপিণ্ডের মাস্টার কন্ডাক্টও বা প্রধান নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে এই নোডটি স্নায়ুতন্ত্র দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে ক্রমাগত বৈদ্যুতিক সংকেত পাঠাতে থাকে।
এই সংকেতগুলো নির্ধারণ করে কখন অলিন্দ ও নিলয়, অর্থাৎ উপরের ও নিচের প্রকোষ্ঠ গুলো সংকুচিত হবে, যাতে শরীরজুড়ে কার্যকরভাবে রক্ত সঞ্চালন করা যায়। যদি এই প্রধান নিয়ন্ত্রক বিকল হয়ে যায়, তাহলে হৃদস্পন্দন বিপজ্জনকভাবে ধীর হয়ে যেতে পারে অথবা সম্পূর্ণ থেমে যেতে পাওে, যা প্রাণঘাতী হতে পারে।
সাংহাইয়ের গবেষকরা পরীক্ষাগারে সফলভাবে একটি জৈবিক পেসমেকার তৈরি করেছেন যা অস্বাভাবিক হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণের নতুন উপায় দিতে পারে। মানব প্লুরিপোটেন্ট স্টেম সেল ব্যবহার করে, যা নিজেকে পুনর্নবায়ন করতে এবং বিভিন্ন ধরনের কোষে পরিণত হতে সক্ষম, গবেষক দলটি একটি ত্রিমাত্রিক সাইনোএট্রিয়াল নোড অর্গানয়েড নির্মাণ করেছে।
‘সেল স্টেম সেল’ সাময়িকীতে প্রকাশিত প্রকাশিত অতিরিক্ত গবেষণায় দেখা গেছে যে, অর্গ্যানয়েডটি স্থিতিশীল বৈদ্যুতিক স্পন্দন তৈরি করতে, হৃৎপিণ্ডের টিস্যুর সাথে মিথস্ক্রিয়া করতে এবং হৃৎস্পন্দন নিয়ন্ত্রণকারী ওষুধের প্রতি পূর্বাভাস যোগ্যভাবে সাড়া দিতে সক্ষম। গবেষকরা বলেছেন যে এই মডেলটি অ্যারিথমিয়া, বংশগত হৃদরোগ এবং ভবিষ্যতের রিজেনারেটিভ থেরাপির গবেষণাকে উন্নত করতে পারে।
একটি কার্যকরী সাইনোঅ্যাট্রিয়াল নোড অর্গ্যানয়েডের সফল নির্মাণপ্রমাণ করে যে, চীন স্টেম-সেল-ভিত্তিক কার্ডিয়াক বায়োইঞ্জিনিয়া রিংচিকিৎসাগত ভাবে কার্যকর জৈবিক পেসমেকারের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যা হৃৎস্পন্দনের অস্বাভাবিকতার চিকিৎসায় প্রচলিত বৈদ্যুতিক যন্ত্রের তুলনায় আরও নিরাপদ ও অভিযোজনক্ষম বিকল্প হতে পারে।
সূত্র: ইনকিলাব