শিরোনাম
◈ রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফেরার আশা, কতটা বদলাবে আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ে? ◈ টেকনাফে ৫৬ জিম্মি উদ্ধার, বেরিয়ে এলো পাচারচক্রের ভয়ংকর তথ্য ◈ ঢাকায় দুই রুটে মনোরেল নির্মাণের পরিকল্পনা, চলছে নকশার কাজ ◈ কপ-৩১ সম্মেলনে যোগ দিতে ১০ নভেম্বর তুরস্ক যাচ্ছেন তারেক রহমান, সফরে গুরুত্ব পাবে যেসব বিষয় ◈ উজানের পানিপ্রবাহ বন্ধ, অপরিকল্পিত সেতু ও খননে মৃতপ্রায় ভৈরব নদ; বাঁচাতে পদ্মার সঙ্গে পুনঃসংযোগের দাবি ◈ ইউপি নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু, ৩ হাজার ৯৮১ ইউনিয়নের তালিকা যাচাইয়ের নির্দেশ ইসির; তফসিল ১০ ডিসেম্বর ◈ যে ৫১ অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে পারবেন মালয়েশিয়াগামী কর্মীরা, ফি সর্বোচ্চ ৮ হাজার টাকা ◈ নরসিংদীতে স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যদের দিয়ে পর্ন ভিডিও তৈরি করে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে পর্নসাইটে বিক্রির অভিযোগ! ◈ কোস্ট গার্ডের ৪ জাহাজের নাম পরিবর্তন, দায়িত্ব পালনকালে শহীদ ৪ সদস্যের নামে নতুন নামকরণ ◈ খুলনায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দেয়ালচিত্রে কালি মাখাল দুর্বৃত্তরা, লিফলেটে ভারত ও রবীন্দ্রবিদ্বেষী বার্তা

প্রকাশিত : ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ০৮:৩৮ সকাল
আপডেট : ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ০৮:৩৮ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

নিয়ন্ত্রণহীন নাসার দেড় টনের মহাকাশযান, ধেয়ে আসছে পৃথিবীর দিকে

মহাবিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বিস্ফোরণ নিয়ে গবেষণার জন্য প্রায় ২২ বছর আগে মহাকাশে পাঠানো নাসার একটি পর্যবেক্ষণযান এবার পৃথিবীতে আছড়ে পড়তে যাচ্ছে। ৩ হাজার ২০০ পাউন্ড বা প্রায় ১ দশমিক ৪৫ টন ওজনের মহাকাশযানটির নাম ‘নিল গেহরেলস সুইফট অবজারভেটরি'। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় এটি আগুনে পুড়ে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কথা।

মহাকাশযানটির বেশির ভাগ অংশ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ঘন স্তরে প্রবেশের পর পুড়ে যাবে। তবে এর কিছু ধ্বংসাবশেষ ভূপৃষ্ঠে আছড়ে পড়তে পারে বলে জানিয়েছে নাসা। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, মহাকাশযানটির ধ্বংসাবশেষের কারণে পৃথিবীর কোনো মানুষের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা খুবই কম। এ ঝুঁকি ২ হাজার ১০০ জনের মধ্যে একজনের সমান। নাসার ধারণা, সুইফটের ধ্বংসাবশেষ দক্ষিণ অক্ষাংশের ২০ দশমিক ৬ ডিগ্রি থেকে উত্তর অক্ষাংশের ২০ দশমিক ৬ ডিগ্রির মধ্যে পড়তে পারে। অর্থাৎ বিষুবরেখার উত্তর ও দক্ষিণে প্রায় ১ হাজার ৪২০ মাইল বা ২ হাজার ২৮৫ কিলোমিটার বিস্তৃত এলাকায় এর ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে ।

এই এলাকার মধ্যে মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকা, মধ্য আফ্রিকা, দক্ষিণ ভারত, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং উত্তর অস্ট্রেলিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল রয়েছে। পাশাপাশি বিশাল সমুদ্র এলাকাও এর আওতায় পড়েছে। তবে মহাকাশযানটি ঠিক কখন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এ ধরনের পূর্বাভাসে সাধারণত কয়েক ঘণ্টার ব্যবধান থাকতে পারে ।

অলাভজনক গবেষণা সংস্থা অ্যারোস্পেস করপোরেশনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় বুধবার ভোর ৫টা ১৯ মিনিটে এটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করতে পারে। তবে সময়ের হেরফের হতে পারে দুই ঘণ্টা। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ বাহিনীর সর্বশেষ পূর্বাভাসে সময়টি বলা হয়েছে সকাল ৭টা ৪২ মিনিট ।

Advertisement

ঝুঁকিপূর্ণ প্রত্যাবর্তন

অ্যারোস্পেস করপোরেশনের মতে, বর্তমানে কোনো মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করা হলে তার কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর পৃথিবীতে ফিরে আসার ঝুঁকি কমাতে আরো কঠোর নিরাপত্তাবিধি মানতে হতো। ২০১৯ সালে হালনাগাদ করা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে পৃথিবীতে ফিরে আসা কোনো মহাকাশযানের মহাকাশের ধ্বংসাবশেষ নিয়ন্ত্রণবিষয়ক নীতিমালায় বলা হয়েছে, কারণে প্রাণহানি বা গুরুতর আহত হওয়ার আশঙ্কা ১০ হাজারে একজনের কম হতে হবে। অ্যারোস্পেস করপোরেশনের মুখপাত্র পার্কার উইশিক এক ই-মেইলে জানান, এখানে হতাহত বলতে গুরুতর আহত হওয়া কিংবা প্রাণহানির ঝুঁকিকে বোঝানো হয়েছে ।

নাসা আগে থেকেই জানত, সুইফট একসময় নিয়ন্ত্রণহীনভাবে পৃথিবীর দিকে নেমে আসতে পারে। তবে সংস্থাটির আশা ছিল, গত জুলাইয়ে পাঠানো একটি বিশেষ উদ্ধার অভিযান মহাকাশযানটিকে ধরে আবার উঁচু কক্ষপথে নিয়ে যেতে পারবে । এতে এর কার্যক্ষমতা আরও ১০ বছর বা তার বেশি বাড়ানো সম্ভব হতো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ঘর্ষণ ও টানের কারণে মহাকাশযানটি ক্রমেই নিচে নেমে আসে। একপর্যায়ে পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা কমে মাত্র ১৭১ মাইল বা ২৭৫ কিলোমিটারে দাঁড়ায়। এরপর এটি আনুষ্ঠানিকভাবে বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহ বন্ধ করে দেয় । নাসা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ঐ পর্যায়ে মহাকাশযানটি বায়ুমণ্ডলীয় ঘর্ষণের বাড়তি চাপ সামাল দিতে পারছিল না। ফলে এটি স্বয়ংক্রিয় নিরাপদ অবস্থায় চলে যায়।

  • সর্বশেষ