কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসারের মধ্যে মেমোরি চিপের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এর ফলে নিজেদের সবচেয়ে জনপ্রিয় কয়েকটি পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়েছে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল ও মাইক্রোসফট। শুক্রবার (২৬ জুন) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার অ্যাপল ম্যাক ও আইপ্যাড সিরিজের দাম বাড়িয়েছে। এর ফলে জনপ্রিয় কয়েকটি মডেলের দাম ২০ শতাংশ বা তারও বেশি বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে এখন বেস মডেলের ‘ম্যাকবুক এয়ারের’ দাম ১ হাজার ৯৯ ডলার থেকে বেড়ে ১ হাজার ২৯৯ ডলার হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ লাখ ৫৯ হাজার টাকার বেশি। অন্যদিকে, সবচেয়ে কম কনফিগারেশনের ‘ম্যাকবুক প্রোর’ দাম ১ হাজার ৬৯৯ ডলার থেকে বেড়ে ১ হাজার ৯৯৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ লাখ ৪৫ হাজার টাকার বেশি।
আইপ্যাড এয়ারের প্রারম্ভিক মূল্য ৫৯৯ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৭৪৯ ডলার এবং আইপ্যাড প্রোর দাম ৯৯৯ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ১৯৯ ডলার করা হয়েছে। এ ছাড়া অ্যাপলের সাশ্রয়ী মূল্যের ম্যাকবুক নিওর দাম ৫৯৯ ডলার থেকে বেড়ে ৬৯৯ ডলার হয়েছে। সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে ম্যাক স্টুডিও এম৩ আল্ট্রা ডেস্কটপ কম্পিউটারের। এর দাম ৩ হাজার ৯৯৯ ডলার থেকে এক লাফে বেড়ে ৫ হাজার ২৯৯ ডলার হয়েছে।
অ্যাপল জানিয়েছে, চিপের বাড়তি দাম থেকে এত দিন গ্রাহকদের সুরক্ষা দিলেও এখন দাম বাড়ানো ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় নেই।
অ্যাপলের এক মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এআই ডেটা সেন্টারগুলোর দ্রুত প্রসারের ফলে মেমোরি ও স্টোরেজের চাহিদায় অভাবনীয় উল্লম্ফন ঘটেছে। কোনো যন্ত্রাংশের দাম এত দ্রুত এবং এত বেশি বাড়তে আমরা আগে কখনো দেখিনি।’
দাম বাড়ানোর এ ঘোষণার পর শেয়ারবাজারে অ্যাপলের শেয়ারের দর ৬ শতাংশের বেশি কমে গেছে। গত বছরের এপ্রিলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের ঘোষণার পর এটিই অ্যাপলের শেয়ারের সর্বোচ্চ পতন।
এদিকে, মাইক্রোসফটও চিপের দাম বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে তাদের এক্সবক্স গেমিং কনসোলের ৫১২ গিগাবাইট ও ১ টেরাবাইট মডেলের দাম যথাক্রমে ১০০ ও ১৫০ ডলার বাড়িয়েছে।
রেডমন্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আমরা আশা করেছিলাম, আর দাম বাড়াতে হবে না। এ জন্য কয়েক মাস ধরে সরবরাহকারীদের সঙ্গে বিকল্প পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু কনসোলের স্টোরেজ ও মেমোরির দাম আড়াই গুণেরও বেশি বেড়েছে। এটি ২০২৭ সাল নাগাদ আরও দ্বিগুণ হতে পারে।’
প্রতিষ্ঠানটি আরও বলেছে, যন্ত্রাংশ-সংকটে পুরো ইলেকট্রনিকস শিল্প ভুগলেও গেমিং কনসোল খাত সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি