২০২৬ সালের শুরু থেকেই বিশ্ব জুড়ে রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা তীব্র আকার নিচ্ছে। ইরান, লাতিন আমেরিকা ও ইউরোপসহ বিভিন্ন অঞ্চলে নাগরিক ও রাজনৈতিক সংঘাতের খবর সামনে এসেছে। বিশেষ করে ইরানে হাজার হাজার মানুষ সরকারের নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নেমেছেন। অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলায় প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আটক করেছে। এই পরিস্থিতি দেখে অনেকেরই মনে হচ্ছে, বুলগেরিয়ার প্রসিদ্ধ জ্যোতিষী বাবা ভাঙ্গার ২০২৬ সালের তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ সম্পর্কিত ভবিষ্যদ্বাণী বাস্তব হতে চলেছে।
বাবা ভাঙ্গা বহু আন্তর্জাতিক ঘটনা, যেমন ৯/১১ হামলা ও কোভিড-১৯ মহামারীকে পূর্বাভাস দেওয়ার মাধ্যমে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। তিনি ২০২৬ সালকে যুদ্ধ ও ধ্বংসের বছর হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিশ্বের প্রধান শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এই পূর্বাভাসকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়ার মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন কোস্ট গার্ড উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে রাশিয়ার তেল ট্যাঙ্কার ‘এম/ভি বেলা ১’ জাহাজ জব্দ করেছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে জাহাজটি ধাওয়া করার পর আটক করা হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই এই ঘটনার সঙ্গে সম্ভাব্য বিশ্বযুদ্ধের সূচনা যুক্ত করছেন।
এছাড়া, ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে, মার্কিন সামরিক বাহিনী ভেনেজুয়েলায় অভিযান চালিয়ে নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করেছে। ট্রাম্প জানান, রাজনৈতিক পুনর্গঠন না হওয়া পর্যন্ত আমেরিকা ভেনেজুয়েলাকে সাময়িকভাবে পরিচালনা করবে। ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রশাসন ৩০ থেকে ৫০ মিলিয়ন ব্যারেলের তেল আমেরিকাকে সরবরাহ করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার মূল কারণ দেশটির বিশাল তেল মজুদ ও পেট্রোডলারের নিয়ন্ত্রণ। ভেনেজুয়েলার তেলের মজুদ আনুমানিক ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল, যা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি।
বিশ্বের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অবস্থার সঙ্গে বাবা ভাঙ্গার পূর্বাভাস মিলিয়ে অনেকের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, আন্তর্জাতিক উত্তেজনা যত বাড়ছে, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঝুঁকি তত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সূত্র: জনকণ্ঠ