শিরোনাম
◈ নির্বাচনের দিন নেতাদের যত অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ ◈ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠু হওয়ায় জাতির প্রতি কৃতজ্ঞ প্রধান উপদেষ্টা ◈ ভোটগ্রহণ শেষ, এবার অপেক্ষা ফলাফলের ◈ দুপুর পর্যন্ত নির্বাচনে ৪৮৬ কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা, ৫৯ কেন্দ্রে জালভোট ◈ দুপুরের পর বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ সারি, উৎসবমুখর ভোটগ্রহণ ◈ গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় আজকের এই নির্বাচন: তারেক রহমান ◈ সিইসির সঙ্গে বৈঠকে ১১ দলীয় জোটের প্রতিনিধি দল ◈ ভোট ডাকাতি হলে আব্বাসের রাজত্ব খানখান করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি নাসীরুদ্দীনের ◈ পুলিশ সদর দপ্তরে কন্ট্রোল রুম থেকে ভোটের চিত্র পর্যবেক্ষণ করলেন প্রধান উপদেষ্টা ◈ দুপুর ১২টা পর্যন্ত দেশের ৩২ হাজার ৭৮৯ কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ৩২.৮৮ শতাংশ: ইসি সচিব

প্রকাশিত : ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৭:৩২ বিকাল
আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

যে কারণে হঠাৎ নীল রঙের বিষধর সাপ পোষার ঝুঁকিতে মেতেছে চীনা তরুণরা

চীনের তরুণ-তরুণীদের মধ্যে সম্প্রতি এক বিপজ্জনক ও অদ্ভুত প্রবণতা দেখা দিয়েছে। বিড়াল-কুকুরের মতো প্রচলিত পোষ্যের বদলে তারা ঘরে রাখছেন নীল রঙের একটি অত্যন্ত বিষধর সাপ। জনপ্রিয় অ্যানিমেটেড সিনেমা ‘জুটোপিয়া ২’–এর একটি চরিত্রের প্রভাবেই এই ঝুঁকিপূর্ণ উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সিনেমাটিতে দর্শকদের দৃষ্টি কাড়ে ‘গ্যারি ডি’স্নেক’ নামের একটি চরিত্র, যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় পাওয়া নীল পিট ভাইপারের আদলে তৈরি। পর্দার সেই চরিত্রের প্রতি মোহ থেকেই বাস্তব জীবনে নীল রঙের বিষধর সাপ পোষার আগ্রহ বাড়তে শুরু করেছে চীনা যুবসমাজের মধ্যে।

চীনের বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কয়েক হাজার ইউয়ান খরচ করে এই সাপ কিনছেন তরুণরা। অনেকেই শোবার ঘর, ড্রয়িং রুম কিংবা ব্যক্তিগত সংগ্রহশালায় কাঁচের বাক্সে সাপগুলো রাখছেন।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, নীল পিট ভাইপার অত্যন্ত বিপজ্জনক একটি প্রজাতি। এর বৈজ্ঞানিক নাম ট্রাইমেরেসুরাস ইনসুলারিস। দেখতে আকর্ষণীয় হলেও এর বিষ শক্তিশালী হেমোটক্সিক প্রকৃতির। কামড়ের পর দ্রুত চিকিৎসা না পেলে আক্রান্ত স্থানে পচন ধরতে পারে, এমনকি শরীরের কোনো অঙ্গ স্থায়ীভাবে বিকল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে। যদিও সময়মতো অ্যান্টিভেনম প্রয়োগে প্রাণহানির ঝুঁকি কিছুটা কমানো সম্ভব।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় চীনের একাধিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ইতোমধ্যে এই সাপের বিক্রি বন্ধ করেছে। তবে তাতেও থামেনি চাহিদা। বরং কালোবাজারে নীল পিট ভাইপারের দাম এখন আকাশছোঁয়া বলে জানা গেছে।

চীনের আইন অনুযায়ী বিষাক্ত প্রাণী বা বিপজ্জনক বস্তু কুরিয়ারের মাধ্যমে পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবুও আইনের ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে গোপনে এসব সাপের কেনাবেচা চলছে। সরকারি তথ্যমতে, চীনে বিদেশি ও অদ্ভুত ধরনের পোষ্য প্রাণী পালনের প্রবণতা গত কয়েক বছরে বহুগুণ বেড়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় হাজার কোটি ইউয়ানে পৌঁছেছে।

এই প্রবণতা প্রশাসনের পাশাপাশি জননিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদেরও উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। তাদের আশঙ্কা, কোনোভাবে যদি এসব বিষধর সাপ লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে তা মারাত্মক জননিরাপত্তা সংকট তৈরি করতে পারে।

রূপালি পর্দার একটি চরিত্র থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে বাস্তব জীবনে এমন ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের জন্য কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে—এ নিয়েই এখন চীনের সচেতন মহলে চলছে তীব্র আলোচনা। সূত্র: আরটিভি

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়