স্পোর্টস ডেস্ক : বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতির বিরুদ্ধে এবার উঠেছে দ্বৈত বেতন নেওয়ার অভিযোগ। ফিফা সভাপতি হিসেবে নিয়মিত বেতনের পাশাপাশি বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্বে থাকা পৃথক একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেও মোটা অঙ্কের অর্থ নিয়েছেন তিনি। শুধু তা-ই নয়, ২০২৫ সালে তাঁর বার্ষিক বেতন এক লাফে ৩৩ শতাংশ বাড়ানোর বিষয়টিও নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ফিফা ও যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবার (আইআরএস) নথির বরাতে ইনফান্তিনোর অতিরিক্ত অর্থপ্রাপ্তির বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ফিফা সভাপতি হিসেবে নিয়মিত বেতন পাওয়ার পাশাপাশি বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য গঠিত পৃথক একটি সংস্থা থেকেও অর্থ পেয়েছেন তিনি। এই অর্থপ্রাপ্তির বিষয়টি আগে প্রকাশ্যে আসেনি বলে দাবি করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালে ফিফা সভাপতি হিসেবে ইনফান্তিনোর বার্ষিক বেতন ছিল ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৪৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এর বাইরে বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্বে থাকা পৃথক সংস্থা থেকে আরও প্রায় ১৬ কোটি ৭৬ লাখ টাকা পেয়েছেন তিনি। বিশ্বকাপ আয়োজন ফিফার সভাপতির দায়িত্বেরই অংশ হওয়ায় আলাদা করে এই অর্থ নেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিতর্কের এখানেই শেষ নয়। ২০২৫ সালে ইনফান্তিনোর বার্ষিক বেতন ৩৩ শতাংশ বাড়ানো হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে কীসের ভিত্তিতে তাঁর বেতন এতটা বাড়ানো হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বেতন বৃদ্ধির পর তাঁর বার্ষিক আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৭ কোটি ২০ লাখ টাকা।
বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে বসে ইনফান্তিনোর আর্থিক সুবিধা গ্রহণ নিয়ে নতুন এই অভিযোগ ফিফার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে ফিফার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং অর্থপ্রাপ্তির প্রেক্ষাপট সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য ছাড়া বিষয়টিকে চূড়ান্ত অনিয়ম হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।