স্পোর্টস ডেস্ক : লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে হারের পর একযোগে পাকিস্তানের সাত ক্রিকেটারকে একযোগে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। এরপর থেকে জাতীয় সাইবার অপরাধ দমন সংস্থার তদন্তের মুখে রয়েছেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। একপর্যায়ে সংস্থাটির পাঠোনো নোটিশকে চ্যালেঞ্জ করে লাহোর হাইকোর্ট আবেদন করেছিলেন এই ক্রিকেটার।
তবে আদালত আবেদনটি খারিজ দিয়ে জাতীয় সাইবার অপরাধ দমনের জিজ্ঞাসাবাদের জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
এরপর বাধ্য হয়ে আইসিসি শরণাপন্ন হন এই উইকেটরক্ষক। জিও নিউজকে দেওয়া তথ্যানুসারে, রিজওয়ান তার বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার জন্য পিসিবির কাছে দুবার অনুমতি চেয়েছিলেন, কিন্তু উভয় ক্ষেত্রেই তাকে অনুমতি দেওয়া হয়নি।----- বিডিপ্রতিদিন
সূত্রমতে, রিজওয়ান ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এনসিসিআইএ) তদন্তকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিতর্কের বিষয়ে বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন। পাকিস্তানের সাদা বলের ক্রিকেটের সাবেক এই অধিনায়ক তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রকাশ্যে ব্যাখ্যা দিতে এবং এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে লেখা একটি চিঠি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানাতে চেয়েছিলেন।
সূত্র জানিয়েছে, রিজওয়ান তার কেন্দ্রীয় চুক্তির শর্তাবলী মেনেই পিসিবির কাছে অনুমতি চেয়েছিলেন। তবে বোর্ড উভয় বারই অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানায়। কেন্দ্রীয় চুক্তির ৪.১ নম্বর ধারা অনুযায়ী, চুক্তির আওতাভুক্ত কোনো বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করার আগে খেলোয়াড়কে অবশ্যই অনুমতি নিতে হয়।
সূত্রমতে, রিজওয়ান ১৬ নম্বর ধারাটি ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন, যেখানে পিসিবি ও খেলোয়াড়ের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার কথা বলা হয়েছে।
সূত্র আরও জানায়, এই ক্রিকেটার পিসিবি বা অন্য কোনো সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা ছিল না; বরং তিনি নিজের অবস্থান এবং ঘটনার বিষয়গুলো জনগণের সামনে তুলে ধরতে চেয়েছিলেন।
ইংল্যান্ডে লর্ডস টেস্টের পর রিজওয়ানের মোবাইল ফোন জব্দ করার ঘটনায় এনসিসিআইএ-র চলমান তদন্তের মধ্যেই এই নতুন ঘটনাটি সামনে এল। গত সপ্তাহে লাহোর হাইকোর্টে (এলএইচসি) এক শুনানির সময় রিজওয়ানের আইনজীবী কাজী উমাইর আলী প্রধান বিচারপতি আলিয়া নীলুমকে জানান, টেস্টের পর ওই ক্রিকেটারকে একটি হোটেলের লবিতে ডেকে নেওয়া হয়েছিল এবং কোনো নোটিশ ছাড়াই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল।
আইনজীবীর ভাষ্যমতে, তিন ঘণ্টার মধ্যে মোবাইল ফোনটি ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সেটি হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। তবে ডিভাইসটি এখনো ফেরত দেওয়া হয়নি।
এর আগে সূত্র জিও নিউজকে জানিয়েছিল, ফোন জব্দ করার বিষয়ে রিজওয়ান আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী ইউনিটের (এসিইউ) কাছেও পরামর্শ চেয়েছিলেন।
তিনি জানতে চেয়েছিলেন, তার বিরুদ্ধে নেওয়া এই পদক্ষেপ সম্পর্কে আইসিসি বা ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) দুর্নীতিবিরোধী কর্তৃপক্ষ অবগত ছিল কি না অথবা তারা এর সঙ্গে জড়িত ছিল কি না। এছাড়াও তিনি জানতে চেয়েছেন, তার মোবাইল ফোনটি চাওয়া, হস্তান্তর করা এবং সেটির ফরেনসিক পরীক্ষা চালানোর ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে, তা আইসিসি-র দুর্নীতিবিরোধী বিধিমালার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না।
এনসিসিআইএ-র এই তদন্তটি মূলত পাকিস্তান ক্রিকেটে অনলাইন বাজি ও জুয়া সংক্রান্ত; পাশাপাশি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ চলাকালে পাকিস্তান দলের ড্রেসিং রুম থেকে তথ্য ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে, তার সাথেও এই তদন্তের যোগসূত্র থাকার কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
চলতি মাসের শুরুর দিকে লাহোরে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সামনে হাজিরা দিয়েছিলেন রিজওয়ান ও ইমাম-উল-হক। তবে কোনো খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধেই আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি।