শিরোনাম
◈ সৌদি আরবের লোহিত সাগরীয় তেলপথ সুরক্ষায় সেনা পাঠাবে ফ্রান্স: ম্যাক্রোঁ ◈ রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের ইউরেনিয়াম চালান আসেনি, এয়ার স্পেস ক্লিয়ার না থাকায় কার্গো বিমান বাতিল ◈ আগামী অক্টোবর মাসে আসছে টানা ৭ দিনের ছুটি, কারা পাবেন এই সুযোগ! ◈ ৫ বছরেও জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়নি জকিগঞ্জের গ্যাস, নতুন ২ কূপ খননে ৩১৫ কোটি টাকার উদ্যোগ ◈ নারী হ‌কি‌তে কাজাখস্তানের সঙ্গে ৩-৩ ড্র, এশিয়ান গেমসে প্রথম পয়েন্ট বাংলাদেশের ◈ প্রধানমন্ত্রীর প্রতি গুতেরেসের অভিনন্দন, বিশ্বশান্তি ও জনকল্যাণে বাংলাদেশের রূপরেখা উপস্থাপন ◈ জাতিসংঘে ভাষণে ‌ডোনাল্ড ট্রাম্প ১০টি মিথ্যা ব‌লে‌ছেন: দ্য গার্ডিয়ান ◈ ইরান-যুদ্ধের সময় আ‌মে‌রিকার যুদ্ধ জাহাজ আব্রাহাম লিংক‌নের ৮ নাবিক আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে: মার্কিন নৌবাহিনী ◈ জাতিসংঘে একই পরিবারের তিন সদস্যের ভাষণ, বিরল ইতিহাস গড়লেন তারেক রহমান ◈ শেষ মুহূর্তে গ্যাকপোর গোলে জার্মানিকে রুখে দি‌লো নেদারল্যান্ডস

প্রকাশিত : ০৮ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫৮ দুপুর
আপডেট : ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ০২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : এল আর বাদল

বাবার অশ্রু, ছেলের হাসি, এ যে‌নো হালান্ডের মহাকাব্য: দ্য গার্ডিয়ান এর প্রতি‌বেদন

স্পোর্টস ডেস্ক : ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, কখনো কখনো এটি হয়ে ওঠে জীবনের সবচেয়ে আবেগঘন গল্পের নাম। এমন কিছু গল্প আছে, যেখানে পরাজয়ের ভেতরেই লুকিয়ে থাকে ভবিষ্যতের বিজয়, অপমানের আড়ালেই জন্ম নেয় গৌরবের নতুন ইতিহাস। আর্লিং হালান্ড ও তার বাবা আলফ-ইঞ্জে হালান্ডের গল্প ঠিক তেমনই—যেখানে বেদনা একদিন রূপ নিয়েছে মহিমায়, আর প্রতিশোধ এসেছে প্রতিহিংসায় নয়, শ্রেষ্ঠত্বের মাধ্যমে।

আলফ-ইঞ্জে হালান্ড ছিলেন নরওয়ের একজন সাহসী ও পরিশ্রমী ফুটবলার। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে নটিংহ্যাম ফরেস্ট, লিডস ইউনাইটেড ও ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে খেলেছেন তিনি। নরওয়ে জাতীয় দলের জার্সিতেও দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন গর্বের সঙ্গে। মাঠে তিনি ছিলেন নির্ভীক, আপসহীন এবং লড়াকু একজন ফুটবলার।

১৯৯৭ সালের সেপ্টেম্বরে লিডস ইউনাইটেডের হয়ে খেলতে গিয়ে রয় কিনের সঙ্গে তার একটি সংঘর্ষ হয়। ট্যাকল করতে গিয়ে কিন নিজেই গুরুতর হাঁটুর চোটে পড়ে যান। ব্যথায় কাতরাতে থাকা কিনকে দেখে আলফ-ইঞ্জে ভেবেছিলেন, তিনি হয়তো অভিনয় করছেন। তাই তাকে উঠে দাঁড়াতে বলেন। ঘটনাটি রয় কিনের মনে গভীর ক্ষোভের জন্ম দেয়।

চার বছর পর, ২০০১ সালের এপ্রিল। স্থান ওল্ড ট্রাফোর্ড। ম্যানচেস্টার ডার্বির উত্তেজনায় মুখোমুখি দুই পুরোনো প্রতিদ্বন্দ্বী। ম্যাচের শেষদিকে রয় কিন বলের চেয়ে বেশি মনোযোগ দেন আলফ-ইঞ্জের হাঁটুর দিকে। ভয়াবহ এক ট্যাকলে তিনি আলফ-ইঞ্জেকে মাটিতে ফেলে দেন। সঙ্গে সঙ্গে লাল কার্ড দেখেন কিন। পরে নিজের আত্মজীবনীতে তিনি স্বীকার করেন, ট্যাকলটি ছিল ইচ্ছাকৃত এবং চার বছর আগের ঘটনার প্রতিশোধ।

advertisement

এরপর আর কখনোই আলফ-ইঞ্জে আগের ছন্দে ফিরতে পারেননি। দীর্ঘদিন চোট, অস্ত্রোপচার এবং শারীরিক জটিলতার সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে মাত্র ৩০ বছর বয়সে পেশাদার ফুটবলকে বিদায় জানাতে হয় তাকে। একটি সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ারের ইতি ঘটে খুব অল্প বয়সেই। কিন্তু ভাগ্য তখনও শেষ অধ্যায় লেখেনি।

বাবার অবসরের সময় আর্লিংয়ের বয়স মাত্র তিন বছর। মাঠ থেকে বিদায় নেওয়া সেই বাবাই ছেলের ভেতরে গড়ে তুলতে শুরু করেন নতুন এক স্বপ্ন। তিনি প্রতিশোধের শিক্ষা দেননি; শিখিয়েছেন কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা, আত্মবিশ্বাস এবং কখনো হার না মানার মানসিকতা।

সময়ের চাকা ঘুরতে ঘুরতে ২০২২ সালে আর্লিং হালান্ড যোগ দিলেন ম্যানচেস্টার সিটিতে—সেই ক্লাবে, যেখানে খেলার সময়ই তার বাবার ক্যারিয়ার বড় ধাক্কা খেয়েছিল। এরপর যা ঘটল, তা যেন ফুটবল ইতিহাসের এক অনন্য চিত্রনাট্য।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে নিজের প্রথম ডার্বিতেই হ্যাটট্রিক। ৬–৩ গোলের দুর্দান্ত জয়। এরপর ওল্ড ট্রাফোর্ডেও গোল করে প্রতিপক্ষকে স্তব্ধ করে দেওয়া। শুধু গোল নয়, নিজের প্রথম মৌসুমেই প্রিমিয়ার লিগ, এফএ কাপ এবং উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতে ট্রেবল অর্জন। একের পর এক রেকর্ড ভেঙে বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা।

আজ যখন আলফ-ইঞ্জে গ্যালারিতে বসে ছেলের প্রতিটি গোল উদযাপন করেন, তখন হয়তো তার চোখে ভেসে ওঠে সেই অসমাপ্ত স্বপ্নগুলোর ছবি। যে বাবা একদিন আহত হয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন, আজ সেই বাবার সন্তান ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে প্রতিপক্ষের জাল কাঁপিয়ে ইতিহাস লিখছে।

রয় কিন হয়তো একদিন একটি ট্যাকলে একজন ফুটবলারের শরীরকে থামিয়ে দিতে পেরেছিলেন। কিন্তু কোনো ট্যাকলই একটি স্বপ্নকে থামাতে পারেনি। কারণ সেই স্বপ্ন নতুন করে জন্ম নিয়েছিল একজন ছেলের পায়ে।

ফুটবলের সবচেয়ে সুন্দর প্রতিশোধ কখনো লাথি দিয়ে নেওয়া হয় না। তা নেওয়া হয় গোল দিয়ে, ট্রফি দিয়ে, ইতিহাস লিখে। আর সেই ইতিহাসের নাম—আর্লিং হালান্ড।

  • সর্বশেষ