স্পোর্টস ডেস্ক : সিয়াটলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন রীতিমতো দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়ে থমকে গেছে। আর মাঠের সেই হারে দলটির সমর্থকেরা যখন চোখের জলে ভাসছেন, ঠিক তখনই ওদিকে উদযাপনে মেতে উঠেছে ইরান ফুটবল ফেডারেশন। মাঠ ও মাঠের বাইরে রাজনৈতিক নানা টানাপোড়েনে ঠাসা এই টুর্নামেন্টে সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রের এমন আকস্মিক বিদায়ের পর, ইরানি কর্মকর্তারা রীতিমতো ধুয়ে দিয়েছেন মার্কিনদের।
বেলজিয়ামের কাছে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপ মিশন একদম মুখ থুবড়ে পড়েছে। আর বিশ্বকাপের সহ-আয়োজকদের এই ভরাডুবির পর ওদিকে তেহরানে বইছে আনন্দের জোয়ার। গ্রুপ পর্বে নিজেদের তিনটি ম্যাচই ড্র করে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়া ইরান উত্তর আমেরিকায় থাকাকালীন নানাভাবে বৈষম্যের শিকার হয়েছিল। তাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ের পর রাজনৈতিক চালবাজির বিরুদ্ধে ফুটবলের জয়কে তুলে ধরতে বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট করেনি তারা। - টি স্পোর্টস
এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ইরান ফুটবল ফেডারেশনের একজন মুখপাত্র দাবি করেন, ‘ফুটবলের কাছে রাজনীতির এই অপমানজনক পরাজয় উদযাপন করতে আজ পুরো পৃথিবী নাচছে।’ এই মন্তব্যটিকে মার্কিন সরকারের প্রতি সরাসরি একটি বড় চড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন যখন টুর্নামেন্টের শুরুতে ইরানের বিদায় নিশ্চিত হওয়ার পর নিজের ‘খুশি’ হওয়ার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছিলেন, ঠিক তার জবাবেই এই কড়া বার্তা দিল ইরান।
দুই দেশের মধ্যকার তিক্ততা চরম রূপ নেয় তখন, যখন মার্কিন কর্মকর্তা মুলিন ইরানের বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ায় নিজের উল্লাস প্রকাশ করেন। এই মার্কিন কর্মকর্তা বলেছিলেন, ‘আমি শুধু এতেই খুশি যে ওদের (ইরান) পাট চুকে গেছে এবং ওরা আর ফিরছে না।
আমরা যখন ওদের ভিসা বাতিল করতে পেরেছিলাম এবং বলেছিলাম যে ওরা মার্কিন মাটি ছাড়তে পারে, আমি এতটাই খুশি হয়েছিলাম যে হয়তো একটা-দুটা গান গেয়েছিলাম, এমনকি খুশিতে একটু নেচেও ছিলাম। ওরা ফিরে যাচ্ছে দেখে আমি ভীষণ খুশি, কারণ টুর্নামেন্টে ওদের মতো এত ঝামেলা আর কোনো দলকে নিয়ে আমাদের পোহাতে হয়নি।
ইরানের পক্ষ থেকে এর জবাব আসতেও সময় লাগেনি, একদম আপসহীন ভাষায় তারা জানিয়েছে: ‘মার্কিন কর্মকর্তাদের এমন দুর্ব্যবহার আর মিথ্যায় ইরানিরা অভ্যস্ত, তাই ইরানের কেউ এই শত্রুভাবাপন্ন মন্তব্যে অবাক হয়নি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এই মন্তব্যগুলো আবারও প্রমাণ করে যে, আন্তর্জাতিক আইন কিংবা একটি বৈশ্বিক ক্রীড়া ইভেন্ট আয়োজন করার মতো আয়োজক দেশের যে ন্যূনতম নীতি থাকা উচিত, তার প্রতি মার্কিন কর্মকর্তাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই। তিনি যে প্রকাশ্যে ইরানের বিদায় উদযাপন করছেন, তা আমাদের দলের চেয়ে তাঁর নিজের চরিত্র নিয়েই বেশি কথা বলে।
এর পাশাপাশি ইরান ফুটবল ফেডারেশন টুর্নামেন্ট চলাকালীন তাদের দলের ওপর হওয়া ‘অমানবিক ও অপেশাদার আচরণের’ বিষয়টিও জোরালোভাবে তুলে ধরে। যার মধ্যে ছিল অ্যারিজোনা থেকে তাদের বেস ক্যাম্প জোরপূর্বক মেক্সিকোতে সরিয়ে নিতে বাধ্য করা এবং ফেডারেশন সভাপতি মেহেদি তাজসহ দলের ১১ জন স্টাফকে মার্কিন ভিসা না দেওয়া।
এদিকে এই পরাজয়ের মধ্য দিয়ে তিন সহ-আয়োজক দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো—সবাই শেষ ষোলোর মঞ্চ থেকেই বিদায় নিল। ফলে টুর্নামেন্টের পরবর্তী রাউন্ডগুলোতে আর কোনো আয়োজক দেশের প্রতিনিধিত্ব রইল না। যুক্তরাষ্ট্রের এখন সব মনোযোগ ভবিষ্যতের দিকে; যেখানে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, প্রধান কোচ মরিসিও পচেত্তিনো নতুন চুক্তিতে সই করে দায়িত্বে থেকে যাবেন, নাকি বিদায়ের পথ খুঁজবেন।