শিরোনাম
◈ পেনাল্টি মিসের মাশুল, হলান্ডের জোড়া গোলে বিদায় ব্রাজিলের ◈ ১২ হাজারের বেশি অভিবাসীকে ফেরত পাঠিয়েছে সৌদি ◈ বিশ্বকা‌পে চমক দেখা‌নো কেপ ভার্দের ফুটবলাররা দেশে ফিরে বীরোচিত সংবর্ধনা পেলেন ◈ 'আমার মৃত্যুর পর আমার লাশ যেনো এফডিসিতে নেওয়া না হয়': রোজিনার বিস্ফোরক মন্তব্য ◈ মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে ধাক্কা, ৩ বন্ধুর মর্মান্তিক মৃত্যু ◈ বিচার বিভাগে বড় পরিবর্তন, একযোগে ৩৮ বিচারকের নতুন পদায়ন ◈ যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগনকে ছাড়িয়ে বিশ্বের বৃহত্তম সামরিক সদর দপ্তর ‘দি অক্টাগন’ উদ্ভোধন করল মিশর ◈ ‌বিশ্বকা‌পে এবার ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা কতদূর যাবে,জা‌নি‌য়ে দি‌লো সুপারকম্পিউটার  ◈ বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা বাড়াতে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের নতুন পরিকল্পনা ◈ বিশ্বের ১০ জনবহুল দেশের ৮টিই নেই বিশ্বকাপে: কেন পিছিয়ে বাংলাদেশ-ভারত?

প্রকাশিত : ০৬ জুলাই, ২০২৬, ০৪:২৪ সকাল
আপডেট : ০৬ জুলাই, ২০২৬, ০৫:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

পেনাল্টি মিসের মাশুল, হলান্ডের জোড়া গোলে বিদায় ব্রাজিলের

প্রথমার্ধে গোল বাতিলের কারণে লিড নিতে পারেনি ব্রাজিল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে জোড়া গোল করে ব্রাজিলকে বিদায় করে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নরওয়েকে কোয়ার্টার ফাইনালে তোলেন আরলিং হালান্ড। ২-১ গোলের জয়ে ব্রাজিলকে কাঁদিয়ে মাঠ ছাড়ে নরওয়ে।

যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে শেষ ষোলোর ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধের ৭৯ ও ৯০ মিনিটে দুই গোল করে ব্রাজিলকে বিদায় করে ইতিহাস সৃষ্টি করেন হালান্ড। শেষদিকে অতিরিক্ত সময়ের দশোম মিনিটে পেনাল্টি থেকে ব্যবধান কমান নেইমার। তবে তাতে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় এড়াতে পারেনি সেলেসাওরা।

ম্যাচের প্রথমার্ধের তৃতীয় মিনিটে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে উঠে আসে নরওয়ে। বক্সের ভেতরে আলেকজান্ডার সোরলথ বল পাস বাড়িয়ে দেন প্যাট্রিক বের্গের দিকে। তার শট জালে জড়াতেই উল্লাসে মেতে ওঠে নরওয়ে। তবে সেই আনন্দ স্থায়ী হয়নি। সহকারী রেফারি সঙ্গে সঙ্গেই অফসাইডের পতাকা তোলেন। রিপ্লেতে দেখা যায়, আক্রমণের শুরুতে সোরলথ অফসাইডে ছিলেন। ফলে গোলটি বাতিল করা হয়।

ম্যাচের ১০ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে উঠে আসে ব্রাজিল। বক্সের ভেতরে মাতেউস কুনিয়াকে ফাউল করেন ক্রিস্টোফার আইয়ার। তবে প্রথমে কোনো ফাউলের বাঁশি বাজাননি রেফারি। রিপ্লেতে ঘটনাটি স্পষ্ট হওয়ায় ভিএআরের পরামর্শে সাইডলাইন মনিটরে গিয়ে আবারও পুরো ঘটনাটি দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রস্তুতি নেন তিনি।

পেনাল্টি নিতে এগিয়ে যান ব্রুনো গিমারায়েস। বলটি ভিনিসিয়ুসের কাছ থেকে তাকে ছেড়ে দেন সতীর্থরা। রান-আপে গতি কমিয়ে গোলরক্ষককে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন ব্রুনো। তবে সঠিক দিক আন্দাজ করে অসাধারণ সেভ করেন ওরইয়ান নিল্যান্ড। ফলে ব্রাজিলকে লিড নিতে দেননি নরওয়ের গোলরক্ষক।

এই পেনাল্টি মিসের মধ্য দিয়ে চার দশকের একটি রেকর্ড ভেঙেছে সেলেসাওরা। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের বিপক্ষে জিকোর পেনাল্টি মিসের পর বিশ্বকাপের মূল সময়ে (টাইব্রেকার বাদে) আর কোনো ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড় পেনাল্টি মিস করেননি।

১৮ মিনিটে দারুণ এক পাল্টা আক্রমণ গড়ে তোলে ব্রাজিল। নিজেদের অর্ধে বল কেড়ে নিয়ে গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি দ্রুত এগিয়ে যান প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে। এরপর বল বাড়িয়ে দেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের কাছে। ভিনিসিয়ুস বক্সে থাকা মাতেউস কুনহার উদ্দেশে নিখুঁত ক্রস তুললেও শেষ মুহূর্তে কোনো রকমে বিপদ সামাল দেয় নরওয়ের রক্ষণভাগ।

এরপর প্রথমার্ধে একাধিক চেষ্টা চালায় দুই দলই। কিন্তু গোলের দেখা পায়নি কেউই। প্রথমার্ধের বিরতির পর খেলা ফিরলে ৫৯ মিনিটে দারুণ এক সুযোগ পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হন মাতেউস কুনহার বদলি নামা এনদ্রিক। মাঝমাঠে বল কেড়ে নেন কাসেমিরো। এরপর তিনি বল বাড়িয়ে দেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের কাছে। ভিনিসিয়ুসের দারুণ এক থ্রু পাসে একা বক্সে ঢুকে পড়েন এনদ্রিক। গোলরক্ষক ওরইয়ান নিল্যান্ডকে চিপ করে পরাস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। তবে তার শট অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়।

৬২ মিনিটে হেড থেকে আসা বল পেয়ে ভলিতে শট নেন রায়ান। দুর্দান্ত সেই প্রচেষ্টা নিশ্চিত গোল হতে পারতো। কিন্তু অসাধারণ দক্ষতায় বলটি ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক ওরইয়ান নিল্যান্ড।

পরের মিনিটে আবারও গোলের চেষ্টা করেন ব্রুনো গিমারেস। তবে এবারও দারুণ সেভ করে ব্রাজিলকে হতাশ করেন নরওয়ের গোলরক্ষক ওরইয়ান নিল্যান্ড। অবশ্য বল জালে জড়ালেও গোলটি গণ্য হতো না। কারণ আক্রমণের শুরুতেই ব্রাজিলের একজন খেলোয়াড় অফসাইডে ছিলেন।

৬৬ মিনিটে বাম দিক থেকে কর্নার নেন আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপ। অ্যালিসন বেকার বলটি মুঠো থেকে ঠেলে দূরে সরিয়ে দেন। পরে গ্যাব্রিয়েলের গায়ে লেগে বল মাঠের বাইরে চলে যায়। সামনেই সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে না পারায় হতাশায় মাথা নাড়েন আরলিং হালান্ড। আরও ভালো করতে পারতেন নরওয়ের এই তারকা স্ট্রাইকার।

দ্বিতীয় হাইড্রেশন ব্রেকের আগে জোড়া পরিবর্তন করেছে ব্রাজিল। রায়ানের পরিবর্তে মাঠে নামেন নেইমার। আর গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির জায়গায় নামানো হয় দানিলো সান্তোসকে।

৭৯ মিনিটে ম্যাচের ডেডলক ভাঙেন আরলিং হালান্ড। বাম প্রান্ত থেকে আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপের দারুণ এক ক্রসে গ্যাব্রিয়েলকে উঁচু লাফে হারিয়ে বলের নাগাল পান হালান্ড। শক্তিশালী হেডে তিনি বল জালে পাঠিয়ে দেন। হালান্ডের গোলে ব্রাজিলের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় নরওয়ে।

প্রথম গোল হজম করে টানা দুটি দারুণ সুযোগ তৈরি করে ব্রাজিল। প্রথমে দূরপাল্লার এক শট নরওয়ের রক্ষণকে পরীক্ষা নেয়। এরপর কাসেমিরোর বিপজ্জনক ক্রস অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে পোস্টের পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। গোলের জন্য একের পর এক আক্রমণ চালায় ব্রাজিল। তবে এখন ভাগ্য তাদের পক্ষে ছিলো না। নরওয়ের রক্ষণও দৃঢ়ভাবে সব চাপ সামাল দিচ্ছে।

৯০ মিনিটে আবারও জ্বলে ওঠেন আরলিং হালান্ড। আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপের সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়ায় আক্রমণ গড়ে তোলেন তিনি। শেলদেরুপের কাছ থেকে বল পেয়ে ডান পায়ে সেট করে বাঁ পায়ের জোরালো শটে বল জড়িয়ে দেন জালের নিচের কোণে। হলান্ডের দুর্দান্ত ফিনিশে নরওয়ে তাদের লিড বাড়িয়ে ২-০ করে।

বেঞ্চ থেকে নেমেই দুঃস্বপ্নের অভিজ্ঞতা হলো লিও ওস্টিগার্ডের। শেষদিকে বক্সের ভেতরে ফাউল করে তিনি ব্রাজিলকে পেনাল্টি উপহার দেন। স্পট-কিক নিতে এসে কোনো ভুল করেননি নেইমার। ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়িয়ে ব্যবধান কমান ব্রাজিলের ফরোয়ার্ড। তবে তাতে পরাজয় বা বিদায় কোনোটাই এড়াতে পারেনি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

মেক্সিকো ও ইংল্যান্ডের শেষ ষোলোর বিজয়ী দলের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হবে নরওয়ে।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়