১২০ মিনিটেও মেলেনি জয়ের দেখা। শেষ পর্যন্ত ভাগ্য নির্ধারণ হয়েছে টাইব্রেকারে, আর সেখানেই স্নায়ুর লড়াইয়ে বাজিমাত করেছে মিশর। অস্ট্রেলিয়াকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে মোহাম্মদ সালাহর দল।
নির্ধারিত ৯০ মিনিট এবং অতিরিক্ত ৩০ মিনিট শেষে ম্যাচের স্কোর ছিল ১-১। এরপর টাইব্রেকারে চারটি শটই সফলভাবে জালে পাঠায় মিশর। বিপরীতে অস্ট্রেলিয়া প্রথম ও চতুর্থ শট মিস করায় পাঁচ নম্বর শট নেওয়ার প্রয়োজনই পড়েনি।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে প্রথম শট নিতে এসে হ্যারি সাউত্তারের প্রচেষ্টা ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। এরপর চতুর্থ শটে লুকাস হ্যারিংটনের শট পোস্টে লেগে ফিরে এলে মিশরের জয় নিশ্চিত হয়ে যায়। অন্যদিকে মিশরের চার শুটারই ছিলেন নিখুঁত।
ম্যাচের শুরুটা ছিল মিশরের দারুণ। ১৩তম মিনিটে করিম হাফেজের নিখুঁত ক্রস থেকে শক্তিশালী হেডে দলকে এগিয়ে দেন ইমাম আশুর। প্রথমার্ধে সেই এক গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন ওমর মারমোশ। কিন্তু গোলরক্ষকের মুখোমুখি হয়েও লক্ষ্যভ্রষ্ট হন তিনি। সেই মিসই পরে বড় আক্ষেপ হয়ে দাঁড়ায় মিশরের জন্য।
৫৫তম মিনিটে ভাগ্যের সহায়তায় সমতায় ফেরে অস্ট্রেলিয়া। একটি ফ্রি-কিক থেকে ভেসে আসা বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজের জালেই হেড করে বসেন মিশরের ডিফেন্ডার মোহাম্মদ হানি। চলতি বিশ্বকাপে এটি ছিল তার দ্বিতীয় আত্মঘাতী গোল এবং টুর্নামেন্টের ১৩তম আত্মঘাতী গোল—যা এক আসরে নতুন রেকর্ড।
সমতায় ফেরার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে মিশর। সালাহ, মারমোশ ও আশুর একের পর এক আক্রমণ গড়লেও অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেননি। ৬৩তম মিনিটে আশুরের পাস থেকে সালাহ বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়।
শেষ দিকে জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে দুই দলই। ৮০তম মিনিটে আক্রমণ বাড়াতে ত্রেজেগেকে নামান মিশর কোচ হোসাম হাসান। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া রক্ষণ সামলে পাল্টা আক্রমণে সুযোগ খুঁজতে থাকে।
যোগ করা সময়ে নাটকীয়তা চরমে ওঠে। ৯০+৪ মিনিটে রামি রাবিয়ার দুর্দান্ত হেড অসাধারণ দক্ষতায় কর্নারের বিনিময়ে ফিরিয়ে দেন অস্ট্রেলিয়ার গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচ। দুই মিনিট পর সালাহর নিখুঁত পাস থেকে হাইসেম হাসানের জোরালো শটও শেষ মুহূর্তে হ্যারি সাউত্তার ঠেকিয়ে দিলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও দুই দল গোলের দেখা পায়নি। ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো দলই ব্যবধান গড়তে পারেনি। ফলে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণের দায়িত্ব পড়ে টাইব্রেকারের ওপর।
সেখানেই স্নায়ুর চাপ সামলে নিখুঁত পারফরম্যান্স দেখায় মিশর। চারটি শটই জালে পাঠিয়ে তারা নিশ্চিত করে ৪-২ ব্যবধানের জয়। আর দুটি গুরুত্বপূর্ণ শট মিস করে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় অস্ট্রেলিয়া।
টাইব্রেকারের এই জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করল মিশর। ইমাম আশুরের গোল, মোস্তফা শুবিরের দৃঢ় গোলকিপিং এবং টাইব্রেকারে নিখুঁত শট—সব মিলিয়ে রোমাঞ্চকর এক লড়াই শেষে শেষ পর্যন্ত হাসি ফুটল আফ্রিকার প্রতিনিধিদের মুখে।