স্পোর্টস ডেস্ক : ট্রেন্ট ব্রিজে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় টেস্টই হতে চলেছে ইংল্যান্ড অধিনায়ক বেন স্টোকসের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। রোববার (২৮ জুন) খেলা শুরুর আগেই দলের সতীর্থদের নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান ৩৫ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার।
২০১১ সালে আন্তর্জাতিক অভিষেক, ২০২২ থেকে টেস্ট অধিনায়কত্ব — দীর্ঘ ১৫ বছরের এক গৌরবময় অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটছে।
মাঠের ভেতরে স্টোকস ছিলেন রূপকথার নায়ক। ২০১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অপরাজিত ৮৪ রানের ইনিংসে ইংল্যান্ডকে প্রথমবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করেন।
সেই একই গ্রীষ্মে হেডিংলিতে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে প্রায় একাই লড়াই করে ১৩৫* রানের অবিশ্বাস্য ইনিংস খেলেন। ২০১৬ সালে কেপ টাউনে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে গড়েন ক্যারিয়ার-সেরা ২৫৮ রানের রেকর্ড। ২০২২ সালে কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালামের সাথে মিলে "বাজবল" বিপ্লব এনে ইংলিশ টেস্ট ক্রিকেটকে দিয়েছিলেন সম্পূর্ণ নতুন পরিচয়।
তার অবসর নিয়ে ইসিবি চেয়ারম্যান রিচার্ড থম্পসন বলেন —
বেন স্টোকস ইংল্যান্ডের সর্বকালের সেরাদের একজন হিসেবে আন্তর্জাতিক মঞ্চ ছাড়ছেন। চাপের মুহূর্তে তাঁর পারফরম্যান্স, অদম্য প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অসাধারণ কিছু করার ক্ষমতা — এই স্মৃতিগুলো লক্ষ লক্ষ ভক্তের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবে। ২০১৯ ও ২০২২ বিশ্বকাপজয় থেকে শুরু করে হেডিংলির সেই বীরত্বগাথা — স্টোকস ছিলেন ইংলিশ ক্রিকেটের অনুপ্রেরণার প্রতীক।
ইসিবি প্রধান নির্বাহী রিচার্ড গোল্ড যোগ করেন —
"বেন স্টোকস ইংলিশ ক্রিকেটে যে অবদান রেখে গেছেন তা অপরিমেয়। শুধু দক্ষতা নয়, তাঁর অদম্য মনোবল, আবেগ আর জয়ের তীব্র আকাঙ্ক্ষা সতীর্থ, সমর্থক এবং বিশ্বজুড়ে তরুণ ক্রিকেটারদের অনুপ্রাণিত করেছে। পরিসংখ্যানের বাইরেও তাঁর প্রভাব চিরস্থায়ী।
সব মিলিয়ে ডারহামের এই ক্রিকেটার ইংল্যান্ডের হয়ে ১২২টি টেস্ট খেলেছেন, যার মধ্যে ৪৪টি টেস্টে অধিনায়কত্ব করেছেন। এছাড়া তিনি ১১৪টি ওয়ানডে এবং ৪৩টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। ২০২২ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে তিনি ম্যাচজয়ী পারফরম্যান্স করে ইংল্যান্ডকে শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। টেস্টে ৭,০০০+ রান ও ২৫০+ উইকেটের বিরল "ডাবল" অর্জন করেছেন মাত্র তিনজন — গ্যারফিল্ড সোবার্স, জ্যাক কালিস এবং বেন স্টোকস।