বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে উড়ন্ত সূচনা পেয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছেন লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। এদিন ৩টি গোলই এসেছে ফুটবলের জাদুকর লিওনেল মেসির পা থেকে। বিশ্বকাপের মঞ্চে এটাই মেসির প্রথম হ্যাটট্রিক। কিন্তু হ্যাটট্রিকের ম্যাচেও আলোচনায় এসেছে প্রথম গোলের পর মেসির কান্না। কেন কেঁদেছেন ফুটবলের এই মহাতারকা? সেই প্রশ্নই ঘুরেফিরে আসছে।
কান্নার কারণটা জানিয়েছেন লিওনেল মেসি নিজেই। ম্যাচ শেষে মেসি জানালেন, কান্নার কারণটা ফুটবলীয় নয়। বরং তার ব্যক্তিগত।
এদিন কানসাসে ১৭ মিনিটেই প্রথম গোলের দেখা পান মেসি। গোলের পরই তাকে আবেগপ্রবণ দেখা যায়, ক্যামেরায় ধরা পড়ে মেসির চোখের জল। ৭৬ মিনিটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। ৩ মিনিট পর তাকে তুলে নেওয়া হয়।
খেলা শেষে কান্নার কারণ জানতে চাওয়া হলে মেসি বলেন, ‘সত্যি বলতে, ফুটবলের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। কিছু ব্যক্তিগত কারণে গত কয়েকটা দিন আমার বেশ কঠিন কেটেছে। আমি দলের সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। বরাবরের মতোই তারা সব সময় আমার পাশে ছিল। এই পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার জন্য তারা আমাকে প্রচুর শক্তি জুগিয়েছে, ব্যস এটুকুই।’
ম্যাচের কৌশল ও আলজেরিয়ার শক্তিমত্তা নিয়ে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক বলেন, ‘আমরা জানতাম ম্যাচটি কঠিন হতে যাচ্ছে। ওদের দলে খুব ভালো, গতিময় ও আক্রমণাত্মক কিছু খেলোয়াড় আছে। আমরা ওদের পায়ে বল দিলে ওরা সুযোগ তৈরি করতে পারত, তবে বল আমাদের নিয়ন্ত্রণে না থাকার সময়ও আমরা পজিশন ধরে রেখে ভালো অবস্থায় ছিলাম। সৌভাগ্যবশত আমরা শুরুতেই লিড নিতে পেরেছিলাম এবং ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ রেখেছি, যদিও বল পজিশন ধরে রাখার চেনা ছন্দে আমরা পুরো ম্যাচটি খেলিনি।’
মেসি মনে করেন ম্যাচের প্রথমার্ধটা কঠিন ছিল আর্জেন্টিনার জন্য। তার ভাষ্য, ‘কিছুটা কঠিন ছিল (প্রথমার্ধ)। তবে দ্বিতীয়ার্ধ ছিল অন্যরকম। এটাই স্বাভাবিক। যেকোনো টুর্নামেন্ট, বিশেষ করে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচগুলো সব সময়ই কঠিন হয়। গত বিশ্বকাপের (প্রথম ম্যাচের) অভিজ্ঞতা আমাদের ছিল। এবারের বিশ্বকাপে এটা স্পষ্ট যে কেউ কাউকে সহজে ছেড়ে দেবে না।’