স্পোর্টস ডেস্ক : বিশ্বকাপে ব্রাজিলের স্কোয়াডে নেইমারের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। চোটের কারণে সান্তোসের এই তারকা বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বের কোনো ম্যাচ খেলতে না পারার সম্ভবনা প্রবল। চোটাক্রান্ত নেইমার সেলেসাওদের ব্যর্থতার কারণও হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই। অনেকে বলছেন নেইমারের জায়গায় অন্য কোনো তরুণ সুযোগ পেয়ে দলে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারতেন। এই তালিকায় আছেন ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলারও।
ব্রাজিলের বাহিয়ানা এফএম-এর 'সে লিগা বকাও' অনুষ্ঠানে দেওয়া এক বিবৃতিতে নেইমারকে ব্রাজিল দলে রাখা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী দলের এই সদস্য। সাবেক এই বিশ্বচ্যাম্পিয়নের সাফ কথা- ডান পায়ের কাফ মাসলে (পায়ের পেশি) ‘গ্রেড-টু’ চোটের কারণে এই মেগা টুর্নামেন্টে খেলার মতো ন্যূনতম শারীরিক ফিটনেস নেইমারের এই মুহূর্তে নেই। -- টি স্পোর্টস
বিশ্বকাপের বিরতি শুরু হওয়ার আগেই, গত ১৭ মে নিজের বর্তমান ক্লাব সান্তোসের হয়ে মাঠে নামার সময় এই চোটে পড়েছিলেন নেইমার। সেই গুরুতর চোটের পর থেকেই মাঠের বাইরে ছিটকে আছেন এই তারকা ফরোয়ার্ড।
ভ্যাম্পেটা জোর দিয়ে বলেছেন, চোট কাটিয়ে ওঠার যে সময় প্রয়োজন, তাতে টুর্নামেন্টের শুরুর দিকের ম্যাচগুলোতে এই ১০ নম্বর জার্সির তারকার মাঠে নামা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সাবেক এই ফুটবলার বলেন, ‘নেইমার তার শেষ ম্যাচটি খেলেছেন ১৭ মে। বিশ্বকাপে (ফাইনালে ওঠা দলগুলোর জন্য) হয়তো আটটি ম্যাচ থাকে, কিন্তু সেটা তো কেবল যারা ফাইনাল পর্যন্ত যাবে তাদের জন্য। বিশ্বকাপে প্রথম ১৬ দিনের মধ্যেই কিন্তু ৩২টি দল বিদায় নিয়ে বাড়ি ফিরে যায়। আর এই প্রথম ১৬ দিনে নেইমারের খেলার বিন্দুমাত্র কোনো সুযোগ নেই; ডান পায়ের কাফ মাসলে ‘গ্রেড-টু’ ইনজুরি নিয়ে মাঠে নেমে খেলার মতো কোনো অবস্থাতেই তিনি নেই।
নেইমারকে দলে নেওয়া যে কেবল হঠকারী সিদ্ধান্তই নয়, বরং আধুনিক ফুটবলের বাস্তবতার সঙ্গেও সাংঘর্ষিক, তা যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন এই বিশ্বকাপজয়ী মিডফিল্ডার।
‘আমরা যারা খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত কিংবা যারা চিকিৎসা শাস্ত্র বোঝেন, তারা সবাই একটা বিষয় খুব ভালো করেই জানেন- কেবল মেডিকেল বিভাগ থেকে সবুজ সংকেত পেলেই কাজ শেষ হয়ে যায় না; চোট কাটিয়ে মাঠে ফেরার জন্য শরীরকে প্রস্তুত করার একটা 'ফিজিক্যাল ট্রানজিশন' বা শারীরিক রূপান্তরের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।’
আগামী ১৭ তারিখে নেইমারের মাঠের বাইরে থাকার এক মাস পূর্ণ হবে। অথচ চোট পাওয়ার আগে এখানে পাউলিস্টা চ্যাম্পিয়নশিপ বা ব্রাজিলিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে ছোট দলগুলোর বিপক্ষেও তিনি কিন্তু খুব একটা ছন্দে ছিলেন না। সেখানে বিশ্বকাপের মতো একটা আসরে, যেখানে প্রতিটি দেশ ও জাতি শিরোপার জন্য নিজেদের উজার করে লড়াই করে, সেই মঞ্চে খেলার মতো ফিটনেস কি নেইমারের থাকবে?
নিউইয়র্ক রেড বুলসের ট্রেনিং সেন্টারে ব্রাজিল জাতীয় দলের অনুশীলনে অংশ নেননি নেইমার। প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে হওয়া এই অনুশীলন সেশনে নেইমারের অনুপস্থিতি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সেলেসাওদের পরবর্তী বিশ্বকাপ ম্যাচেও তাঁর খেলার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
আগামী শনিবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে হাইতির মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। নিজেদের প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ডের কাছে হেরে গ্রুপ ‘সি’র তলানিতে রয়েছে হাইতি। অন্যদিকে, মরক্কোর বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ড্র করে টেবিলের তৃতীয় স্থানে আছে ব্রাজিল।