স্পোর্টস ডেস্ক : একটি আঞ্চলিক টুর্নামেন্টে অংশ নিতে উত্তর কোরিয়ার একটি নারী ফুটবল দলের সদস্যরা দক্ষিণ কোরিয়ায় পৌঁছেছেন। রোববার (১৭ মে) চীনের একটি বিমানে নায়েগোহিয়াং উইমেন্স এফসি-র ৩৯ জন ফুটবলার সিউলের ইনছন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
তবে বিমানবন্দরে ফুটবলার কোনো মন্তব্য করেননি, যদিও কিছু আন্দোলনকর্মী তাদের ‘স্বাগতম, স্বাগতম’ অভ্যর্থনা জানান এবং তাদের আগমনের দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করেন।
বুধবার(১৯ মে) সফররত দলটি সিউলের দক্ষিণে অবস্থিত শহর সুওনে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন উইমেন্স চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে দেশটির সুওন এফসি উইমেনের মুখোমুখি হবে।
যখন দুই কোরিয়ার সম্পর্ক সৌহার্দ্যপূর্ণ ছিল, তখন তারা মাঝে মধ্যে ক্রীড়া অনুষ্ঠানকে ভালো মুহূর্ত তৈরির জন্য ব্যবহার করত। কিন্তু এই সাম্প্রতিক ফুটবল আয়োজনটি তাদের দীর্ঘদিনের তিক্ত সম্পর্কের বরফ গলার কোনো ইঙ্গিত দেবে বলে মনে হয় না। কারণ উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উন দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে তার সংঘাতমূলক অবস্থান বজায় রেখেছেন।
সিউলের কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ইউনিফিকেশন-এর একজন সিনিয়র রিসার্চ ফেলো লি উতায়ে সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলেছেন, তাদের দক্ষিণ কোরিয়া সফরকে দক্ষিণ-উত্তর সম্পর্কের উন্নতির লক্ষণ হিসেবে ব্যাখ্যা করার ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকা উচিত।
আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনের আওতায় এটিকে একটি সীমিত দক্ষিণ-উত্তর কোরীয় যোগাযোগ হিসেবে দেখাই অধিকতর সঠিক হবে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, কিম বারবার দক্ষিণ কোরিয়াকে তার দেশের প্রধান শত্রু বলে অভিহিত করেছেন এবং কোরীয় উপদ্বীপে যৌথ রাষ্ট্রত্বের ধারণা নির্মূল করে একটি বৈরী ‘দ্বি-রাষ্ট্র’ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ নিয়েছেন।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ সম্ভবত দক্ষিণ কোরিয়ার সাংস্কৃতিক প্রভাব সম্পর্কে কিমের সতর্কতা এবং তিনি মরেন করেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে লেনদেনের ক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়া আর কোনো কাজে আসছে না।
উত্তর কোরিয়া সর্বশেষ ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে একটি টেবিল টেনিস প্রতিযোগিতার জন্য তাদের ক্রীড়াবিদদের দক্ষিণ কোরিয়ায় পাঠিয়েছিল।
ওই সময় ২০১৮ সালের শুরুতে দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত পিয়ংচ্যাং অলিম্পিকে উত্তর কোরিয়ার অংশগ্রহণের পর উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া বেশ কিছু বিনিময় ও সহযোগিতা কর্মসূচিতে নিযুক্ত ছিল।
উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন কূটনীতি ২০১৯ সালে উত্তর কোরিয়ার ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বিরোধের কারণে ভেস্তে গেলে দুই কোরিয়ার মধ্যে এই সংক্ষিপ্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের অবসান ঘটে। এরপর থেকে উত্তর কোরিয়া তার পারমাণবিক অস্ত্রাগার সম্প্রসারণের জন্য উস্কানিমূলক ধারাবাহিক অস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে এবং কূটনীতি পুনরুদ্ধারের জন্য দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।
প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং-এর নেতৃত্বাধীন দক্ষিণ কোরিয়ার বর্তমান উদারপন্থী সরকার উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনের পক্ষে। সরকার জানিয়েছে, বুধবারের ম্যাচে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া উভয় দলকে উৎসাহিত করার জন্য ৩,০০০ সদস্যের একটি দল সংগঠিত করার পরিকল্পনাকারী নাগরিক গোষ্ঠীগুলোকে তারা আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে।
নাগরিক গোষ্ঠীগুলো একটি যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, আমরা এএফসি-র নির্দেশিকা বিশ্বস্তভাবে মেনে চলার পাশাপাশি উভয় দল ও তাদের খেলোয়াড়দের নাম ধরে স্লোগান দিয়ে উৎসাহের সঙ্গে তাদের উৎসাহিত করব।
নারী ফুটবলে বিশেষ করে যুব পর্যায়ে উত্তর কোরিয়া একটি শক্তিশালী দেশ। দেশটি চারবার অনূর্ধ্ব-১৭ নারী বিশ্বকাপ এবং তিনবার অনূর্ধ্ব-২০ নারী বিশ্বকাপ জিতেছে। গত নভেম্বরে মিয়ানমারে অনুষ্ঠিত গ্রুপ পর্বে নায়েগোহিয়াং উইমেন্স এফসি সুওন এফসি উইমেনকে ৩-০ গোলে পরাজিত করে। আগামী বুধবার অপর সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে মেলবোর্ন সিটি এফসি এবং টোকিও ভার্ডি বেলেজা। ফাইনালটি শনিবার সুওনের একটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে।