শিরোনাম
◈ বিশ্বের ১১৪ দেশের স্কুলে মোবাইল নিষিদ্ধ, বাংলাদেশে কী হবে? ◈ মালয়েশিয়ার হালাল মেলায় বড় সাফল্য, ২০ লাখ ডলারের অর্ডার পেল বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান ◈ কয়লাভিত্তিক প্রকল্পে চীনের ‘না’, ঝুলে আছে পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট ◈ মুক্তিপণ থেকে প্রতিশোধ, নানামুখী কারণে বাড়ছে অপহরণ ◈ অনিশ্চিত অজিত দোভালের ঢাকা সফর ◈ বাংলাদেশের পাটপণ্যে নতুন শুল্ক বসাল ভারত, বাড়ল রপ্তানি চ্যালেঞ্জ! ◈ বিদেশে বাংলাদেশি মিশনে এমপিদের সফর-সভা নিয়ে নতুন নির্দেশনা ◈ ইথানলের উৎপাদন বাড়লেও নেই চাহিদা, ৭০০ কোটি লিটার উদ্বৃত্ত নিয়ে বিপাকে ভারত ◈ শি জিনপিং-ট্রাম্প বৈঠক: ৩০ বিলিয়ন ডলারের শুল্ক কমানোসহ ৮ সমঝোতা! ◈ বার বার বিমান বাংলাদেশে স্বর্ণের চালান ও কর্মীসহ আটক: ‘স্বর্ণের খনি’ হয়ে উঠছে উড়োজাহাজ?

প্রকাশিত : ০৪ মে, ২০২৬, ০২:৪২ দুপুর
আপডেট : ১২ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০০ রাত

প্রতিবেদক : এল আর বাদল

মা‌য়ের সোনার গহনা আর বাবার ৪টা দোকান বেচে কার্তিক শর্মা হ‌লেন ক্রিকেটার

স্পোর্টস ডেস্ক : বাবা বলেছিলেন, বল ডিফেন্স করলেই মারবেন। তাই চার-ছক্কা মারা অভ্যাস করেছিলেন রাজস্থানের ভরতপুরের এক কিশোর ক্রিকেটার। বাড়িতে অভাব। দোকান বিক্রি করে ছেলের ক্রিকেট স্বপ্ন বাঁচিয়ে রেখেছিলেন মনোজ শর্মা। সোনার গহনা বেচে দিয়েছিলেন মা। আইপিএল নিলামে ১৪.২০ কোটি টাকায় সিএসকে তুলে নেওয়ার পর কার্তিক শর্মার প্রথম লক্ষ্য ছিল পরিবারের দেনা শোধ করা। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে যে ফর্মে ছিলেন, সেই ম্যাজিক ব্যাটটা খুঁজে পাচ্ছিলেন না ২০ বছর বয়সি ক্রিকেটার। অবশেষে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে ঠান্ডা মাথায় হাফসেঞ্চুরি করে চেন্নাইকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন কার্তিক।

ভরতপুর এমনিতে পাখির জন্য বিখ্যাত। সেখানের এক তরুণের উড়ান দেখার জন্য অপেক্ষায় ছিলেন অনেকে। সেই ইনিংসটা এল আইপিএলের ‘এল ক্লাসিকো’য়। ৪০ বলে ৫৪ রানের ঝকঝকে ইনিংসে ৮ উইকেটে ম্যাচ জিতে প্লেঅফের লড়াইয়ে ভেসে রইল চেন্নাই। বাবার কথামতো ৪টে চার ও তিনটে ছক্কা হাঁকিয়েছেন কার্তিক। 

আর ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে অধিনায়ক রুতুরাজ গায়কোয়ারের (৬৭) সঙ্গে স্ট্রাইক রোটেট করে গিয়েছেন। অধিনায়ক তাঁকে পথ দেখিয়েছেন। আর কার্তিক মাথা ঠান্ডা রেখে ধীরে ধীরে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে গিয়েছেন। আবার প্রয়োজনে রানের গতি বাড়িয়েছেন।

মাত্র ৪ বছর বয়সে ক্রিকেট শুরু কার্তিকের। বাবারও ইচ্ছা ছিল ক্রিকেটার হওয়ার। চোটের জন্য সেই স্বপ্নপূরণ হয়নি। ৭ বছর বয়সে কার্তিককে ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে নিয়ে গেলেও প্রথমে সেখানকার কোচ ভর্তি নিতে রাজি হননি। কিন্তু একটা বল খেলার পরই সিদ্ধান্ত বদলান কোচ। কার্তিকের সফর শুরু। কিন্তু বাড়িতে যে অভাব। বাবার ইংরেজি কোচিং ক্লাস ছিল। ছেলের জন্য সেগুলো বন্ধ করে দেন। বাড়িতে বোলিং মেশিন বসান।

৬টা দোকান ছিল, তার মধ্যে চারটে বেচে দিতে হয়। বিক্রি হয়ে যায় মায়ের সোনার গহনাও। মোট ২৬ লাখ টাকার দেনা ছিল। নিলামে ১৪ কোটি পাওয়ার পর নিশ্চয়ই সেই দেনা শোধ করেছেন। এবার তাঁর ব্যাট কথা বলে উঠল। টাকার দেনা শোধ করা যায়, কিন্তু বাবা-মায়ের ত্যাগ তো আর শোধ করা যায় না। কিন্তু এদিন কার্তিকের ইনিংসে যেন পরিবারের পরিশ্রমের যোগ্য মর্যাদা দিলো।

  • সর্বশেষ