স্পোর্টস ডেস্ক : মিশরের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে গ্যালারি থেকে ভেসে আসা মুসলিম-বিদ্বেষী স্লোগান। বর্ণবাদী এই ঘটনায় কেঁপে ওঠে স্পেনসহ বিশ্ব ফুটবল। গ্যালারি থেকে স্পেনের দর্শকদের এমন আচণের কারণে রয়্যাল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের (আরএফইএফ) বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক তদন্ত শুরু করেছে ফিফা। গত মঙ্গলবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
গত ৩১ মার্চ বার্সেলোনার এস্পানিওল আরসিডিই স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরুর আগে মিশরের জাতীয় সংগীত চলাকালীন দুয়োধ্বনি দেয় স্প্যানিশ সমর্থকরা। অনেক সমর্থক ‘যে লাফাবে না, সে মুসলিম’ বলে স্লোগান দেয়। মিশরের কিছু খেলোয়াড় যখন মাঠে সিজদা দিচ্ছিলেন তখনও গ্যালারি থেকে অসম্মানজনক চিৎকার শোনা যায়।
ম্যাচ শেষে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। দ্রুতই নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দেয় রয়্যাল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন (আরএফইএফ)। গত সপ্তাহে স্প্যানিশ পুলিশও ওই স্লোগানগুলোর বিষয়ে একটি তদন্ত শুরু করেছে। -- টি স্পোর্টস
তবে এতে পার পাচ্ছে না আরএফইএফ। ম্যাচের ভিডিও ফুটেজ পর্যবেক্ষণ এবং রেফারি, ম্যাচ পরিদর্শক ও নিরাপত্তা দলের রিপোর্ট পর্যালোচনার পর ফিফা তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, 'মিশরের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে ঘটে যাওয়া ঘটনার জন্য ফিফা আরএফইএফ-এর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করেছে।
দর্শকদের মুসলিম-বিদ্বেষী আচারণে আঘাত পেয়েছেন স্প্যানিশ তারকা লামিন ইয়ামাল। ১৮ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড নিজেও একজন মুসলিম। ঘটনার পরদিন সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে বার্সেলোনার উইঙ্গার লেখেন, ‘আমি একজন মুসলিম, আলহামদুলিল্লাহ। স্টেডিয়ামে 'যদি তুমি না লাফাও, তবে তুমি একজন মুসলিম' বলে স্লোগান দেওয়া হয়েছে। আমি জানি এটি প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ছিল এবং ব্যক্তিগত কিছু নয়, তবে একজন মুসলিম হিসেবে এটি তবুও অসম্মানজনক এবং সম্পূর্ণ অসহনীয়।
ওই ম্যাচে বিরতির সময় জায়ান্ট স্ক্রিনে একটি বিশেষ বার্তা দেখা যায়। সেখানে সমর্থকদের উগ্রবাদী মন্তব্য ও বর্ণবাদী গান থেকে বিরত থাকার থাকার জন্য মাইকে বারবার নির্দেশ দেওয়া হয়। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আবারও একই সতর্কতা দেওয়া হলে দর্শকদের একটি অংশ উল্টো দুয়োধ্বনি দেয়।
এই ঘটনায় শাস্তি হিসেবে আরএফইএফ এর বিরুদ্ধে বড় অংকের জরিমানা এবং স্টেডিয়াম বন্ধ রাখার মতো শাস্তির খড়গ নেমে আসতে পারে।