শিরোনাম
◈ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল সংকট: চীনের তেলে রহস্যজনক অনাগ্রহ, ভারতকে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি ◈ ওসমান হাদি হত্যা মামলার ২ আসামিকে ফেরত পাঠাতে সম্মত ভারত ◈ শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফেরত চেয়েছে বাংলাদেশ ◈ দর্শক‌দের মুসলিমবিদ্বেষী স্লোগান, ফিফার শাস্তিমূলক তদন্তের মুখে স্পেন ◈ রাষ্ট্রীয় সফরে ভারত যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কোন্নয়নসহ আলোচনায় ৩ চুক্তি ◈ হামের উপসর্গ নিয়ে একদিনে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু ◈ দিল্লি না ঢাকা'-র রেশ কাটিয়ে দিল্লি ও ঢাকা কি কাছাকাছি আসতে পারবে? ◈ ক্রিকেট বো‌র্ডে ক্রিকেট নেই, আ‌ছে সার্কাস: আফতাব আহ‌মেদ ◈ বি‌সি‌বি‌তে তামিম ইকবা‌লের নেতৃত্ব নিয়ে আশাবাদী ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড ◈ ঢামেক চিকিৎসকদের সঙ্গে ঢাবি শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, জরুরি সেবা বন্ধ

প্রকাশিত : ০৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৩২ রাত
আপডেট : ০৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০৩ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

অপরিশোধিত জ্বালানি তেল সংকট: চীনের তেলে রহস্যজনক অনাগ্রহ, ভারতকে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি

ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্বজুড়েই জ্বালানি তেল সংকট দেখা দিয়েছে। দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) অস্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়ার দ্বারপ্রান্তে। এমতাবস্থায় ভারতের কাছে বাড়তি জ্বালানি তেল চেয়ে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ।

পাইপলাইনে ভারত থেকে চুক্তিতে ক্রয় করা ডিজেল আমদানি করা হচ্ছে। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল পর্যন্ত ২৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পাঠিয়েছে ভারত। পক্ষান্তরে চীন ৬০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল দেওয়ার কথা জানিয়েছে। গত ৯ মার্চ বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সাথে সাক্ষাৎ করতে গেলে এই তেল সহায়তার কথা জানান। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে তেমন আগ্রহ দেখায়নি।

যে কারণে জ্বালানি সংকট ক্রমেই ব্যাপক হারে বাড়ছে। সারাদেশ জুড়ে তেল সংকটের একটা প্যানিক সৃষ্টি হওয়ায় সরকার তেলের দাম না বাড়লেও ভোগান্তি বেড়েছে। তেলের অভাবে দূরপাল্লার বাস চলাচলও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক এমন সংকট মোকাবিলায় চীনের মতো একটা দেশের সাথে জ্বালানি তেলের স্থায়ী আমদানির বিষয়টি স্থায়ী ভিত্তিতে থাকা উচিত। তা না হলে ভবিষ্যতে এরকম সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ আরও বিপদে পড়তে পারে। তাতে সরকারও বিপদে পড়বে।

এর আগে বৈশ্বিক করোনা মহামারিতে করোনার টিকার জন্য চীনের সাথে প্রথম চুক্তি করে বাংলাদেশ। কিন্তু তা প্রশাসনের দিল্লিমুখী আমলারা সেই ফাইল চাপা দিয়ে ভারতের কাছে টিকা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। বেক্সিমকো ফার্মার মাধ্যমে প্রায় পৌনে ৬ হাজার কোটি টাকা টিকা ক্রয়ে ভারতকে দেওয়া হয়। কিন্তু ভারতে সেই টিকা না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় বাংলাদেশকে। তারপরেও টিকা নিয়ে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়েছিল চীন। বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে সেই চীন তেল দিয়ে এবারও বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে চায়। অথচ মার্কিন-ভারতের বিরাগভাজন হতে পারে সেজন্যই কী চীনের তেল নিতে এই অনাগ্রহ?

গত মঙ্গলবার সংসদে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা থাকা সত্ত্বেও দেশে সব ধরনের জ্বালানির স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখতে সরকার কাজ করছে। বর্তমানে ডিজেলের

মজুত ১ লাখ ৬৪ হাজার ৬৪৪ মেট্রিক টন। ৩০ এপ্রিলের মধ্যে আরও ১ লাখ ৩৮ হাজার মেট্রিক টন আসবে। অকটেনের মজুত ১০ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন। ৩০ এপ্রিলের মধ্যে আরও ৭১ হাজার ৫৪৩ মেট্রিক টন আসবে। পেট্রোলের মজুত রয়েছে ১৬ হাজার মেট্রিক টন এবং এপ্রিলের মধ্যে আরও ৩৬ হাজার মেট্রিক টন সরবরাহ হবে। দেশে বর্তমানে মোট ২ লাখ ৫৫ হাজার ১৮ টন জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে। জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মজুত করা তেলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে ডিজেল, যার পরিমাণ ১ লাখ ৫৪ হাজার টন।

এছাড়া কেরোসিন রয়েছে ১১ হাজার ৮০০ টন, অকটেন ১০ হাজার ১২৯ টন এবং পেট্রোল ১৬ হাজার ৮৪৯ টন। এর বাইরে ১ লাখ ৩৮ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল বিভিন্ন দেশ থেকে ক্রয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ভারত থেকে শুধু ২৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল ক্রয় করা হয়েছে। ডিজেল ৩ লাখ মেট্রিক টনের বেশি বাংলাদেশে মজুদ রয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতে ব্যবহৃত ফার্নেস অয়েল মজুত রয়েছে ৫৮ হাজার ৭৩৬ টন। পাশাপাশি বিমান পরিবহনে ব্যবহৃত জেট ফুয়েল রয়েছে ৪১ হাজার ৮৭৬ টন এবং নৌপরিবহনের জন্য মেরিন ফুয়েল মজুদ রয়েছে ১ হাজার ১৫৩ টন। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র (যুগ্মসচিব) মনির হোসেন চৌধুরী জানান, দেশে বছরে ডিজেলের চাহিদা ৩ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন।

অকটেন এবং পেট্রোল মাসে দরকার হয় ৭০ হাজার মেট্রিক টন। পেট্রোল এবং অকটেনের পর্যাপ্ত মজুত আছে। কোনও সংকট নেই। কোনও সংকট নেই ডিজেলের ক্ষেত্রেও। তবে প্যানিক বায়িং এখনও বন্ধ হয়নি, যার প্রভাব পড়ছে পেট্রোল পাম্পে। মজুতের প্রবণতাও আছে। যথা নিয়মে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। পরিশোধিত জ্বালানি তেল যথাযথ পরিমাণে আছে। তিনি জানান গত শনিবার সন্ধ্যায় এসব জ্বালানি তেল আসা শুরু হয়। সব তেল এসে পৌঁছাতে আরও এক থেকে দুই দিন সময় লাগতে পারে। বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান ইনকিলাবকে বলেন, ভারত থেকে পাইপলাইনে সরবরাহ অব্যাহত আছে। বিকল্প উৎস সচল রাখায় বর্তমানে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা নেই।

জ্বালানি বিভাগ এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)-এর নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে, ‘ডেডস্টক’ (সংরক্ষণ ট্যাংকের তলায় জমা তেল) এবং পাইপলাইনে থাকা তেলসহ বর্তমান মজুত দিয়ে কেবল আর একদিন পর্যন্ত উৎপাদন চালানো সম্ভব। শোধনাগারটি সাধারণত দৈনিক গড়ে ৪,৫০০ টন অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করে। তবে, সংকট গভীর হওয়ার কারণে বিদ্যমান মজুদকে কাজে লাগাতে উৎপাদন কমিয়ে দৈনিক ৩,৫০০ টনে নামিয়ে আনা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরবরাহে সামান্য বিঘ্ন ঘটলেই বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। ভবিষ্যতেও পড়তে পারে। চলতি মাসে ১৭টি জাহাজে দেশে ডিজেল আসার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত এসেছে ৯টি। একটি জাহাজ পথে রয়েছে। বাকি ৭টির সূচি এখনো অনিশ্চিত। এ ঘাটতি সামাল দিতে পাইপলাইনের ওপর নির্ভরতা বাড়ানো হয়েছে। ইতিমধ্যে ভারত থেকে পাইপলাইনে এসেছে প্রায় ১৫ হাজার টন ডিজেল। এর আগে ২৫ মার্চ পাঁচ হাজার টন ডিজেল সরবরাহ শুরু হয়। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জাহাজের সংকটও তৈরি হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়সূচি ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।

এ প্রেক্ষাপটে পাইপলাইন হয়ে উঠছে তুলনামূলক স্থিতিশীল বিকল্প। ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারির সঙ্গে ২০১৭ সালের ২২ অক্টোবর চুক্তি করে বিপিসি। ভারত থেকে ডিজেল আনা সহজ করতে দুই দেশের মধ্যে নির্মাণ করা হয় বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইন। ভারতীয় অর্থায়নে নির্মিত প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইন ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে চালু হয়। এই পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে ডিজেল সরাসরি দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপোয় পৌঁছায়। চুক্তি অনুযায়ী, বছরে ১ লাখ ২০ হাজার টন ডিজেল সরবরাহের কথা রয়েছে। এর বাইরে অতিরিক্ত ৬০ হাজার টন সরবরাহের সুযোগ থাকলেও তা বাধ্যতামূলক নয়।

তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর ভারত থেকে নিয়মিত বিরতিতে তেল আসছে। প্রতিবার পাঁচ হাজার টন করে ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে। কেননা, পাইপলাইন থেকে খালাসের জন্য দেশের মজুতাগারের সক্ষমতা সীমিত। বিদ্যমান মজুত শেষ না হলে নতুন করে বেশি পরিমাণ তেল আনা যায় না। তবে এখন ট্যাংক থেকে তেল দ্রুত খালাস হওয়ায় ৭ হাজার টন আনা যাচ্ছে। ভারত থেকে পাইপলাইনে প্রতি ব্যারেল (১৫৯ লিটার) ডিজেল পরিবহনে খরচ পড়ে প্রায় সাড়ে ৫ ডলার, যা সমুদ্রপথের তুলনায় অনেক ক্ষেত্রে কম।

জ্বালানি বিশ্লেষকেরা বলছেন, বৈশ্বিক অস্থিরতার সময় বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। তবে দীর্ঘ মেয়াদে সংরক্ষণ সক্ষমতা না বাড়ালে এই সুবিধা পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হবে না। এজন্য চীনের আগ্রহকে সরকারের গুরুত্ব দেওয়া উচিত ছিল। চীন যেহেতু আগ্রহ দেখিয়েছে সেটাকে পজিটিভলি নিয়ে যত দ্রুত সম্ভব চীনের কাজে লাগানোর এটাই মোক্ষম সময়। অথচ সরকার ভারতের উপরই নির্ভরশীলতা বাড়াতে চাইছে। প্রয়োজনে চীন বাংলাদেশের জ্বালানি সংরক্ষণ বা মজুদের বিকল্প ব্যবস্থা নিজেরাই নির্মাণ করে দেবে। তারা মনে করছেন, চীনকে স্থায়ীভাবে যুক্ত করতে না পারলে ভবিষ্যতে এ ধরনের বৈশ্বিক সমস্যা বাংলাদেশ সামলাতে পারবে না। এবারের লক্ষণই তা স্পষ্ট হয়েছে।

এদিকে মাঠপর্যায়ে ইতিমধ্যে কিছু এলাকায় ডিজেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে। কৃষি মৌসুম সামনে রেখে সরবরাহে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৬৩ শতাংশই ডিজেল। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ডিজেলের চাহিদা ছিল প্রায় ৪৩ লাখ ৫০ হাজার টন। এর বড় অংশ সরাসরি আমদানির মাধ্যমে মেটানো হয়। আর বছরে সাত থেকে সাড়ে সাত লাখ টন পাওয়া যায় অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করে।

দেশে ব্যবহৃত ডিজেলের পুরোটাই বাইরে থেকে আমদানি করতে হলেও পেট্রোল ও অকটেন দেশেই উৎপাদিত হয়। তেলের মজুত ও উৎপাদন সক্ষমতা মিলে পেট্রোল-অকটেনের সংকট হওয়ার কথা নয়। গ্যাসক্ষেত্র থেকে উত্তোলন করা কনডেনসেট পরিশোধন করে পেট্রোল উৎপাদন হলেও অকটেনে আমদানিনির্ভরতা আছে। দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত রিফাইনারি অবকাঠামোর দুর্বলতার কারণে অকটেনের চাহিদার পুরোটা দেশীয় উৎস থেকে পূরণ করা যাচ্ছে না। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পেট্রোল বিক্রি হয় ৪ লাখ ৬২ হাজার ৪৭৫ মেট্রিক টন। এর পুরোটাই স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত। এ ক্ষেত্রেও চীনের সহায়তা নিলে সহজেই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।

এ বিষয়ে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড (এসজিএফএল) এর লিকুইড পেট্রোলিয়াম মার্কেটিং বিভাগের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী জীবন শান্তি সরকার বলেন, হবিগঞ্জে অবস্থিত এসজিএফএল এর ফ্রাকশনেশন প্ল্যান্ট ও ক্যাটালাইটিক রিফর্মিং ইউনিট থেকে দিনে ৬০০ থেকে ৭০০ ব্যারেল অকটেন এবং ৩ হাজার ৪০০ থেকে ৩ হাজার ৪৫০ ব্যারেল পেট্রোল উৎপাদন হচ্ছে। এই সরবরাহকৃত জ্বালানি দেশের মোট পেট্রোলের চাহিদার ৩৩ থেকে ৩৫ শতাংশ ও অকটেনের চাহিদার ৭ থেকে ৮ শতাংশ। ফিনিশড প্রোডাক্ট হিসেবে বাংলাদেশে পেট্রোল আমদানির প্রয়োজন পড়ে না। আমাদের উৎপাদিত কনডেনসেট থেকে মোট পেট্রোলের চাহিদার প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ পূরণ হচ্ছে। আর বাকিটা ইস্টার্ন রিফাইনারি কর্তৃপক্ষ ক্রুড ওয়েল থেকে এবং বেসরকারি যারা আছে তারা আমদানিকৃত কনডেনসেট থেকে পেট্রোলের চাহিদা পূরণ করছে।

গত ৪ এপ্রিলের তথ্য অনুযায়ী, ব্যবহারযোগ্য অপরিশোধিত তেলের মজুদ ২,০০০ টনের নিচে নেমে এসেছে। এর বাইরে, প্রায় ১০,০০০ টন ডেডস্টক এবং ৫,০০০ টন পাইপলাইন তেল উদ্ধার করা হচ্ছে। পাইপলাইন থেকে তেল উত্তোলনের জন্য ট্যাংকারে বিশেষ পাম্পিংয়ের প্রয়োজন হয়। সব মিলিয়ে, এই মজুদ আগামীকাল পর্যন্ত সম্ভব। সূত্র জানায়, কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়া ঠেকাতে সরকার চালান নিশ্চিত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। বিপিসি চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানান, ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল আমদানির জন্য ১ এপ্রিল একটি কোম্পানিকে নোটিফিকেশন অফ অ্যাওয়ার্ড (এনওএ) দেওয়া হয়েছে।

চেয়ারম্যান আরও বলেন, আমরা আশা করছি আগামী সোমবারের মধ্যে লেটার অফ ক্রেডিট (এলসি) খোলা হবে। যদি তেল ট্যাংকারটি ১৫ এপ্রিলের মধ্যে দেশে পৌঁছায়, তাহলে আমরা ততদিন পর্যন্ত ডেডস্টক ব্যবহার করে ঘাটতি পূরণ করতে সক্ষম হতে পারি। এছাড়াও, ‘সরকারি ক্রয়’ বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি গত ৩১ মার্চ মালয়েশিয়াভিত্তিক ‘আবির ট্রেড অ্যান্ড গ্লোবাল মার্কেটস’ থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল সংগ্রহের একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এর পাশাপাশি, সৌদি আরব থেকে আরও ১ লাখ টন তেল আগামী ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।

শোধনাগারের নাজুক পরিস্থিতি সত্ত্বেও কর্মকর্তারা বলছেন, দেশব্যাপী জ্বালানি সংকটের কোনো আশু আশঙ্কা নেই। চীনের যে প্রস্তাব দিয়েছে তাতে কেন সরকারের আগ্রহ নেই এমন প্রশ্নের জবাবে বিপিসির এক কর্মকর্তা বলেন, এটা করতে সময় লাগবে। বর্তমান সংকট সামাল দিতেই সরকার হিমশিম খাচ্ছে। অন্তত এই সংকটাপন্ন মুহূর্তে চীন সরকারের ৬০ হাজার মেট্রিক টন তেল নিলে দেশে আর কোনো সমস্যাই হতো না।

তবে জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানান, চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে ইন্দোনেশিয়া থেকে আরও ৬০ হাজার টন পরিশোধিত তেল আসার কথা রয়েছে। ভারত থেকে পাইপলাইন ও জাহাজের মাধ্যমে ডিজেল সরবরাহ। চীন ও সিঙ্গাপুর থেকে নির্ধারিত আগমনের পাশাপাশি সরকার এগুলো জাতীয় জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। সূত্র: ইনকিলাব

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়