চার ম্যাচের সবকটি জিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব শেষ করল ছন্দে থাকা ভারত। নেদারল্যান্ডসের দুর্দান্ত লড়াই ছাপিয়ে ১৭ রানে জিতল প্রতিযোগিতার বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। বুধবার তাদের করা ৬ উইকেটে ১৯৩ রানের জবাবে ডাচরা থামে ৭ উইকেটে ১৭৬ রানে।
আগামী রোববার একই ভেন্যুতে এবারের আসরের সহ-আয়োজক ভারতের জন্য কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। সেদিন তারা দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে। সুপার এইটের এক নম্বর গ্রুপে তাদের বাকি দুই প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ে।
চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে ভারত শীর্ষে থেকে গ্রুপ পর্ব শেষ করলেও তাদের ব্যাটিংয়ের দুর্বলতাগুলো দ্রুত মেটানো প্রয়োজন। বিশেষ করে, ওপেনার অভিষেক শর্মার ফর্ম চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি এই টুর্নামেন্টে টানা তৃতীয়বারের মতো শূন্য রানে আউট হয়েছেন।
বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ভারত টসে জিতে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর ইনিংসের তৃতীয় বলেই অফ স্পিনার আরিয়ান দত্তের বলে বোল্ড হন অভিষেক। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ভারত যখন কিছুটা বেকায়দায়, তখন শিবম দুবে খেলেন বিস্ফোরক ইনিংস। তিনি ৩১ বলে ৬৬ রান করেন চারটি চার ও ছয়টি ছক্কায়। হার্দিক পান্ডিয়ার (২১ বলে ৩০) সঙ্গে তার গুরুত্বপূর্ণ জুটিতে আসে ৩৫ বলে ৭৬ রান।
ভারতের বেশ কয়েকজন ব্যাটার শুরুটা ভালো করলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ইশান কিষাণ ১৮, তিলক বর্মা ৩১ ও অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব ৩৪ রান করেন। তবে ম্যাচসেরা দুবে ঠাণ্ডা মাথায় তাণ্ডব চালিয়ে যান। কলিন অ্যাকারম্যানের ওভারে দুটি ছক্কা ও একটি চারসহ মাত্র ২৫ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি।
এক লাখ ১০ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার এই স্টেডিয়ামে ৬৮ হাজারেরও বেশি ভক্তের উপস্থিতিতে দুবে ও হার্দিক ভারতের বড় সংগ্রহ নিশ্চিত করেন। যদিও ইনিংসের শেষ ওভারে তারা দুজনেই আউট হয়ে যান।
দুবের ইনিংসের ইতি ঘটে বাউন্ডারি লাইনে বদলি ফিল্ডার টিম ফন ডার গুগটেনের হাতে ক্যাচ দিয়ে। আর শেষ বলে ডিপে রোলফ ফন ডার মারওয়ার তালুবন্দি হয়ে ফেরেন হার্দিক। দুজনকেই বিদায় করা পেসার লোগান ফন বিক সব মিলিয়ে ৩ উইকেট পেলেও খরুচে বোলিংয়ে দেন ৫৬ রান। তবে আরিয়ান ৪ ওভারে মাত্র ১৯ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়ে নজর কাড়েন।
রান তাড়া করতে নেমে ডাচ ওপেনাররা সতর্কভাবে শুরু করেন। তবে ভারতের রহস্য স্পিনার বরুণ চক্রবর্তীর বলে ২০ রানে বোল্ড হন ম্যাক্স ও'ডাউড। আরেক ওপেনার মাইকেল লেভিটকে (২৪) সাজঘরে পাঠান হার্দিক। বাস ডি লিডি ও অ্যাকারম্যান ২৬ বলে মারমুখী ৪৩ রানের জুটি গড়ে লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টা করলেও বরুণের ঘূর্ণি সেই জুটি ভেঙে দেয়। অ্যাকারম্যানকে (১৫ বলে ২৩) ক্যাচ বানানোর পরের বলেই আরিয়ানকে বোল্ড করেন তিনি।
অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডস বরুণকে হ্যাটট্রিক করতে দেননি। কিন্তু দ্রুত রান তোলার চাপে নেদারল্যান্ডস ঝুঁকি নিতে গিয়ে উইকেট হারাতে থাকে। ডি লিডি (২৩ বলে ৩৩) আউট হন দুবের বলে। জাসপ্রিত বুমরাহর বলে বিদায় নেন এডওয়ার্ডস।
শেষদিকে জ্যাক লায়ন-ক্যাশে (১৬ বলে ২৬) ও নোয়া ক্রস (১২ বলে অপরাজিত ২৫) নিয়মিত বাউন্ডারি মেরে অবিশ্বাস্য কিছু করার মরিয়া চেষ্টা চালান। তবে সামনে থাকা চাহিদা ছিল ভীষণ কঠিন। তাই শেষ ২৪ বলে ৫১ রান আনলেও লক্ষ্য থেকে বেশ দূরে থামে ডাচরা। বরুণ ৩ ওভারে ৩ উইকেট শিকার করেন ১৪ রানে।