শেষ ৩ ওভারে দুর্বারের দরকার ৩১ রান, হাতে ৭ উইকেট, ক্রিজে দুই থিতু ব্যাটার নুরুল হাসান সোহান ও আফিফ হোসেন। এমন পরিস্থিতিতে দুর্বারই ছিল ফেভারিট।
কিন্তু শেষ ৩ ওভারের দুটিই যে বাকি ছিল মুস্তাফিজুর রহমানের! ‘কাস্টার মাস্টার’ ফিজ মুহূর্তেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিলেন। ১৮তম ওভারে বোলিংয়ে ফিরেই আউট করলেন সোহানকে।
ভাঙলেন তার সঙ্গে আফিফের ৯৪ রানের জুটি। ওই ওভারে মুস্তাফিজ দিলেন মাত্র ৪ রান।
১৯তম ওভারে রিশাদ হোসেন ১১ রান দিলেও নেন সাব্বির রহমানের উইকেট। শেষ ওভারে জয়ের জন্য দুর্বারের প্রয়োজন ছিল ১৬ রান।
তবে মুস্তাফিজের আরেকটি বুদ্ধিদীপ্ত ওভারে আফিফ ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন মিলে নিতে পারেন মাত্র ৮। ব্যস! দুর্বারকে ৭ রানে হারিয়ে অদম্য বাংলাদেশ টি ২০ কাপে চ্যাম্পিয়ন হলো ধূমকেতু।
মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে আজ ফাইনালে টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ৩ উইকেটে ২০৮ রান করেছিল লিটন দাসের ধূমকেতু। বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসান।
তাদের উদ্বোধনী জুটি থেকে আসে ১৪৯ রান।
জবাবে হাবিবুর রহমানের বিস্ফোরক শুরুর পর আফিফ ও সোহানের দারুণ ইনিংসও জেতাতে পারেনি দুর্বারকে। মুস্তাফিজের শেষের ঝলকে দলটি ৫ উইকেটে ২০১ রানে থামে।
এই মুস্তাফিজকেই আইপিএল থেকে কলকাতা নাইট রাইডার্স বাদ দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারত থেকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তর করতে আইসিসির কাছে অনেক অনুরোধ জানিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। শেষ পর্যন্ত যার যার সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় বিশ্বকাপে খেলা হচ্ছে না বাংলাদেশের।
তাই ধূমকেতু, দুর্বার, দুরন্ত—এই তিন দল নিয়ে মিরপুরে অদম্য বাংলাদেশ টি ২০ কাপ আয়োজন করে বিসিবি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা দল নিয়েই গড়া হয় ধূমকেতু। লিটনের নেতৃত্বাধীন এই দলইি আজ চ্যাম্পিয়ন হলো।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ধূমকেতু : ২০ ওভারে ২০৮/৩ (তানজিদ ৮৮*, সাইফ ৭৯, লিটন ১৫, হৃদয় ১৩*; হাসান ১/৩১, আলিস ১/৩৩, সাইফউদ্দিন ১/৪০)।
দুর্বার: ২০ ওভারে ২০১/৫ (হাবিবুর ৬৭, আফিফ ৬০*, সোহান ৫৪; মুস্তাফিজ ২/৩৩, নাসুম ১/৩৪, শরীফুল ১/৩৭, রিশাদ ১/৩৯)।
ফল : ধূমকেতু ৭ রানে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ফাইনাল : তানজিদ হাসান তামিম (ধূমকেতু)।